Voice of Eastern India

Baruipur Incident: ‘তিন দিন পর কেন এলেন’? বারুইপুরে সায়নীকে ঘিরে বিক্ষোভ, বন্ধ করে দেওয়া হল দরজা, সাংসদ বললেন…


বারুইপুর: নাবালিকাকে চারজন মিলে গণধর্ষণ। সেই নিয়ে উত্তাল বারুইপুর। শেষ পর্যন্ত নিহত নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে দেখা করলেন তৃণমূল থেকে NCPI-তে যাওয়া, লোকসভার সাংসদ সায়নী ঘোষ। কিন্তু সেখানে বিক্ষোভের মুখে পড়তে হল তাঁকে। প্রশ্ন শুনতে হল, ‘তিন দিন পর আসার সময় হল?’ এমনকি তাঁকে দেখে দরজাও বন্ধ করে দেওয়া হয়। তবে শেষ পর্যন্ত নিহত মেয়েটির পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন সায়নী। দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি তুলেছেন। (Saayoni Ghosh in Baruipur)

মঙ্গলবার বারুইপুরে নিহত নাবালিকার বাড়িতে পৌঁছন রাজ্যের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল, বিজেপি নেত্রী লকেট চট্টোপাধ্যায়। পৌঁছন বিধানসভার বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়, ঋতব্রত-তৃণমূলের শিউলি সাহা, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, তৃণমূল থেকে NCPI-তে যাওয়া কাকলি ঘোষ দস্তিদার এবং সায়নী। কিন্তু সেখানে নিহত নির্যাতিতার পরিবার এবং প্রতিবেশীদের প্রশ্নের মুখে পড়তে হয় তাঁকে। তাঁকে ঘিরে বিক্ষোভ দেখান কিছু মানুষ। এলাকার সাংসদ কেন এত দেরিতে আসবেন, ওঠে প্রশ্ন। (Baruipur Incident)

এক ব্যক্তি বলেন, “আসতে দেরি করেছেন। একটু আগে এলেই আমাদের সুবিধা হতো। সুবিধা হতো জনতার। আমরা চেয়েছিলাম, উনি আগে আসুন। অনেক লেট করে ফেলেছেন।” দ্বিতীয় একজন বলেন, “এতদিন আসেননি উনি। তাই ওঁকে ঢুকতে দেওয়া হয়নি।” আর একজন বলেন, “তিন দিন হয়ে গেল। সায়নী ঘোষ ছিলেন কোথায়? সেটাই তো রাগ আমাদের! রাগ থাকবে না! কেন থাকবে না!” দরজাও আটকে দেওয়ার চেষ্টা হয়। সায়নী জানান, সংসদের কিছু কাজ পড়ে গিয়েছিল তাঁর। তবে কাকলি, চন্দ্রিমা, ঋতব্রত এবং সায়নী শেষ পর্যন্ত নিহত নির্যাতিতার বাড়িতে প্রবেশ করেন।

আরও পড়ুন: আরও একটি নতুন রাজনৈতিক দল, এবার কংগ্রেস ভেঙে? ১০০ কোটির অপারেশন, বলছে হাতশিবির, তৃণমূল-AAP থেকেও গেলেন অনেকে

তাঁর উপর এলাকার মানুষের যে রাগ, তা নিয়ে প্রশ্ন করলে সায়নী বলেন, “আমার প্রতি যদি কোনও অভিমান থাকে, ১০০ বার বলতে পারেন। এক মিনিটের জন্য যেমন আটকাবেন, তেমন ভাবে আধ ঘণ্টার জন্য ভিতরে ঢুকিয়ে কথাও বলবে। এটা আমাদের বিষয়। দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি। দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি কার? যারা এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত তাদের, এবং তার চেয়ে যদি বৃহত্তর কোনও নেক্সাস থাকে, সামনে চারজন আছে বলে, চারজনই নয় কিন্তু। এর পিছনে বড় ব়্যাকেট আছে।”

বারুইপুরের ঘটনায় এর আগে সোশ্য়াল মিডিয়ায় সায়নী জানিয়েছিলেন, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে কথা হয়েছে তাঁর। এদিন বারুইপুরে পৌঁছে আগের সরকারের আমলে পুলিশের কাজকর্মের সমালোচনা করেন তিনি। বলেন, “পুলিশ, আগের সরকারের ক্ষেত্রে যখন কাজ করেছে, সেই সময় রিলাকট্যান্স ছিল। এখানে যেটা দাবি, প্রথমত, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হবে। জড়িতরা অ্যারেস্ট হচ্ছে। যারা বাইরে আছে, তাদেরও ধরতে হবে। এটার মূল থেকে উৎখাত করতে হবে। দ্বিতীয় হচ্ছে, জনরোষ তৈরি হয়েছিল। জনরোষ এমন পর্যায়ে পৌঁছয় যেখানে স্বতঃস্ফূর্ত ভাবে এখানকার মানুষ এগিয়ে এসেছেন, প্রতিবাদ করেছেন। যে ছোট বোনের সঙ্গে এই ঘটনা ঘটেছে, সকলের কাছের ছিল। সকলের ব্য়ক্তিগত ক্ষতি। আবেগ জড়িয়ে সকলের।”

আরও পড়ুন: গ্রামীণ এলাকায় কলের জল, রাস্তায় আলোর জন্য বাড়তি কর, প্রস্তাব দিল কেন্দ্র, বিহারের পাশাপাশি অন্য রাজ্যেও কি চালু হবে?

বারুইপুরের ঘটনায় এদিন ভয়ঙ্কর তথ্য হাতে পেয়েছে পুলিশ। ধৃত তিনজনকে মুখোমুখি বসিয়ে জেরা করা হয়। তাতে জানা যায়, আনন্দ সরকার এবং দিবাকর সরকার আগে থেকে ঝুপড়িতে বসে নেশা করছিল। ১০০০০ টাকার বরাত দেওয়া হয় প্রভাসকে। বলা হয়, নাবালিকাকে কোনও ভাবে বুঝিয়ে আনতে হবে। ওই ঝুপড়িতেই নাবালিকার উপর অত্যাচার চলে। গণধর্ষণের পর সংজ্ঞা হারায় নাবালিকা। অভিযুক্তরা ভাবে মারা গিয়েছে মেয়েটি। তার পরও নৃশংস অত্যাচার চলে. তার পর বস্তায় পুরে পুকুরে দেহ ফেলে দেওয়া হয়। বস্তা ছিঁড়ে গিয়েছিল দেহ ফেলার সময়। সেভাবেই দেহ ফেলে পালিয়ে যায় সকলে। তিনজনকে মুখোমুখি বসিয়ে জেরা করে জানতে পারল পুলিশ। চলছে সরেজমিনে তদন্ত।

Source link



Source link

Leave A Reply

Your email address will not be published.