Suvendu Adhikari : ৩১ জুলাই পর্যন্ত বেসরকারি বাণিজ্যিক নির্মাণ পুরোপুরি বন্ধ, জায়গা নির্দিষ্ট করে, বড় ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর
কলকাতা: তারাতলার নির্মীয়মাণ গোডাউন ধসের ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ১৫। বিপর্যয়ের পর নির্মাণ নিরাপত্তা নিয়ে কড়া অবস্থান নিল রাজ্য সরকার। ঘোষণা করলেন, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ৩১ জুলাই পর্যন্ত সমস্ত বেসরকারি বাণিজ্যিক নির্মাণকাজ সম্পূর্ণভাবে বন্ধ থাকবে। এই সময়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট নির্মাণ প্রকল্পগুলির অডিট করা হবে এবং অডিট রিপোর্ট পর্যালোচনার পর পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। যদি কোনও প্রকল্পে নির্মাণ সংক্রান্ত বেনিয়ম ধরা পড়ে, তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা সংস্থার বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সরকারের নির্দেশ অনুযায়ী, কলকাতা, বিধাননগর, রাজারহাট, নিউ টাউন কলকাতা ডেভেলপমেন্ট অথরিটি (NKDA), পুজালি এবং মহেশতলা পুরসভা এলাকায় আপাতত বেসরকারি বাণিজ্যিক নির্মাণকাজ বন্ধ থাকবে। একইসঙ্গে দক্ষিণ দমদম, বরানগর এবং কামারহাটি পুরসভা এলাকাতেও এক মাসের জন্য এই ধরনের নির্মাণকাজে স্থগিতাদেশ জারি করা হয়েছে। প্রশাসনের দাবি, নিরাপত্তা ও নির্মাণের গুণগত মান নিশ্চিত করতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সামনে এল নির্মাণে একাধিক বেনিয়ম
ঘটনার তদন্তে উঠে আসছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। সূত্রের দাবি, যে জায়গায় গোডাউনটি তৈরি হচ্ছিল, সেখানে আগে থেকেই একটি পুরনো কাঠামো ছিল। নিয়ম অনুযায়ী, পুরনো কাঠামো ভেঙে মাটি পরীক্ষা (Soil Test) করার পরই নতুন নির্মাণের পরিকল্পনা অনুমোদনের জন্য জমা দেওয়ার কথা।কিন্তু অভিযোগ, মাটি পরীক্ষা না করেই পুরসভার কাছে বিল্ডিং প্ল্যান জমা দেওয়া হয়েছিল। ফলে গোটা নির্মাণ প্রক্রিয়া নিয়েই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
মুখ্যমন্ত্রীর কড়া বার্তা
ঘটনার পর শুক্রবার সাংবাদিক বৈঠক করে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন, “নিয়ম না মানলে বিল্ডিং প্ল্যান বাতিল হবে। মানুষের জীবনের দাম আছে। সরকারের উদ্দেশ্য নগরায়ন আটকানো নয়, কিন্তু নিরাপত্তার সঙ্গে কোনও আপস করা হবে না।”
মুখ্যমন্ত্রী আর যা যা বললেন –
মুখ্যমন্ত্রী জানান, আবহাওয়া অনুকূল থাকলে শুক্রবার রাতের মধ্যেই তারাতলার উদ্ধারকাজ শেষ করার চেষ্টা করা হবে। বর্তমানে উদ্ধার অভিযানে নেতৃত্ব দিচ্ছে এনডিআরএফ (NDRF)। পাশাপাশি নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে আগামী এক মাস তারাতলা, বরানগর, দক্ষিণ দমদম এবং কামারহাটির নির্দিষ্ট এলাকায় সমস্ত নির্মাণকাজ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও ঘোষণা করেন, রাজ্যের সমস্ত নির্মীয়মাণ বহুতলের জন্য বিশেষ অডিট টিম গঠন করা হবে। G+5 বা তার বেশি উচ্চতার সমস্ত ভবনকে বহুতল হিসেবে ধরে বাধ্যতামূলক অডিট করা হবে। এছাড়া বাণিজ্যিক বহুতলগুলিতে দমকলের তরফে পৃথক নিরাপত্তা অডিটও করা হবে।
তারাতলায় ভেঙে পড়া গোডাউনের আর্কিটেক্ট ও ডিজাইনারকে ইতিমধ্যেই ব্ল্যাকলিস্ট করা হয়েছে। ভবিষ্যতে যেখানে যেখানে নির্মাণে বেনিয়ম ধরা পড়বে, সেখানকার দায়ীদেরও ব্ল্যাকলিস্ট করা হবে বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। একইসঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, বিল্ডিং প্ল্যান পাশ করাতে কোথাও যদি ঘুষ লেনদেন হয়ে থাকে, তাহলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে এফআইআর (FIR) দায়ের করার কথা বলেন।
নজরদারির অভাবের অভিযোগ
মুখ্যমন্ত্রী জানান, তারাতলার ওই নির্মাণ প্রকল্পে অনুমোদিত প্ল্যান থাকলেও যথাযথ নজরদারির অভাব ছিল। তিনি আরও বলেন, অতীতে গার্ডেনরিচের মতো ঘটনাতেও পরিকল্পনার ঘাটতি ছিল, তাই এবার রাজ্যজুড়ে নির্মীয়মাণ হাইরাইজ ভবনের অডিট করা হবে। তারাতলার মর্মান্তিক দুর্ঘটনার পর নির্মাণ নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। প্রশাসনের দাবি, ভবিষ্যতে যাতে এমন ঘটনা আর না ঘটে, তার জন্য রাজ্যজুড়ে কঠোর নজরদারি ও অডিট ব্যবস্থা চালু করা হবে। আগের সরকারের কড়া সমালোচনা করে , খুব তাড়াতাড়ি রাজ্যে বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর হাতে আরও গুরুত্বপূর্ণ সরঞ্জাম তুলে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
Lake Club : রবীন্দ্র সরোবর লেকের লায়ন্স সাফারি পার্কে শিশুদের জন্য খুলে গেল নেচার ডিসকভারি পার্ক
