সুনীত হালদার, হাওড়া: গত দুদিন ধরে তিনি নিখোঁজ ছিলেন। আজ সকালে তাকে রামকৃষ্ণপুর ঘাটে বসে থাকতে দেখেন তার বাবা ধ্রুবজ্যোতি সেন। তিনি সঙ্গে সঙ্গে তাকে বাড়ি নিয়ে যান। পরে হাওড়া থানাতে তাকে নিয়ে আসা হয়। পুলিশের পক্ষ থেকে আলাদাভাবে তার বয়ান রেকর্ড করা হয়। আজ তাকে হাওড়া আদালতে তোলা হবে। হাওড়া সিটি পুলিসের ডিসি সেন্ট্রাল তৌসিফ আলি আজহার নিজে দময়ন্তীর সঙ্গে কথা বলেন। তিনি জানান, ‘তার সঙ্গে তার বাবা-মায়ের পড়াশোনা এবং খেলাধুলার প্র্যাকটিস নিয়ে মনোমালিন্য হয়েছিল। তারপরই সে নিরুদ্দেশ হয়। এই দুদিন কোথায় কোথায় সে ছিলেন তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে আনন্দের কথা যে, সে সুস্থ অবস্থায় ফিরে এসেছে।’
দময়ন্তীর বাবা ধ্রুবজ্যোতি সেন বলেন, পুলিশের পক্ষ থেকে তাকে ট্রাকিং করা হয়। শ্রীরামপুর স্টেশনে একটি মেয়ের সঙ্গে তার আলাপ হয়। সে তাকে নানাভাবে সহযোগিতা করে। আজকে সকালে তার পরনের পোশাক আলাদা ছিল। তার মতে মেয়ে পড়াশোনা এবং খেলাধুলার সিডিউল নিয়ে মানসিক চাপে ছিল। সেই থেকেই এই ঘটনা হতে পারে। তবে সে এখন রাইফেল শুটিংয়ে মনসংযোগ দিতে চায়। তিনি মেয়ের ফিরে আসার ব্যাপারে তার কোচ এবং অ্যাসোসিয়েশনের কর্মকর্তাদের জানিয়েছেন। দময়ন্তী বাড়ি ফিরে আসায় স্বস্তির নিঃশ্বাস গোটা পরিবারে।
আরও পড়ুন – ৪০ ঘন্টার পর উদ্ধার দময়ন্তী সেন! কোথায় ছিলেন বাংলার শ্যুটার ?
দময়ন্তীকে খুঁজে পাওয়ার পর, সোশ্যাল মিডিয়াতে বাবা, মা ও কোচ সোশ্যাল মিডিয়াতে পোস্ট করে এই খবর দেন। দময়ন্তীর মা লেখেন, ‘আজ ভোরবেলা রামকৃষ্ণপুর ঘাট এলাকা থেকে আমার মেয়ে দময়ন্তী সেনকে সুস্থ অবস্থায় খুঁজে পাওয়া গেছে। ঈশ্বরের অসীম কৃপায় সে আমাদের কাছে ফিরে এসেছে। এই কঠিন সময়ে যারা আমাদের পাশে ছিলেন—আমাদের পরিবার আত্মীয় স্বজন,বন্ধু,সহকর্মী, পুলিশ প্রশাসন, রাজ্য সরকার, সোশ্যাল মিডিয়ার অসংখ্য মানুষ, শুভানুধ্যায়ী এবং প্রত্যেক শুভাকাঙ্ক্ষী—আপনাদের সকলের প্রতি আমাদের হৃদয়ের অন্তঃস্থল থেকে আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানাই। আমার মেয়ের প্রতি আপনাদের ভালোবাসা, প্রার্থনা, সহযোগিতা এবং অক্লান্ত প্রচেষ্টার ঋণ ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব নয়। এই দুঃসময়ে আপনারা যেভাবে আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন, সেই ভালোবাসা ও মানবিকতা আমরা কোনোদিন ভুলব না। সকলের প্রতি আবারও আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা। ঈশ্বর আপনাদের সকলের মঙ্গল করুন।’
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার সকালে বাড়ির পোশাকে দোকানে কিছু জিনিস কিনতে যাবেন বলে বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলেন। তারপর আর বাড়ি ফেরেননি উঠতি রাইফেল শ্যুটার। শ্যুটারকে শেষ দেখা যায় হাওড়া স্টেশনে। শ্যুটারের মা মৌমিতা রায় সেন সোশ্যাল মিডিয়াতে পোস্টের মাধ্যমে জানিয়েছেন, ‘সকাল ১০টায় হাওড়া স্টেশনের ৪ ও ৫ নম্বর প্ল্যাটফর্মে আমার মেয়ে দময়ন্তী সেনকে শেষবার দেখা গিয়েছে। এরপর থেকে তাকে আর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। তার পরনে ছিল গোলাপি রঙের হাফ টি-শার্ট এবং হাফ প্যান্ট।’ রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়ে গিয়েছিলেন রাইফেল শ্যুটার। নিখোঁজ নাবালিকা দময়ন্তী সেনের বাড়ি হাওড়ায়। থানায় নিখোঁজ ডায়েরি করার পর প্রায় ৪০ ঘন্টা পেরিয়ে যাওয়ার পর খোঁজ মিলল কিশোরীর।
