Voice of Eastern India

Birbhum Money Gold Recovered: সরকারি বাসের চালক মিনারের বাড়িতে কীভাবে এল এত টাকা-সোনা? কীভাবে উত্থান টুলু মণ্ডলের আত্মীয়ের?


ভাস্কর মুখোপাধ্যায়, পার্থপ্রতিম ঘোষ, বীরভূম : ভোর থেকে শুরু, রাতে গিয়ে শেষ। টাকা আর সোনার পরিমাণ গুনতে গুনতে নাজেহাল পুলিশ। রাতে পুলিশ সুপারের মুখে উঠে এল পাথর ব্য়বসায়ী টুলু মণ্ডলের নাম। কোথায় টুলু মণ্ডল? কীভাবে সিন্ডিকেট ফেঁদে বসেছিলেন তিনি? ভালো করে আলো ফোটার আগেই মহম্মদবাজার থানা থেকে বেরোয় DSP ট্রাফিক কুণাল মুখোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে বিশাল পুলিশ বাহিনী। বুধবার ভোর ৩টে ১৫। পুলিশের গাড়ি এসে দাঁড়ায় দেউচা বাসস্ট্যান্ডের কাছে পাথর ব্যবসায়ী টুলু মণ্ডলের আত্মীয় মিনার মণ্ডলের বাড়ির পাশে। বাড়ির মালিক দরজা খুলতে না চাওয়ায় ভোর ৩টে ২০-তে দরজা ভেঙে ঘরে ঢোকে পুলিশ। পুলিশ সূত্রে খবর, দরজা ভেঙেই আটক করা হয় মিনার মণ্ডল ও তাঁর ছেলেকে। ভোর ৩টে ৩০ থেকে দোতলা বাড়ির সমস্ত ঘরে তল্লাশি শুরু করেন তদন্তকারীরা। পুলিশ সূত্রে খবর, বাড়ির দোতলায় ৩টি ঘর এবং নীচে ২টি ঘর রয়েছে। নীচে এবং ওপরের ঘরে দুটি আলমারিতে জামাকাপড়ের বদলে রাখা ছিল থরে থরে টাকার বান্ডিল। ঘরের চোরা কুঠুরিতে রাখা ছিল সোনার বাট ও বিস্কুট। 

ডাকাত দলই পাইয়ে দিল বীরভূমের মিনারের বাড়ির সাড়ে ২৮ কোটি নগদ, ১৫ কেজি সোনার বাট-বিস্কুট

কোটি কোটি টাকা। কেজি কেজি সোনা। যাঁর বাড়ি থেকে উদ্ধার হয়েছে, সেই মিনার মণ্ডল সরকারি বাস চালাতেন। অবসরের পর, মাসে ৩৫ হাজার টাকা পেনশন পান। পুলিশের অনুমান, উদ্ধার হওয়া এই বিপুল টাকা-সোনা আসলে বীরভূমের পাথর খাদান থেকে আদায় হওয়া রাজস্ব। আর সেই সঙ্গে উঠে আসছে ব্য়বসায়ী টুলু মণ্ডলের নাম। উত্তরবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহণ সংস্থার কর্মী ছিলেন মিনার মণ্ডল। বাস চালাতেন। এখন অবসরপ্রাপ্ত। মাসে ৩৫ হাজার টাকা পেনশন পান। বীরভূমের মহম্মদবাজারে, তাঁর বাড়িতেই কিনা টাকার মিনার। রাশি রাশি টাকা। কেজি কেজি সোনার বিস্কুট। পুলিশের অনুমান, এই বিপুল টাকা ও সোনা আসলে বীরভূমের পাথর খাদান থেকে আদায় হওয়া রাজস্ব। সূত্রের খবর, উত্তরবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহণ সংস্থার কর্মী মিনার মণ্ডল ২০১৭ সালে স্বেচ্ছাবসর নেন। 

এরপর, পাথর ব্য়বসায়ী টুলু মণ্ডলের সঙ্গে ব্য়বসায় যোগ দেন। সম্পর্কে টুলু মণ্ডল, তাঁর খুড়তুতো বোনের জামাই। সূত্রের খবর, যে DCR গেটগুলিতে পাথরের গাড়ি থেকে রাজস্ব আদায় হত, সেরকম একটি গেটের ম্য়ানেজার ছিলেন এই মিনার মণ্ডল। প্রশাসন সূত্রে খবর, এরকম ক্ষেত্রে সরকারি তত্ত্বাবধানে বেসরকারি হাতে রাজস্ব আদায়ের বরাত দেওয়া হয়। সেই হিসেবে বরাত পান প্রভাবশালী পাথর ব্যবসায়ী টুলু মণ্ডল। বীরভূমে পাথর খাদানের মোট ৬টি গেট রয়েছে। সূত্রের খবর, সেই গেটগুলিতে পাথরের লরি থেকে রাজস্ব আদায় করতেন টুলু মণ্ডলের লোকেরা। সরকারি চাকরি থেকে অবসরের পর আত্মীয়র পাথর খাদানে কাজে যোগ দেন মিনার মণ্ডল। বীরভূমের রাইপুর গেটের ম্যানেজার ছিলেন তিনি। মূল প্রশ্ন হল মিনার মণ্ডলের মাথায় কে? তাঁর মাথায় কে? রাজনৈতিক প্রভাবশালীরা? তাঁদের কি ছোঁবে পুলিশ? 

Source link



Source link

Leave A Reply

Your email address will not be published.