পার্থপ্রতিম ঘোষ, বারুইপুর, দক্ষিণ ২৪ পরগনা : বারুইপুরকাণ্ডে গ্রেফতার সিপিএম নেতা লাহেক আলি। বারুইপুরের সূর্যপুরে অশান্তির ঘটনায় গ্রেফতার সিপিএম নেতা লাহেক আলি। উস্কানির অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে লাহেক আলিকে। বারুইপুরে নাবালিকাকে ধর্ষণ করে খুন। গণপিটুনিতে যুবকের মৃত্যু। অশান্তিতে উস্কানি দেওয়ার অভিযোগ লাহেক আলির বিরুদ্ধে। গত রবিবার ৫ তারিখ অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি দেখা গিয়েছিল বারুইপুরের সূর্যপুরে। সন্দেহের বশে গণপিটুনিতে এক যুবককে মেরে ফেলা হয়। এই ঘটনার সাতদিন পর গ্রেফতার সিপিএমের রাজ্য কমিটির সদস্য লাহেক আলি। এলাকায় দীর্ঘদিনের পরিচিত সিপিএম নেতা এই লাহেক আলি।
বারুইপুরে নাবালিকাকে গণধর্ষণ করে খুনের মতো নৃশংস ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনা জানাজানি হতেই অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি তৈরি হয় বারুইপুরের সূর্যপুরে। রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় এলাকা। পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। রাস্তায় টায়ার জ্বালিয়ে প্রতিবাদ করতে থাকেন বিক্ষোভকারীরা। এই ঘটনায় ইন্ধন দেওয়ার অভিযোগে সিপিএম নেতা লাহেক আলিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বারুইপুর পশ্চিমের এবারের বিধানসভা নির্বাচনের প্রার্থী ছিলেন এই লাহেক আলি। গত রবিবার ৫ জুলাই, রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় বারুইপুরের সূর্যপুরে। ঘটনার দিন এলাকায় ছিলেন সিপিএম নেতা। গিয়েছিলেন হাসপাতালেও। ঘটনার প্রতিবাদও করেছিলেন তিনি। রবিবার ১২ জুলাই রাতে বারুইপুর থেকেই গ্রেফতার করা হয়েছে এই সিপিএম নেতাকে।
কী ঘটেছিল সেদিন
নাবালিকাকে গণধর্ষণ করে খুনের ঘটনা জানাজানি হতেই চরম বিশৃঙ্খলা শুরু হয় বারুইপুরের সূর্যপুরে। এর মধ্যেই পুকুর থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় উদ্ধার হয় নির্যাতিতার দেহ। উত্তেজনার পারদ চরমে ওঠে। বিক্ষুব্ধ জনতা পুলিশের গাড়িতে ভাঙচুর করে। হামলা চালায় ফাঁড়িতে। রেল অবরোধ করা হয়। রেল লাইনে বাঁশ, পাথর, পাত ফেলে চলে বিক্ষোভ। এর পাশাপাশি সন্দেহের বশে এক যুবককে পিটিয়ে মেরে ফেলা হয়। যুবকের নাম ইন্দ্রজিৎ মণ্ডল। বারুইপুরের ঘটনার সঙ্গে তাঁর কোনও যোগসাজশ পাওয়া যায়নি। শুধুমাত্র সন্দেহের বশে এই যুবককে পিটিয়ে মেরে ফেলা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী হুঁশিয়ারি দিয়ে স্পষ্ট জানিয়ে দেন এই অশান্তির ঘটনায়, যুবককে গণপিটুনিতে মেরে ফেলার ঘটনায় যারা জড়িত, কাউকে ছাড়া হবে না। এই ঘটনার ৭ দিনের মাথায় গ্রেফতার হলেন সিপিএম নেতা লাহেক আলি।
লাহেক আলির গ্রেফতার নিয়ে কী বলছেন সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তী
সুজন চক্রবর্তী বলছেন, ‘ঘটনার পর থেকেই লাহেক আলির বিরুদ্ধে নানাভাবে বিভিন্ন ক্ষেত্র অপপ্রচার চলছে। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবেই এটা করা হয়েছে। যখন লাহেক আলি পৌঁছেছে ঘটনা ঘটেছে তার আগে। এটা পরিকল্পিত উদ্দেশ্য নিয়ে করা হয়েছে। সরকার, পুলিশ প্রশাসন ভয় পেয়ে গেলে তো ভয় দেখানোর ব্যবস্থা করতে হয়… এটা তার খানিকটা লক্ষণ।’
