Anti Social Activities Bill: আজ আনা হচ্ছে ‘গুন্ডাদমন বিল’, কোন কোন কাজকে বলা হচ্ছে ‘সমাজবিরোধী’? ধরা পড়লে শাস্তিই বা কী?
উজ্জ্বল মুখোপাধ্যায়, রুমা পাল ও আবির দত্ত, কলকাতা: সমাজবিরোধী কার্যকলাপের বিরুদ্ধে কড়া আইন আনার পথে এগোল শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) সরকার। আজ বিধানসভায় আনা হচ্ছে গুন্ডাদমন বিল। যার লক্ষ্য – নিরাপত্তা বৃদ্ধি, শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখা। গুজরাত, উত্তরপ্রদেশের পর, এবার পশ্চিমবঙ্গ। সমাজবিরোধী কার্যকলাপের বিরুদ্ধে কড়া আইন আনার পথে এগোল এই রাজ্য়ের বিজেপি সরকার। বিধানসভায় আনা হচ্ছে ‘The West Bengal Public Safety and Control of Anti-Social Activities Bill, 2026’। লক্ষ্য – নিরাপত্তা বৃদ্ধি, শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং সমাজবিরোধী কার্যকলাপ কার্যকরভাবে প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ।
আজ বিধানসভায় আনা হচ্ছে, গুন্ডাদমন বিল
ক্ষমতায় এসেই শুভেন্দু অধিকারী ইঙ্গিত দিয়েছেন, সমাজবিরোধী কার্যকলাপ রোধ করতে কঠোর আইন আনা হবে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেছেন, ‘গুন্ডা দমন তো হবে, গুন্ডাদের সম্পত্তিও বাজেয়াপ্ত করব। কোনও রাষ্ট্রবিরোধী কাজ ঋষি অরবিন্দর ভূমিতে হবে না। ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ভূমিতে হবে না। নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর কর্মভূমিতে হবে না। কোনও রাষ্ট্রবিরোধী কাজ হবে না।’ বিলের গেজেট নোটিফিকেশন হয়েছে বুধবার। বিলে স্পষ্ট বলা হয়েছে, ‘সমাজবিরোধী কার্যকলাপ’ বলতে এমন কার্যকলাপ বোঝাবে যা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে… সাধারণ মানুষ বা তাদের একাংশের মধ্যে আতঙ্ক, বিপদ, ভয় বা নিরাপত্তাহীনতা সৃষ্টি করে বা করার সম্ভাবনা তৈরি করে। মানুষের জীবন, ব্যক্তি বা সম্পত্তির জন্য গুরুতর বিপদ সৃষ্টি করে। শৃঙ্খলা বা শান্তি বিঘ্নিত করে। কোনও অধিকার বা বৈধ ব্যবসা, বাণিজ্য, পেশা বা জীবিকায় বাধা সৃষ্টি করে। কাউকে স্থাবর বা অস্থাবর সম্পত্তি থেকে বেআইনিভাবে উচ্ছেদ করে। সরকারি বা ব্যক্তিগত সম্পত্তির উল্লেখযোগ্য ক্ষতি অথবা খনি, পাথর খাদান, বালি তোলা, বনজ সম্পদ বা বন্যপ্রাণী সংক্রান্ত যে কোনও অবৈধ কার্যকলাপ, যা সরকারি কোষাগারের বড় ক্ষতি করে।
‘গুন্ডা’ বলতে কাদের বোঝানো হবে?
‘গুন্ডা’ বলতে কাদেরকে বোঝানো হবে, তাও স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে বিলে। যিনি—নিজে অথবা কোনও দল, গ্যাং বা সিন্ডিকেটের সদস্য বা নেতা হিসেবে নিয়মিতভাবে সমাজবিরোধী কার্যকলাপ করেন, করার চেষ্টা করেন, উসকানি দেন, প্রচার করেন, অর্থ জোগান দেন বা সহায়তা করেন। ভারতীয় ন্যায় সংহিতা, ২০২৩-এর ধারা ১১১ বা ১১২-এর অধীনে শাস্তিযোগ্য অপরাধে চার্জশিট পাওয়া কোনও ব্যক্তি। অস্ত্র আইন ১৯৫৯, মাদক আইন ১৯৮৫, অনৈতিক পাচার (প্রতিরোধ) আইন ১৯৫৬ বা ১৯০৮ সালের বিস্ফোরক আইনে শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেন, করার চেষ্টা করেন, সাহায্য করেন, প্রচার করেন বা অর্থ জোগান দেন এমন ব্যক্তি। সমাজের কাছে বিপজ্জনক ও দুর্ধর্ষ ব্যক্তিকেও গুন্ডা হিসেবে বিলে উল্লেখ করা হয়েছে।
কীভাবে কাজ করবে এই বিল? কিভাবেই বা আটক করা হবে?
কিন্তু কীভাবে কাউকে আটক করা হবে? কার রিপোর্টের ভিত্তিতেই বা তা করা হবে? বলা হয়েছে, কোনও সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে আটক করতে হলে পুলিশ সুপার বা তাঁর ওপরের পদমর্যাদার আধিকারিকের রিপোর্ট লাগবে। সেই রিপোর্টের ভিত্তিতে রাজ্য সরকার আটকের নির্দেশ দিতে পারবে। গত ৭ বছরের মধ্যে কোনও ব্যক্তি যদি কোনও অপরাধে অন্তত একবার আদালতে দোষী সাব্যস্ত হয়ে থাকেন; অথবা একই ঘটনার অংশ নয় এমন কমপক্ষে ৩ টি পৃথক মামলায় চার্জশিটভুক্ত হয়ে থাকেন, তাঁকেও আটক করা যাবে। CP বা DM আটকের নির্দেশ দিলে, অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে থাকা তথ্যপ্রমাণ দিয়ে অবিলম্বে রাজ্যের DGP-কে জানাতে হবে।
গ্রেফতারি ও শাস্তির ক্ষেত্রে থাকছে কী কী নিয়ম?
উপদেষ্টা বোর্ড নথিপত্র পর্যালোচনা করবে এবং প্রয়োজনে অতিরিক্ত তথ্য চাইতে পারবে। আটক ব্যক্তি চাইলে বা বোর্ড প্রয়োজন মনে করলে তাঁর বক্তব্যও শোনা হবে। এই আইনের অধীনে অপরাধগুলোকে সরাসরি গ্রেফতারযোগ্য ও জামিন-অযোগ্য হিসেবে ধরা হবে। কেউ আদেশ লঙ্ঘন করেন, ৩ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড এবং জরিমানা হতে পারে। আটক বা এলাকা ত্যাগের নির্দেশপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে কেউ যদি আশ্রয় দেয় বা লুকিয়ে রাখে, তার ২ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড এবং জরিমানা হতে পারে। সোমবার এই বিলের সঙ্গেই পেশ হতে চলেছে ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল মেনটেন্যান্স অফ পাবলিক অর্ডার ১৯৭২’ আইনের সংশোধনী বিলও।
আরও পড়ুন: Rahul-Ushashi: সিরিজে প্রথম রাহুল-উষসীর জুটি! দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বের পরে, একসঙ্গে প্রথম কাজ
Bankura News: রাস্তা দখল করে ক্লাব, এবার তা ভাঙতে প্রশাসনকে নির্দেশ বাঁকুড়ার বিধায়কের
