Voice of Eastern India

মুখ্যমন্ত্রীর হুঁশিয়ারি, ‘এটাই শেষ বক্তব্য’, কী বললেন হুমায়ুন ?


কলকাতা : রেজিনগর ও শক্তিপুর। পৃথক জায়গায় হুমায়ুন কবীরের বিরুদ্ধে আপত্তিকর মন্তব্যের অভিযোগ তুলে এদিন বিধানসভায় চরম হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ‘এই ধরনের লোককে সবক শেখানোর’ কথা বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী। আর এ প্রসঙ্গে এবার নিজের প্রতিক্রিয়া জানালেন আম জনতা উন্নয়ন পার্টির বিধায়ক হুমায়ুন কবীর।

কী বললেন হুমায়ুন ?

বিধানসভা চত্বরে দাঁড়িয়ে হুমায়ুন কবীর বলেন, “আমি বিজেপির বিরুদ্ধে বলেছি। নবাগত বিজেপিরা আমাকে আক্রমণ করেছেন। আমার বাড়ির কাছে গিয়ে, সেখানে পুলিশের নিরাপত্তা নিয়ে গিয়ে আমাকে আক্রমণ করেছেন। আমি রাজনৈতিকভাবে তাঁদের আক্রমণ করব। তিনি বলতেই পারেন। তিনি বাংলার মুখ্যমন্ত্রী। তিনি কী বলছেন সেই কথার বিরোধিতা তো আমি করতে পারব না। তাঁর স্বাধীনতা আছে, বলছেন। আমি রাজনীতির কর্মী হিসাবে, আমার যে উপনির্বাচন হবে, সেখানে আমার প্রার্থীকে জেতাতে গিয়ে আমাকে কেউ ঢিল ছুঁড়লে আমি তাঁকে রসগোল্লা ছুঁড়ব না। বাংলার নতুন মুখ্যমন্ত্রী বাংলার ১১ কোটি মানুষকে সুশাসন দেন, সেই প্রত্যাশা নিয়ে আমরাও পরিবর্তন চেয়েছিলাম। পরিবর্তনের মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন। কিন্তু, সারা রাজ্যের সঙ্গে মুর্শিদাবাদের রেজিনগরকে যদি আলাদা ট্রিটমেন্ট করেন, নওদাকে যদি আলাদা ট্রিটমেন্ট করেন, বেলডাঙাকে যদি আলাদা ট্রিটমেন্ট করেন…হবে। জেলে যাব। কী আছে ?”

এবারের বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যে ক্ষমতায় আসার পাশাপাশি, মুর্শিদাবাদেও আসন বাড়িয়েছে বিজেপি। ওই জেলার ২২টি আসনের মধ্যে ৮টিতে জিতেছে বিজেপি। আর নতুন দল গড়েই ২টি আসনে জিতেছেন আম জনতা উন্নয়ন পার্টির হুমায়ুন কবীর। যদিও নওদা নিজের হাতে রেখে দিয়ে, রেজিনগরের বিধায়ক পদ ছেড়ে দিয়েছেন তিনি। সেই রেজিনগরের কাশীপুরে এক কর্মিসভায় বিজেপির পরাজিত প্রার্থীকে নিশানা করতে গিয়ে, বিজেপিকে আক্রমণ করেন হুমায়ুন কবীর। এর পাশাপাশি তাঁর আরও এক জায়গার বক্তব্য এদিন বিধানসভায় তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী।

কী বলেছেন হুমায়ুন কবীর ? মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “এখানকার (বিধানসভার) একাধিক বিধায়ক তুলে ধরেছেন নওদার বিধায়ক হুমায়ুন কবীরের দু’টি জায়গায় অত্যন্ত আপত্তিজনক, সমাজ ও রাজ্যের পক্ষে ক্ষতিকারক বক্তব্যের উপরে। হুমায়ুন কবীর যে বক্তব্য রেখেছেন তা আমি আপনাদের কাছে পড়ে শোনাচ্ছি। গত ২৬ তারিখে নওদার বিধায়ক হুমায়ুন কবীর রেজিনগরে কাশীপুরে ওঁর পার্টির একটি মিটিং করেছিলেন। সেখানে তিনি বলছেন, এই যে অনামিকা ঘোষ সে ভোটে হেরে মনে করছে আমি এমএলএ। এখানে ভোটে হেরে বিজেপি মনে করছে আমি এমএলএ। এখানে এখন আস্ফালন করে বেরাচ্ছে, তা আমি শুভেন্দু অধিকারীকে সেদিন বলেছি যে, আপনি ভোটে জিতেছেন, আপনার দল জিতেছে খুব ভাল কথা। কিন্তু, মুর্শিদাবাদে আস্ফালনটা একটু কম করবেন। আমি যেদিন ময়দানে মুসলমানদের নিয়ে নেমে যাব না, সেদিন এমন সাটা ভাঙা মার শুরু করবে যে, আপনাদের পতাকা বহন করার লোক থাকবে না। কেস এরকম কেস আমাদের বহরমপুরে জেল খাটা আছে। ৫ হাজার লোককে আপনি বহরমপুর সেন্ট্রাল জেলের যা আয়তন, তাতে ৪৭০০ বা ৪৮০০-র বেশি লোক ঢোকে না। লাখে লাখে লোককে রাস্তায় নিয়ে নামাব। আর সাটা ভাঙ মার দেব, আর জেলে যাব। ক’দিন জেলে আটকে রাখতে পারবেন, কত খাওয়াতে পারবেন দেখব। লিমিট যেদিন ক্রস হয়ে যায় না, মাথাটা যেদিন গরম হয়ে যায় সেদিন আমি এসপি বুঝব না। চিফ মিনিস্টারেও বুঝব না। আর কে কোথায় থাকল, আর কে কোথায় থাকল না, ওসব বুঝব না। আমি নিজেই নেতৃত্ব দিয়ে দাঁড়াব। এটা ঘটনা ওয়ান। ঘটনা ২, শক্তিপুরের দুয়ারাঘাটে। ৮ তারিখে । সেখানে উনি বলছেন, ভোটের আগের দিন আমার নিজের ভাইপোকে গ্রেফতার করেছেন এই ওসি। এই…বাচ্চাকে আগে দেখব। এই… বাচ্চাকে এমন শিক্ষা দেব, এর বাবা চোদ্দ গুষ্টির নাম ভুলিয়ে দেব। এ লালগোলায় ৫০০ মুসলমানের লাইফ শেষ করে দিয়ে এসেছে। সত্যভাবে বলব, এই ওসিকে এখান থেকে সরানো শুধু না। একেবারে অকেজো পোস্টিং দিতে হবে। যদি না দেয়, ১০ হাজার লোক নিয়ে থানা ঘিরে, একে গলা ধরে থানা থেকে বের করব। পারলে আমাকে রুখে নেবেন।” এরপরই নওদার বিধায়ককে সতর্ক করে দেন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বিধানসভায় স্পষ্ট মন্তব্য করেন, “আপনি ধরে রাখুন, এটা ওঁর শেষ বক্তব্য।” 

Source link



Source link

Leave A Reply

Your email address will not be published.