ডানকুনি : “সারা পৃথিবীর শিল্পপতিরা পশ্চিমবঙ্গে বিনিয়োগ করতে আসবেন।” ডানকুনিতে লাক্স কোজির ম্যানুফ্যাকচারিং ইউনিটের শিলান্যাস অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে এমন আশ্বাস দিলেন রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, “নিশ্চিত থাকুন, টাটাও আসবে-বাটাও আসবে। রিল্যায়েন্সও আসবে, আদানিও আসবে। ইজরায়েল থেকেও বিনিয়োগ হবে, সিলিকন ভ্যালির বিনিয়োগ হবে। মিউনিখ-লন্ডন থেকে বিনিয়োগ হবে। সারা পৃথিবীর শিল্পপতিরা, সারা পৃথিবীর অনাবাসী ভারতীয়রা পশ্চিমবঙ্গে বিনিয়োগ করতে আসবেন। এত ভাল শিল্প-বান্ধব প্রকৃতি বিধাতা কোনও রাজ্যকে দেয়নি, যা পশ্চিমবঙ্গকে দিয়েছে। যেটা রক্ষা করতে বা যেটা এক্সপ্লোর করতে আমরা ব্যর্থ হয়েছিলাম। কিন্তু, ব্যর্থতার দিন আর নেই। পশ্চিমবঙ্গকে এক নম্বরে পৌঁছে দিতে হবে। আমাদের সুস্থ প্রতিযোগিতায় পিছনে সরিয়ে দিতে হবে মহারাষ্ট্র-গুজরাতকে। তার ওপরে আমরা পৌঁছে যাব, এই স্বপ্ন নিয়ে আমাদের সরকার কাজ করে চলেছে। সুস্থ প্রতিযোগিতা শিল্পে চাই, সমাজে চাই, স্ট্যান্ডার্ডাইজেশন অফ প্রোডাক্ট চাই, ফরেন ডাইরেক্ট ইনভেস্টমেন্ট চাই, এসইজেডকে শক্তিশালী করতে চাই। পশ্চিমবঙ্গে নতুন নতুন বিনিয়োগ চাই।”
এদিন অনুষ্ঠানমঞ্চে বক্তব্য রাখার সময় সিঙ্গুরের প্রসঙ্গ তোলেন শমীক। এনিয়ে অনুরোধ জানান মুখ্যমন্ত্রীর উদ্দেশে। শমীক বলেন, “সিঙ্গুরের পিছনে ইমিটেশনের গয়না তৈরি করেন তাঁরা। বাৎসরিক টার্নওভার আড়াই হাজার কোটি টাকা। কোনও দিন সরকারি সাহায্য পাননি। আমি আজ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে দলের পক্ষ থেকে অনুরোধ করব, অনুরোধ করব আমাদের শিল্পমন্ত্রীকে এবং অনুরোধ করব আমাদের শ্রমমন্ত্রীকে, আপনারা অনুগ্রহ করে একটু সিঙ্গুরের দিকে তাকাবেন। যাতে ওখানে আমরা একটা হাব তৈরি করতে পারি। যারা এত বড় জায়গায় রফতানি করেন, এত বিদেশি বাজার যারা নিজেদের আওতায় নিয়ে এসেছেন, তাঁদের এক্সপোর্ট ওরিয়েন্টশনটা যাতে আরও বেশি বাড়ানো যায়, তাঁদের কিছু ইনসেন্টিভ দেওয়া যায়, আরও কিছু মানুষকে নিয়ে এসে সংঘবদ্ধভাবে সেখানে একটা ইমিটেশন জুয়েলিয়ারির…সেমি-প্রেসেস জুয়েলারির পার্ক তৈরি করা যায়, তারজন্য আপনারা একটু উদ্যোগী হবেন। আমি শুধু দলের পক্ষ থেকে আবেদন করতে পারি। বাদবাকি যা করবেন শুভেন্দু অধিকারীরা করবেন।”
শমীক আরও বলেন, “নতুন যুগের সূচনা হয়ে গেছে। মানুষ নতুন করে পশ্চিমবঙ্গকে চিনতে চাইছে। মানুষ পুরনো পশ্চিমবঙ্গের শিল্পায়ন ফিরে পেতে চাইছেন। মানুষ আবার ধোঁয়া দেখতে চাইছেন। মানুষ আবার তরুণ-তরুণীর জীবনে গতি দেখতে চাইছেন। এই অবস্থা থেকে মুক্তি চাই।”
