কলকাতা: প্রথমে কলকাতা পুলিশ, তারপর সিবিআই তদন্তের ওপর ভিত্তি করে, আর জি কর কাণ্ডে নিম্ন আদালত সঞ্জয় রায়কে আমৃত্য়ু কারাদণ্ডের শাস্তি দিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে বিজেপি সরকারে আসার পর নতুন করে খুলেছে ‘RG কর ফাইলস’। আর তারপর থেকেই জোরালো হচ্ছে বরুণ বিশ্বাস মার্ডার ফাইলস খোলার দাবিও।
আরও পড়ুন: মাসিক ৫ হাজার টাকা ভাতা বাড়ল আশা ও অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীদের, নির্দেশিকা জারি করল রাজ্য সরকার
নিহত বরুণ বিশ্বাসের দিদি প্রমীলা রায় বিশ্বাস বলছেন, “আমরা পুনর্তদন্ত চেয়েছি। সেটা মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী গ্রহণ করেছেন এবং আমাদের কথা দিয়েছেন।” এরই মধ্যে বৃহস্পতিবার উত্তর ২৪ পরগনার সুটিয়ায় নিহত প্রতিবাদী শিক্ষক বরুণ বিশ্বাসের বাড়িতে যান CID-র দুই অফিসার। কথা বলেন পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে।
নতুন করে সিআইডি এই বিষয়ে খোঁজ শুরু করার কিছুটা আসার আলো দেখতে পেয়েছেন প্রমীলা দেবী। তিনি বলেন, “আমরা খবর পেয়েছি। ওঁরা আমাদের ফোন করেছিলেন। বিচার পেলে খুশি হব। কেস নিয়েছে সবই ঠিক আছে। কিন্তু আমরা শেষপর্যন্ত (দেখতে) চাই, বিচারটা যেন আমরা পাই। সঠিক বিচারটা।”
এই পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠছে, তাহলে কি এবার খুলতে চলেছে ‘বরুণ বিশ্বাস মার্ডার ফাইলস’-ও? ২০১২ সালের ৫ জুলাই ছিল সেই অভিশপ্ত দিন। কলকাতার মিত্র ইনস্টিটিটউটশনের শিক্ষক বরুণ বিশ্বাস সবে গোবরডাঙা স্টেশনে নেমেছিলেন। বাইক নিয়ে বাড়ির দিকে রওনা দিতে যাবেন, তখনই কয়েকটা বুলেট এফোঁড়-ওফোঁড় করে দেয় তাঁকে। ওই মামলায় ৯ জনকে গ্রেফতার করা হয়। তাঁদের মধ্যে জেলেই একজনের মৃত্যু হয়। বাকিরা জামিনে ছাড়া পেয়ে যান। ৫২জন সাক্ষীর মধ্যে এখনও পর্যন্ত মাত্র ৩৬ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ হয়েছে। এক যুগেরও বেশি সময় ধরে সেই মামলা ঝুলে রয়েছে আদালতে।
“সমাজের জন্য যে প্রতিবাদ করে গেল তার জীবনটাই তারা কেড়ে নিল। তাদের পথের কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছিল, তাদের কর্মকাণ্ড, তোলাবাজ, ধর্ষণ-খুন তারা করতে পারবে না। তাই জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক তার পথের কাঁটা সরিয়ে দিতে একেবারে মাস্টার প্ল্যান করে আমার ভাইটাকে পৃথিবী থেকে সরিয়ে দিল”, বলেন নিহত বরুণ বিশ্বাসের দিদি প্রমীলা রায় বিশ্বাস।
৩৮ বছর বয়সী শিক্ষক বরুণ বিশ্বাস সুটিয়ায় নারী নির্যাতন এবং গণধর্ষণের বিরুদ্ধে সরব হয়েছিলেন। এলাকায় প্রতিবাদের মুখ হয়ে উঠেছিলেন তিনি। নানা দুর্নীতির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছিলেন। পরিবারের দাবি, সেই কারণে পরিকল্পিত ভাবে বরুণকে খুন করা হয়।
গত ৪ জুলাই বরুণ বিশ্বাসের হত্যাকাণ্ডের পুনর্তদন্তের দাবি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর দ্বারস্থ হয় বিশ্বাস পরিবার। বরুণ বিশ্বাসের দাদা অসিত বিশ্বাস বলেন, “মানবিক মুখ্যমন্ত্রীর কাছে আমাদের একটাই দাবি, বরুণের হত্যকাণ্ডের সত্যিকারের যে মৃত্যুরহস্য, যে তদন্তের নামে প্রহসন হয়েছে, তদন্ত কিছুই হয়নি। আমরা চাইছি প্রকৃত তদন্ত হোক।” তবে কি ‘বরুণ বিশ্বাস মার্ডার ফাইলস’ খোলা কি এখন শুধুই সময়ের অপেক্ষা?
Conch Shell GI Tag: GI ট্যাগ পেল বাঁকুড়ার শঙ্খ শিল্প, এবার কি বাঁচবে হারিয়ে যেতে বসা এই ঐতিহ্য?
