Gyanesh Kumar: ‘৪০০০ ইভিএম পুড়িয়েছে, মাস্টারমাইন্ড বিজেপি’, অভিষেককে পাশে নিয়ে আক্রমণ শানালেন মমতা, দিল্লিতে সাংবাদিক বৈঠক
কলকাতা: একদিন আগে I.N.D.I.A শিবিরের মঞ্চ থেকেই SIR নিয়ে জোরাল আওয়াজ তুলেছিলেন। আজ দিল্লিতে আক্রমণের ধার আরও বাড়ালেন তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিজেপি-কে জেতাতে, বিজেপি-র পরিকল্পনা মাফিকই SIR হয়েছে বলে দাবি করলেন তিনি। নাম না করে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে আজও ‘ভ্যানিশ কুমার’ বলে আক্রমণ করেন মমতা। সেই সঙ্গে কলকাতায় ৪০০০ EVM পুড়ে যাওয়ার বিষয়টিও উত্থাপন করেন সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের সামনে। (Mamata Banerjee on SIR)
বৃহস্পতিবার দিল্লিতে সাংবাদিক বৈঠক করেন মমতা। সাংবাদিক বৈঠকে তাঁর পাশে ছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্য়ায়, দোলা সেন, বাবুল সুপ্রিয়রা। সেখানে মমতা বলেন, “মার্চ মাসে নির্বাচন, তার আগে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাস থেকে শুরু করে। আমাদের সরকার ছিল। কিন্তু কার্যত রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করা হয়। বদল করা হয় রাজ্যপালকে। তামিলনাড়ুতে বিতর্কিত কাজকর্মের জন্য পরিচিত রাজ্যপালকে তুলে আনা হয়। তাঁর আগের রাজ্যপাল যিনি ছিলেন, তিনি বোধহয় সব কথা শুনছিলেন না। তাই নির্বাচনের আগে, মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে বের করে দেওয়া হয়। থাকার জায়গাও দেয়নি। আমি ব্যবস্থা করে দিই।” (Gyanesh Kumar)
আরও পড়ুন: I.N.D.I.A শিবিরে যোগ দিতে চায় ঋতব্রত-তৃণমূল, শর্ত একটাই, মমতাকে রাখা যাবে না
এর পরই সরাসরি ‘ভোটচুরি’র অভিযোগে চলে যান মমতা। বলেন, “আমাদের ওখানে ৪০০০ EVM পুড়িয়ে দিয়েছে। কাউন্টিং মেশিনও। ন’তলা বিল্ডিং। আর কোথাও আগুন লাগল না, শুধু EVM যেখানে ছিল। জবরদস্তি বিজেপি-কে জেতানোর মেশিন পুড়িয়ে দিয়েছে। কেমন SIR হয়েছে ভাবুন। জেনেশুনে, বিজেপি-র পরিকল্পনা মাফিক কাজ হয়েছে। মাস্টারমাইন্ড বিজেপি। অভিষেক ডিসেম্বরেই প্রশ্ন তুলেছিল সীমা খান্না সফ্টওয়্যার, AI দিয়ে কাজ করাচ্ছে বলে। ওঁকে কী ভাবে নিয়োগ করা হয়, কী ভাবে ভোটার তালিকার কেন্দ্রীয়করণ হয়েছে, তা নিয়ে চিঠিও দেওয়া হয়। চিঠি দিয়েছিলেন WBCS অফিসাররাও যে EROদের পুরোপুরি ব্লক করে দিয়েছে।”
পরিসংখ্যান তুলে ধরে এদিন মমতা দাবি করেন, প্রথমে ৫৮ লক্ষ ভোটারকে বাদ দেওয়া হয়। লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সির নামে বাদ দেওয়া হয়। সেই নিয়ে আইনি লড়াই চলে। এর পর বিচার বিভাগীয় আধিকারিকদের নিয়োগ করা হয়। কিন্তু এখনও পর্যন্ত ১৫০০ মানুষের নামও ফেরানো যায়নি তালিকায়। মমতা বলেন, “নির্বাচন কমিশনকে এতদিন বিশ্বাস করতেন সকলে। অনেক কমিশনার দেখেছি, মিস্টার গিল, টিএন শেষন, মিস্টার কুরেশি, নবীন কুমার। কখনও এমন দেখিনি। আমার নিজের গণনাকেন্দ্রে সব দখল করে