PM Modi NCPI Meet: দিল্লিতে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এক টেবিলে চা খেলেন সুদীপ- সায়নীরা, কী প্রতিক্রিয়া দিলীপ-তথাগতদের ? “কারও জন্য় দরজা খোলা হয়নি..”
রঞ্জিত সাউ, ঝিলম করঞ্জাই, সমীরণ পাল, কলকাতা: দিল্লিতে প্রধানমন্ত্রীর আমন্ত্রণে ব্রেকফাস্ট-বৈঠকে যোগ দেন NCPI সাংসদরা। সুদীপ বন্দ্য়োপাধ্য়ায়, শতাব্দী রায়, জুন মালিয়া, সায়নী ঘোষ, রচনা বন্দ্য়োপাধ্য়ায়দের সঙ্গে এক টেবিলে চা খান প্রধানমন্ত্রী।নবান্নে মুখ্য়মন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনায় বসেন তৃণমূলের ঋতব্রত শিবিরের বিধায়করা। আর এই প্রেক্ষিতে বিজেপির একাধিক নেতার গলায় শোনা যাচ্ছে সমালোচনার সুর।
অভিষেক বন্দ্য়োপাধ্য়ায় যাঁর রাজনৈতিক গুরু বলে পরিচিত, সেই মথুরাপুরের সাংসদ, বাপি হালদারের কাঁধে হাত দিয়ে কথা বলছেন প্রধানমন্ত্রী। কখনও nda-র বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে একসারিতে দেখা যাচ্ছে সুদীপ বন্দ্য়োপাধ্য়ায়কে। কখনও দিল্লিতে NCPI সাংসদরা বৈঠক করছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে কখনও বঙ্গভবনে তাঁদের সঙ্গে বৈঠক করছেন মুখ্য়মন্ত্রী। বিজেপির সঙ্গে বিদ্রোহী তৃণমূল, সব মিলে মিশে একাকার। (বিদ্রোহী তৃণমূল সাংসদ) NCPI সাংসদ শতাব্দী রায় বলেন, খুব ভাল মিটিং হয়েছে। এটাও বলছিল যে, ৪০ বছরের ওপর যাদের বয়স, তারা কিন্তু যোগা কোরো আর চেক আপ করিও বছরে একবার করে। উনি চা নিয়ে বসেছিলেন। আমরা ওই পায়েস-টায়েস খেয়েছি।
কিন্তু এই রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটকে কীভাবে দেখছে গেরুয়া শিবির? বিজেপি নেতা দেবাশিস চৌধুরী বলেন, TMC-র হাত দুর্বল করা, তার পায়ের তলা থেকে মাটিটা কেড়ে নেওয়া, এটা তো কাজ। কিন্তু ম্য়ানডেট যেন বিজেপি না ভোলে। ২০২১-এ চূড়ান্ত আক্রমণ, আঘাত আমাদের ওপরে হয়েছিল। সেই চূড়ান্ত আক্রমণ আঘাতটা বিজেপির লোকেরা ভুলতে পারেনি, ভোলার কথাও না। সেটা আমরা ভুলবও না। সেই জায়গায় কম্প্রোমাইজ কোনও বিজেপি, কোনও নেতৃত্ব বরদাস্ত করবে না। বিজেপির প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক অসীম সরকার বলেন, এখন যারা দায়িত্বে আসছেন, তাঁদের যথাযথভাবে ট্রেনিং হয়েছে বলে আমার মনে হয় না। সেই ট্রেনিংয়ের অভাবটাই অনেক জায়গায় অনেককিছুভাবে দেখা যাচ্ছে। অনেকে অন্য় দল থেকে আসছেন। তারা অন্য় কালচারে অভ্য়স্ত। তারা এই কালচারটার সঙ্গে পরিচিত নন।
সরাসরি না বললেও, এই কাছাকাছি আসাকে কি সবাই ভালভাবে মেনে নিতে পারছেন? পঞ্চায়েতমন্ত্রী ও বিজেপি বিধায়ক দিলীপ ঘোষ বলেন, কারও জন্য় দরজা খোলা হয়নি। যেটা বলা হয়েছিল ওটাই আছে। আর এটা পার্টির কর্মীরাও মানবে না। কারণ, তারা যাদের বিরুদ্ধে লড়াই করেছে, যাদের জন্য় বাড়ি ঘর গেছে, শহিদ হয়েছে ২৫০ জন। সহজে তাদের আমরা মেনে নেব না। এখন সর্বভারতীয় পার্টি আমাদের, তারা যদি কোনও সিদ্ধান্ত নেয়, সেটা আমরা মানব। কিন্তু তারাও এখানকার পরিস্থিতি জানেন। বিজেপি প্রাক্তন রাজ্য় সভাপতি তথাগত রায় বলেন, আদর্শগত দিক থেকে তো এদের সঙ্গে বিজেপির কোনও নৈকট্য থাকতে পারে না। কোনও নৈকট্য থাকতে পারে না। এখন সেটার সম্বন্ধে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব অন্যভাবে কী বাধ্যবাধকতা দেখবেন, কী সিদ্ধান্ত নেবেন সেটা আমি জানি না। কিন্তু আমার ব্যক্তিগত মত হচ্ছে যতদিন এদের বাইরে রাখা যায়, ততই ভাল। ‘এরইমধ্য়ে ব্য়ারাকপুরের সাংসদ পার্থ ভৌমিক, যিনি শুক্রবারও প্রধানমন্ত্রীর ব্রেকফাস্টে উপস্থিত ছিলেন, তাঁর বিরুদ্ধে গদ্দার লেখা, এইসব পোস্টার পড়েছে নৈহাটিতে।
