Voice of Eastern India

Madan Mitra on Abhishek Banerjee: ‘সেটিং’-এর অভিযোগ সত্যি? অভিষেকের সঙ্গে কথা নিয়ে বিস্ফোরক মদন মিত্র, অস্বীকার করলেন না কুণাল ঘোষও!


কলকাতা: অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে বৈঠক, আর সেই বৈঠকে কী কথা হয়েছিল তা নিয়ে ফের সরব মদন মিত্র। বললেন ১০০ ভাগের ১০ ভাগ বলেছি, ৯০ ভাগ বলিনি। মদন মিত্রর দাবিকে সত্য-মিথ্যা কিছু না বলেও, দলের বৈঠকের কথা বাইরে বলা দুর্ভাগ্যজনক বললেন কুণাল ঘোষ।

আরও পড়ুন: গ্রেফতার হয়েছেন ৩৫ দিন আগেই, এবার দেবরাজ চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে জমা পড়ল চার্জশিট, সেখানে রয়েছে ব্যাপক তোলাবাজির বিস্তারিত অভিযোগ

কামারহাটির বিধায়ক মদন মিত্র সাংবাদিক বৈঠকে বলেন, “কুণাল ঘোষ এই কারণেই অস্বীকার করছেন না, কারণ উনি জানেন যে আমরা দশ ভাগের এক ভাগ বলেছি, ১০০ ভাগের ১০ ভাগ বলেছি, ৯০ ভাগ বলিনি।” বিদেশে যেতে মরিয়া অভিষেক বন্দ্য়োপাধ্য়ায় কি বিজেপির সঙ্গে সেটিং করতে চেয়েছিলেন? মদন মিত্র ও কুণাল ঘোষকে মধ্য়স্থতা করতে বলেছিলেন? এই নিয়েই এখন জোর জল্পনা।

এরই মধ্যে বোমা ফাটিয়েছেন মদন মিত্র। চাঞ্চল্য়কর দাবি করেছেন তিনি। অন্যদিকে, মদন মিত্র মিথ্য়া কথা বলছেন, এমন কথা বলেননি কুণাল ঘোষও। ফলে জল্পনা-গুঞ্জন আরও জোরালো হয়েছে!

আরও পড়ুন: দিল্লিতে NCPI সাংসদদের সঙ্গে ব্রেকফাস্ট বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী মোদি, থাকবেন শিবসেনার ৬ সাংসদও

কী কথা হয়েছিল? মদন মিত্র বলেন, “আমাদের যে চিন্তাধারাটা ছিল যে আমরা সরাসরি অভিষেকের সঙ্গে কথা বলব। অভিষেক চুপ করে শুনছে। ওকে আমরা পুরো বুঝিয়ে বললাম যে তুই ছাড়লে, তোর উপর থেকে রাগটা বেরিয়ে যাবে। সবটা শুনে অভিষেক বলল একটা কাজ করো, তুমি ওদের বলো, আমার বিদেশ যাত্রার পারমিশনটা দিয়ে দিতে। কথা হচ্ছে রাজনীতি থেকে নিজেকে একটু সরিয়ে রাখার, কিছু দিনের জন্য। তখন হঠাৎ বলল, তাহলে তুমি বলো যে ওদের এদিকে বলতে, বিরোধিতা না করতে আমার পিটিশনটা। আমেরিকা আমার যাওয়ার আছে।”

আর মদন মিত্রর এই দাবি রাজনীতিতে ঝড় তুলেছে। এই আবহেই ফের মুখ খুললেন তিনি! কার্যত হুঁশিয়ারি দিলেন। এবার মদন বললেন, “আমি সেই কথাটাই মেনে বলেছি যে, সবটা কিছুই বলিনি, আরও অনেক কথাই আছে। কিন্তু সব কথা বলার দিন আসলে বলব। একদিনে তো সবটা বলা যায় না। কিন্তু এইটুকু ঠিক, যে হেরে যাওয়ার পরে এখনও পর্যন্ত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তিনি রাজ্যের ৩ বারের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন, সেখানে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় যাঁকে কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক করার প্রস্তাব দিচ্ছেন, তিনি তাঁর বাড়িতে বিকেলবেলা বাড়ি থেকে বেরিয়ে উল্টোদিকে দিদির বাড়িতে আসা ছাড়া, আর তারপর বাড়ি চলে যাওয়া ছাড়া, আর কোনও উল্লেখযোগ্য কর্মসূচি বাংলার বুকে নিতে পারেননি। সেটা খুবই দুর্ভাগ্যজনক।”