নেয়। আমি ১৫ হাজার ভোটে জিতছিলাম। আমাকে মারধরও করা হয়। সিআরপিএফ গেট আটকে দেয়, যাতে ভিতরে ঢুকতে না পারি। এজেন্টদের মেরে বের করে দেওয়া হয়। ব্লক করে দেওয়া হয় সিসিটিভি। কোথায় গেল সিসিটিভ ফুটেজ? ইভিএম হ্যাক করেছে। আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলছি, সীমা খান্না, জ্ঞানেশ কুমার নির্বাচন এবং গণনাপ্রক্রিয়া হাইজ্যাক করে নেয়। চুরি করে জেতা তথআকথিত জয় হাসিল হওয়ার পর, ভ্যানিশ কুমার মিষ্টি বিতরণ করেন। কখনও এমনটা দেখিনি। বিজেপি-কে সন্তুষ্ট করতেই প্রতিহিংসা চরিতার্থ করেছেন উনি। নির্বাচনের সময় কখনও SIR হওয়া দস্তুর নয়। উনি শাসকদলকে ইনসেন্টিভ পাইয়ে দিয়েছেন। মহারাষ্ট্র, বিহার, হরিয়ানার মতো অনেক জায়গায় হয়েছে। ঝড় আসছে ঝড়। মানুষ জবাব দেবেন।”
- দিল্লিতে সাংবাদিকদের সামনে পরিসংখ্যানও পেশ করেন মমতা। বলেন, কলকাতায় ৪ লক্ষ ৫৫ হাজার ৬৭৮ ভোটে জিতেছিলাম। SIR-এর পর হল ৬ লক্ষ ৯৭ হাজাপ ১৬০। মানে ৩.৫ লক্ষ সরিয়ে দিল। আমি যা জিতেছিলাম, তাও। ৪ লক্ষ ৫৫ হাজারে জিতেছিলাম। ৭ লক্ষ সরিয়েছে।
- নদিয়ায় জিতেছিলাম ২৩ হাজার ৯০৩ ভোটে। সেখানে বের করে দিল ৪ লক্ষ ৮৭ হাজার ৫৬৫।
- কলকাতায় ভোচটার ছিল ৪ লক্ষ ৫৫ হাজার ৬৭৮। এসআউআকের পর হল ৬ লক্ষ ৯৭ হাজার ১৬০ করে দিল। মানে ৩.৫ লক্ষ সরিয়ে দিল আলাদা আমি যা জিতেছিলাম, তারও। ৪ লক্ষ ৫৫ হাজারে দিতেছিলান। ৭ লাখ সরিয়ে দিয়েছে। নদিয়ায় দিতেছিলাম ২৩ হাজার ৯০৩ ভোটে। বের করে দিল ৪ লক্ষ ৮৭ হাজার ৫৬৫। মানে বুঝুন।
- “উত্তর ২৪ পরগনায় সব আসন তৃণমূলের দখলে ছিল। ৯ লক্ষ ১৩ হাজার ৯৪৩ ভোটে জিতেছিল বিজেপি। সেখানে ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েন ১২ লক্ষ ৬০ হাজার ৯৬ জন, প্রায় ৩ লক্ষ। বেছে বেছে, কেন্দ্র ধরে ধরে বাদ দেওয়া হয়েছে। যেখানে যেখানে আমরা জিতেছিলাম, সেখানে চার গুণ করে ভোট কেটেছে”।
- হাওড়ায় ৪ লক্ষ ৫৪ হাজার ৮৭৩ ভোটে জিতেছিলাম। বাদ যায় ৫ লক্ষ ৯৫ হাজার।
- উত্তর দিনাজপুরে জিতেছিলাম ২ লক্ষ ৪৪ হাজার ৭৪৪ ভোটে। বাদ দেয় ৩ লক্ষ ৬৩ হাজার ৬৪৬কে। নির্বাচন হওয়ার আগেই ভোট জিতে নেন জ্ঞানেশ কুমার। ভোটার তালিকা থেকে মানুষকে গায়েব করে দিয়েছেন।
এদিন মমতা ছবি দেখিয়ে জানান, বস্তা বস্তা ফর্ম-৬ জমা করা হয়। একজন ব্যক্তি যেখানে ছ’টির বেশি ফর্ম-৬ দিতে পারেন না, তার পরও গুচ্ছ গুচ্ছ ফর্ম-৬ জমা পড়ে। ২.৪ লক্ষ কেন্দ্রীয় বাহিনী নামিয়ে EVM দখল করা হয় বলেও দাবি করেন তিনি। সিআরপিএফ, সিএপিএফ বাড়ি বাড়ি গিয়ে তৃণমূলকে ভোট দিতে নিষেধ করে,দেদার পুলিশ-আমলা বদলি করে গণতন্ত্রকে পদদলিত করা হয় বলেও অভিযোগ তোলেন। গোড়া থেকে আপত্তি তুললেও, সেই সময় কেউ কর্ণপাত করেননি, কিন্তু এখন নাম বাদ পড়াদের সামাজিক প্রকল্প থেকে বাদ দেওয়ার কথা ঘোষণা হয়েছে বলেও তুলে ধরেন তিনি।
Snehasish Chakraborty | এবার তদন্ত শুরু প্রাক্তন পরিবহণ মন্ত্রী স্নেহাশিস চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে
