Voice of Eastern India

Kolkata News: নরেন্দ্রপুর থেকে বাবা ও নাবালক ছেলেকে অপহরণ, মুক্তিপণ চেয়ে ফোন বাড়িতে, শেষে বিজেপি-র কার্যালয় থেকে উদ্ধার, গ্রেফতার ৩


কলকাতা: নরেন্দ্রপুর থেকে নাবালক ছেলে ও তার বাবাকে অপহরণের অভিযোগ। পরিবারের দাবি, মুক্তিপণ চেয়ে ফোনও গিয়েছিল বাড়িতে। থানায় অভিযোগ জানানোর পর শুরু হয় খোঁজ। শেষ পর্যন্ত দেশপ্রিয় পার্কে বিজেপি-র দলীয় কার্যালয় থেকে তাঁদের উদ্ধার করা হয়। কী ভাবে ওই নাবালক ছেলে এবং তার বাবা সেখানে পৌঁছলেন, এখনও স্পষ্ট নয়। বিজেপি-র দাবি, ডুপ্লিকেট চাবি বানিয়ে দু’জনকে ভিতরে ঢুকিয়ে থাকতে পারে। এই ঘটনায় গ্রেফতার করা হয়েছে তিন জনকে। (Narendrapur Kidnapping Case)

নরেন্দ্রপুর এলাকা থেকে রবিবার ওই ১৭ বছর বয়সি নাবালক ছেলে এবং তার বাবাকে অপহরণ করা হয় বলে অভিযোগ। পরিবারের দাবি, অপহরণের পর মুক্তিপণ চেয়ে ফোনও আসে। পরিবারের লোকজন ছুটে যান থানায়। অভিযোগ দায়ের করেন তাঁরা। সেই মতো খোঁজ শুরু হয় ওই দু’জনের। শেষ পর্যন্ত দেশপ্রিয় পার্কের মনোহরপুকুর রোডে বিজেপি-র দলীয় কার্যালয় থেকে উদ্ধার করা হয় ওই দু’জনকে। সেখানে দু’জনকে আটকে রাখা হয়েছিল বলে জানা যাচ্ছে। (Kolkata News)

মনোহরপুকুর রোডে বিজেপি-র ওই দলীয় কার্যালটি একটি বহুতলের নীচে অবস্থিত। এদিন ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, শাটার নামানো রয়েছে। লোহার ফটকে বাঁধা রয়েছে একাধিক পদ্ম-পতাকা। ওই শাটার বাইরে থেকে বন্ধ করে, ভিতরে বাবা ও ছেলেকে আটকে রাখার অভিযোগ। ২৪ ঘণ্টা ধরে দু’জনকে আটকে রাখা হয়, এমনকি মারধরও করা হয় বলে জানা যাচ্ছে। কী ভাবে সেখানে রাখা হল তাঁদের, কে বা কারা এই ঘটনা ঘটাল, এখনও পর্যন্ত তা স্পষ্ট হয়নি।

আরও পড়ুন: ‘বারুইপুরকাণ্ডে রাজা নামে একজনকে আড়ালের চেষ্টা চলছে, সে নাকি বিজেপি কর্মী’, ভিডিও পোস্ট করে দাবি তৃণমূলের

ওই এলাকার বিজেপি কর্মীরা জানিয়েছেন, নির্বাচনের সময় ওই দলীয় কার্যালয়টি ব্যবহার করতেন তাঁরা। পতাকা, চেয়ার রাখা থাকত সেখানে। ওই কার্যালয়েই দু’জনকে আটকে রাখা হয় বলে অভিযোগ। পুলিশ জানিয়েছে, নাবালক ছেলেটির মায়ের কাছে ফোন যায় প্রথমে। ফোন করে ৫ লক্ষ টাকা মুক্তিপণ চাওয়া হয়। তবেই দু’জনকে ছাড়া হবে বলে জানানো হয় ফোনেই। ওই ফোন পেয়ে পুলিশের দ্বারস্থ হয় গোটা পরিবার।

তদন্তে নেমে পুলিশের তরফে টোপ দেওয়া হয়। পরিবারকে দিয়ে বলানো হয়, “টাকা নিয়ে আসছি।” সেই সূত্র ধরেই রবীন্দ্র সরোবর থানা এলাকায় হানা দেয় নরেন্দ্রপুর থানার পুলিশ। ওই কার্যালয়ের শাটার খুলে দেখা যায়, ভিতরে আটকে রাখা হয়েছে বাবা ও ছেলেকে। এই ঘটনায় তিন জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে বিজেপি-র দাবি, ভোটের সময় ওই কার্যালয় ব্যবহার করত তারা। ওই দু’জনকে কী ভাবে কার্যালয়ে আটকে রাখা হল, ধৃত তিন জন কী ভাবে ভিতরে ঢুকল, তা জানা নেই তাদের। চাবি ডুপ্লিকেট করে তারা ভিতরে ঢুকে থাকতে পারে বলে জানিয়েছে তারা।

আরও পড়ুন: ‘তিন দিন পর কেন এলেন’? বারুইপুরে সায়নীকে ঘিরে বিক্ষোভ, বন্ধ করে দেওয়া হল দরজা, সাংসদ বললেন…

বিজেপি কর্মী অর্ণব ঘোষ বলেন, “এটা তো পার্টি অফিস নয়, ওয়্যার হাউস। যতদূর জানা আছে, পতাকা, চেয়ার, টেবিল-এসবই রাখা হতো। এখানে কোথা থেকে এই ব্যাপারগুলি উঠে এল, আমরাও আশ্চর্য। এই পাড়াতেই জন্ম এবং বেড়ে ওঠা আমার। ৪৬ বছরে এমন কখনও শুনিনি। এরা এখানকার বখাটে ছেলে। কোনও পার্টি-পলিটিক্সে যুক্ত ছিল বলে মনে হয় না। হয়ত ভেঙে ঢুকেছে বা ডুপ্লিকেট চাবি বানিয়েছে। বলা মুশকিল। বিজেপি-র সংগঠনের কেউ নয় এরা।” বিষয়টি খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

Source link



Source link

Leave A Reply

Your email address will not be published.