মদন মিত্র দাবি করছেন, সেই বৈঠকে তিনি ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন অভিষেক বন্দ্য়োপাধ্য়ায় ও কুণাল ঘোষ। তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, কুণাল ঘোষ বুধবারের পর বৃহস্পতিবার, এখনও একবারও বলেননি, যে মদন মিত্র যা বলছেন, তা মিথ্য়া! বেলেঘাটার বিধায়ক ও ‘কালীঘাট-তৃণমূল’ -এর মুখপাত্র কুণাল ঘোষ বলেন, “যদি আমি, মদনদা বা অভিষেক, আমরা কোনও বিষয়, দলের স্বার্থে কোনও আলোচনা করেও থাকি, তার কোনও অংশ বিশেষ বাইরে বলে দেওয়া, বা কোনও জায়গায় যেটা হয়নি, সেরকম একটা ন্যারেটিভ যদি তৈরি হয়ে যায়, সেটা দুর্ভাগ্যজনক। সেটা আমি মদনদাকে আজ নিজেও বলেছি।”

কার্যত একই কথা কুণাল ঘোষ আগের দিন, অর্থাৎ বুধবারও বলেছিলেন। তিনি বলেছিলেন “দেখুন এটা পুরোটাই সম্পূর্ণভাবে যে ব্যক্তি  আদালতে গেছেন, আদালতের কাছে যে কোনও অনুমতি চাওয়ার বা কোনও আবেদনের স্বাধীনতা এবং অধিকার যে কোনও ব্যক্তির যে কোনও নাগরিকের আছে। তিনি দিয়েছেন। এবার আদালত বিচার করে তাতে কীভাবে সাড়া দেবেন, কোনওটি মঞ্জুর হয়, কোনওটি হয়তো মঞ্জুর হয় না, সেটা সম্পূর্ণ আইন এবং আদালতের বিষয়। এ বিষয়ে কেন মন্তব্য করব।”

বৃহস্পতিবার বিধানসভা চত্বরে মদন মিত্র ও কুণাল ঘোষকে দু জনকে কথা বলতেও দেখা যায়। মদন মিত্র বলেন , “কুণাল এটুকু স্বীকার করেছেন, এর জন্য আমি খুশি যে, অভিষেককে আমরা দুজনে মিলে খুব ঠান্ডা মাথায় বোঝাবার, মূল টার্গেট যেটা, যে তুমি স্টেপ ডাউন কর। তুমি স্টেপ ডাউন করলে পার্টি এই মুহূর্তে অনেকটা… আমার তো কোনও ঝগড়া নেই। অভিষেক স্টেপ ডাউন করলে আমার তো কোনও বাড়তি পাওনা নেই। সেই জায়গাটা কিন্তু এই যে, আমি বলছি কুণাল যেটা বলেছে, তাতে আমি একমত। যে পার্টির সব কথা বাইরে বলা উচিত নয়। সাগর কখনও শুকোয় না, আর সত্য কখনও লুকোয় না। পৌঁছে গেছে।”

মদন মিত্রর বিস্ফোরক দাবি, কালীঘাট বিরোধী তৃণমূলের হাতে নতুন অস্ত্র তুলে দিয়েছে। এখন দেখার, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বৈঠকের আর কী কথা হয়েছিল, তা কি সত্যিই কোনওদিন ফাঁস করবেন মদন মিত্র?
নাকি এই হুঁশিয়ারি কারও কাছে সতর্কবার্তা?

Source link



Source link

Leave A Reply

Your email address will not be published.