কলকাতা : রাজ্যে আসছে বিড়লা গোষ্ঠী। জানিয়ে দিলেন রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে যারা বড় ব্যবসায়ী আছেন, যারা একসময় বাংলায় ছিলেন, যদি বিড়লার কথাই আমরা বলি, তাঁদের সঙ্গে কলকাতার যে যোগাযোগ…সেই আবেগটা তাঁরা এতটা অপমানিত হওয়ার পরেও ভুলতে পারেননি। এই রাজ্যটাকে তাঁরা নিজেদের রাজ্য বলে মনে করেন। তাঁরাও আসছেন।” তাঁর সংযোজন, “আমরা অনাবাসী ভারতীয়দের কাছেও আবেদন জানিয়েছি যে, আপনারা দেশে আসুন। আমাদের বার্তা দেওয়ার আগেই তাঁরা উৎসাহ নিয়ে আমাদের কাছে আসছেন। যারা চলে গিয়েছিলেন, ইউরোপের একটা চিকিৎসকদের দল, যারা নিজেরা বিনিয়োগ করছেন এখানে হাসপাতাল তৈরি করার জন্য তাঁরা এসেছেন। এরমধ্যে ইন্দোনেশিয়ার একটা কোম্পানি যোগাযোগ করেছে। অটো মোবাইল ইন্ডাস্ট্রিতে তারা বিনিয়োগ করার জন্য আসছে।”
রাজ্যে পালাবদলের পর বিজেপির সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। রাজ্যে প্রথমবার সরকার গঠনের পর প্রথম থেকেই শিল্পের দিকে নজর দিয়েছে গেরুয়া শিবির। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এ বিষয়ে সক্রিয়তা দেখিয়েছেন। একইসঙ্গে বারবার রাজ্যে অর্থনৈতিক হাল ফেরাতে, কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে শিল্পায়নের গুরুত্বের কথা তুলে ধরছেন রাজ্য বিজেপির সভাপতি। রাজ্যে পালা বদলের পরপরই শিল্প নিয়ে বড় বার্তা দিয়েছিলেন তিনি। তিনি জানিয়েছিলেন, ‘টাটা ফিরবেই, ফেরানোর দায়িত্ব বিজেপির। পশ্চিমবঙ্গে ভারী শিল্প নিয়ে আসাই লক্ষ্য বিজেপির। সিঙ্গুরের জমির চরিত্র বদল হয়ে গেছে। সিঙ্গুরে জুয়েলারি হাব তৈরি হবে।’
দিনকয়েক আগে ডানকুতিতে লাক্স কোজির ইউনিটের শিলান্যাস অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে রাজ্যে শিল্পায়ানের লক্ষ্যে বড় বার্তা দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেছিলেন, “১০০ কোটি টাকার বেশি যারা বিনিয়োগ করবেন, কোনও পঞ্চায়েত-পুরসভা-কর্পোরেশন-জেলা পরিষদ-পঞ্চায়েত সমিতি থেকে অনুমতি নিতে হবে না।” এর কারণ উল্লেখ করতে গিয়ে তিনি বলেছিলেন, “যত গন্ডগোল ওইখানে। যত দাদাগিরি ওইখানে। যত হেনস্থা ওইখানে। যারা ১০০ কোটি টাকার বেশি বিনিয়োগ করবেন, তাঁদের সেন্ট্রালি সিঙ্গল উইন্ডো সিস্টেমে ডব্লুবিআইটিডিসি, এনভায়রনমেন্ট ডিপার্টমেন্ট, ল্যান্ড ডিপার্টমেন্ট আপনাদের NOC লাইসেন্স দেবে। আপনারা এখানে বিনিয়োগ করুন।”
তিনি আরও বলেছিলেন, “এই সরকার ত্রিস্তরীয় এমপ্লয়মেন্ট দিতে চায়। আগামী কয়েক মাসের মধ্যে ১ লক্ষ সরকারি চাকরি যেমন হবে, মেধা অনুয়ায়ী হবে। তার সঙ্গে বেসরকারি বিনিয়োগকারীরা যত এই ধরনের তাঁদের প্ল্যান্ট সম্প্রসারণ করবেন, নিউ প্ল্যান্ট লাগাবেন, এই প্ল্যান্টকে কেন্দ্র করে অনুসারী শিল্প তৈরি হবে, তত বেশি করে আমাদের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ কর্মসংস্থান তৈরি হবে। অনেক ছেলে-মেয়েরা চায়, লিমিটেড আয়ের চাকরি করব না। ব্যবসা করব, পরিশ্রম করব। লোন নেব, লোন শোধ করব। তার মাধ্যমে অনেক টাকা রোজগার করব। তাই আমাদের সরকার …সরকার গ্যারান্টার থাকবে…অল্প সুদের লোন…আমরা দিয়ে এই রাজ্যে শুধু লাখপতি দিদি নয়, লক্ষ লক্ষ গুড বিজনেসম্যান তৈরি করার পরিকল্পনা নিয়েছি।”
