Bankura News: ‘ক্ষতিপূরণ চাই না, বাবার নামে একটা স্কুল হোক’, বলছেন পিতৃহারা CJP সমর্থক বাঁকুড়ার আব্দুল হাফিজ
বাঁকুড়া, ইন্দাস : ককরোচ জনতা পার্টির আন্দোলনে যোগ দেওয়ায় আন্দোলনকারীর বাবাকে পিটিয়ে খুনের অভিযোগের পর আজ পরিবারের সঙ্গে দেখা করল SFI-এর প্রতিনিধি দল। এরপর সেখানে যায় ককরোচ জনতা পার্টি ও বামেদের প্রতিনিধি দল। বাঁকুড়ার ইন্দাসের বাসিন্দা শেখ আব্দুল হাফিজের দাবি, গত ১৯ জুলাই নিট প্রশ্নফাঁসকাণ্ডে দিল্লিতে ককরোচ জনতা পার্টির আন্দোলনে যোগ দিতে গিয়েছিলেন তিনি। সেখান থেকে ২৭ জুলাই ইন্দাসের বাড়িতে ফেরেন। সম্প্রতি স্থানীয় করিশুন্ডা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অব্যবস্থা নিয়ে প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে কথা বলেন আব্দুল। অভিযোগ, এরপরই ১৩ অগাস্ট তাঁর বাড়িতে চড়াও হন বিজেপির কর্মীরা। আন্দোলনকারী আব্দুল হাফিজ ও তাঁর বাবাকে বেধড়ক মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। শনিবার বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে মৃত্য়ু হয় আন্দোলনকারীর বাবা শেখ মহম্মদ মাফিকের।
ককরোচ জনতা পার্টির আন্দোলনে যোগ দেওয়ায়, বাঁকুড়ায় আন্দোলনকারীর বাবাকে পিটিয়ে খুনের অভিযোগ উঠেছে। সোমবার, নিহতের বাড়িতে যান, ককরোচ জনতা পার্টির জাতীয় মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা। এই ঘটনায় ইতিমধ্যে গ্রেফতার করা হয়েছে ৮ জনকে। তাঁদের মধ্য়ে ১ জন বিজেপির প্রাক্তন বুথ সভাপতি এবং ২ জন বিজেপি সমর্থক বলে পরিচিত। ধৃতদের মধ্য়ে, অষ্টম মাঝি নামে একজন বিজেপির প্রাক্তন বুথ সভাপতি। শেখ আজাদ ও শ্রীকান্ত মাঝি – এরা ২ জন বিজেপির সমর্থক বলে পরিচিত।
‘আমিও নিজের সুরক্ষার জন্য পিস্তলের লাইসেন্স নিচ্ছি’, কেন এমন বললেন তৃণমুল সাংসদ কীর্তি আজাদ ?
নিট-কাণ্ডের প্রতিবাদে দিল্লির যন্তর মন্তরে আন্দোলনে অংশ নিয়েছিলেন। গ্রামে ফিরে, খোঁজ নিতে গেছিলেন, এলাকার প্রাথমিক বিদ্য়ালয় বেহাল কেন? তারপর ককরোচ জনতা পার্টির সেই সদস্য় শেখ আব্দুল হাফিজের বাবা বাঁকুড়ার ইন্দাসের বাসিন্দাকে পিটিয়ে খুনের অভিযোগ উঠেছে বিজেপির বিরুদ্ধে যা নিয়ে এখন তোলপাড় রাজনীতি। সোমবার, নিহতের বাড়িতে যান, ককরোচ জনতা পার্টির জাতীয় মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা। CJP মুখপাত্র আশুতোষ বলেন, ‘আমরা ক্ষতিপূরণের কথা বলেছিলাম। আব্দুল নিতে চায়নি। বলেছে ওর বাবার নামে একটা স্কুল করে দিতে। ওর মানসিকতা ভাবুন। যারা স্কুল শোধরাতে চায়, তাদের মারা হয়। তার বাবাকে আপনারা হত্য়া করেছেন। কত বড় গুন্ডা। কিন্তু আমরা আপনাদের গুন্ডাগিরিতে ভয় পাই না। আমরা দেশের শিক্ষাব্য়বস্থাকে শোধরাবোই। বিজেপির যত গুন্ডা দেশময় ঘুরছে, তাদের শেষবার সতর্ক করছি। শুধরে যাও। নয়তো শুধরে দেব।’ হুঁশিয়ারি দিয়ে সিজেপি- র তরফে এও বলা হয়েছে সাতদিনের মধ্যে উপযুক্ত ব্যবস্থা না হলে বৃহত্তর আন্দোলন করা হবে।
নিহতর ছেলে, CJP-র সদস্য়, আব্দুল হাফিজের দাবি, দিল্লিতে ককরোচ জনতা পার্টির ধর্না-কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার পর, ২৭ জুলাই ইন্দাসের বাড়িতে ফেরেন তিনি। এরপর, স্থানীয় করিশুন্ডা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অব্যবস্থা নিয়ে প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে কথা বলেন আব্দুল। অভিযোগ, এরপরই ১৩ অগাস্ট তাঁর বাড়িতে চড়াও হন বিজেপির কর্মীরা। নিহতের ছেলে আব্দুল হাফিজ বলেছেন, ‘বলছে তুই দিল্লির প্রটেস্টে গেছিস, এখানে আসার পর… এসেই মারধর। চড়, থাপ্পড়। আমার বাবা ছাড়াতে এসেছে। আমার বাবাকে মেরেছে। মাথায় মেরেছে। একটা শাবল এনেছিল। ওরা বিজেপির হয়েই কাজ করত। বিজেপির কার্যকর্তাই ওরা ছিল। যদি স্কুল ঠিক করা অপরাধ হয়, তাহলে আমি অপরাধ করেছি। আর এরকম অপরাধ আমি বারবার করব।’
নিহতের ছেলে আরও বলেছেন, ‘আমার ফোন ওরা নিয়ে নিয়েছে। ওখানে অনেক ভিডিও আছে, অডিও আছে, যা থেকে প্রমাণ হয়ে যাবে যে কারা করেছে, কারা যুক্ত ছিল, তারা কোন সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত, স্পষ্ট হয়ে যাবে। একটা উদাহরণ দিচ্ছি… ধরুন আমার এমএলএ- এর সঙ্গে ছবি আছে, একটা দলেরই সবার সঙ্গে ছবি আছে, তাহলে কী প্রমাণ হয়… আমার আন্ডারে যদি ৫০ জন কাজ করে, তাদের যদি উপর থেকে না বলে তাহলে তো তারা কোথাও যাবে না… আমার বাবার সঙ্গে তো ব্যক্তিগত শত্রুতা ছিল না।’
