Voice of Eastern India

পঞ্চায়েত ভোটের টাকা তুলতে ৭০০ অকৃতকার্যকে চাকরি ? দাবি প্রাথমিক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় অভিযুক্তর


কলকাতা : ২০১৮ সালে পঞ্চায়েত নির্বাচনের জন্য টাকা তুলতে ৭০০ জন অকৃতকার্যকে চাকরি পাইয়ে দেওয়া হয়েছিল? এবার এমনই চাঞ্চল্যকর দাবি করলেন প্রাথমিক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় অভিযুক্ত সন্তু গঙ্গোপাধ্যায়। কীভাবে চলেছিল দুর্নীতির চক্র? তা নিয়েও মারাত্মক দাবি করেছেন তিনি। ২০১৮ সালে পঞ্চায়েত নির্বাচনের জন্য টাকা তুলতে ৭০০ জন অকৃতকার্যকে চাকরি পাইয়ে দেওয়া হয়েছিল? এবার এমনই চাঞ্চল্যকর দাবি করলেন প্রাথমিকে নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় রাজসাক্ষী হতে চাওয়া জামিনে মুক্ত সন্তু গঙ্গোপাধ্যায়। 

সন্তু গঙ্গোপাধ্যায়ের কথায়, ‘২০১৮ আসছে। পঞ্চায়েত নির্বাচন হবে এবং পঞ্চায়েত নির্বাচনের জন্য পার্টি ফান্ডে টাকার দরকার আছে। মাথাপিছু একেক সময় ৮ লক্ষ, ১০ লক্ষ, ১২লক্ষ করে ধার্য করা হয়েছিল। কিন্তু যেহেতু পঞ্চায়েত নির্বাচনের কথাটা বলা হয়েছিল, তো এটাই নির্দেশ এসেছিল, কুন্তল বলেছিল কাকুর থেকে। কাকু বলেছিল সাহেবের থেকে। এখন ৩ লক্ষ টাকা আর নিয়োগের সময় ৩ লক্ষ টাকা দিতে হবে। সর্বসাকুল্য়ে প্রায় ৭০০ লোকের চাকরি হয়েছিল। টাকাগুলো পৌঁছত কাকুর বাড়িতে এবং লিপস অ্যান্ড বাউন্ডসের অফিসেও ডেলিভারি করা হয়েছে।’ 

কীভাবে চলেছিল দুর্নীতির চক্র? মারাত্মক দাবি করেছেন প্রাথমিক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় অভিযুক্ত। সন্তুর কথায়, ‘তাদের মোবাইলে যে SMS-টা এসেছিল, অকৃতকার্য যারা। সেই মেসেজটা নিয়ে তারা বিকাশ ভবনে যায়। রিসিভ কপিও দিয়ে দেওয়া হয়। মানে বিকাশ ভবনের অফিসিয়াল স্ট্যাম্প দিয়ে দেওয়া হয়। কুন্তলের যারা অফিসিয়াল স্টাফ তারা সিটি সেন্টারে দাঁড়িয়ে ছিল। তারা কুন্তলের অফিস স্টাফদের মাথাপিছু ৩ লক্ষ টাকা করে দেয়।সেটা রাত ১২টা -১টার সময় কুন্তল বা তার সহযোগীরা কাকুর বাড়িতে জমা করে দিয়ে আসত।’ 

২০২৪ সালের ২৫ শে নভেম্বর প্রাথমিকে দুর্নীতি মামলায় সাব এজেন্ট সন্তু গঙ্গোপাধ্যায়কে গ্রেফতার করে সিবিআই। গত বছর ১২ নভেম্বর ৫ লক্ষ টাকার বন্ডে তাঁর জামিন মঞ্জুর করে হাইকোর্ট। পশ্চিমবঙ্গে পালাবদলের পর প্রাথমিকে নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় রাজসাক্ষী হতে চেয়ে CBI-এর কাছে আবেজন জানিয়েছেন সন্তু গঙ্গোপাধ্যায়। সিবিআইয়ের কাছে আবেদনে তিনি জানিয়েছেন, তিনি এজেন্টদের মাধ্যমে প্রাথমিকে চাকরিপ্রার্থীদের থেকে ঘুষ হিসেবে অর্থ সংগ্রহ করেছিলেন এবং অভিযুক্ত কুন্তল ঘোষের হাতে তুলে দিয়েছিলেন। 

তাঁর আরও বক্তব্য, ‘লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস’-এর অফিসে দুটি কালো ব্যাগে ভরে ৩ কোটি ৫০ লক্ষ টাকা হস্তান্তর করা হয়েছিল। তিনি এবং কুন্তল ঘোষ সেই টাকা নিয়ে ‘লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস’-এর অফিসে দিয়ে এসেছিলেন। কিছুক্ষণ পরেই তিনি দেখতে পান, ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্য়ায় সেখানে এসেছেন। এবার সন্তু গঙ্গোপাধ্যায়ের কথায় উঠে এসেছে ‘কাকু’, ‘বসের’ কথা। কিন্তু এতদিন মুখ খোলেননি কেন? কেন সহযোগিতা করেননি তদন্তকারী সংস্থাকে? সন্তুর কথায়, ‘জানাতে পারিনি। কারণ তখন আমাকে তৎকালীন রাজ্য সরকারের যারা পুলিশ ছিল, আমাকে একাধিকবার হুমকি দিয়েছে যে কোনওরকমভাবে যেন সাংসদের নামটা না আসে। আমাকে কালীঘাট থানায় তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। আমাকে ARS থেকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। সকাল ১০টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত লালবাজারে বসিয়ে রাখা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছিল, তদন্তে কোনওরকমভাবে যেন সাংসদের নামটা উল্লেখ করবে না। ‘ 

Source link



Source link

Leave A Reply

Your email address will not be published.