Voice of Eastern India

পুজোর থিম ‘বাম-বধ’, ফেস্টুন-ব্যানারে হুঁশিয়ারি পুজো কমিটির, শতরূপ বলছেন, ‘আমাদের যা করার আমরা করে নেব’


কলকাতা : পুজো মণ্ডপে বইয়ের স্টল করতে দেওয়া হবে না। মুখ্যমন্ত্রীর হুঁশিয়ারির পর এবার ফেস্টুন-ব্যানারে এই বার্তা দিয়ে এবার ‘বাম বধের’ হুঁশিয়ারি দিল কামারডাঙা সাধারণ দুর্গোৎসব সমিতি। ঘটনাকে ঘিরে ফের শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা। সম্প্রতি মুখ্যমন্ত্রীর মুখে শোনা গেছে এই হুঁশিয়ারি। এবার একধাপ এগিয়ে ফেস্টুন-ব্যানার দিয়ে ‘বাম বধের’ হুঁশিয়ারি দিল এন্টালির কামারডাঙা সাধারণ দুর্গোৎসব সমিতি, যাদের এবারের থিম ‘হিন্দু সনাতন রাষ্ট্র’। বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেছিলেন, পুজো মণ্ডপের কাছে বইয়ের স্টল করতে গেলে শারদোৎসব- এর পরিবর্তে দুর্গাপুজো লিখতে হবে। নাহলে বামপন্থীদের যেন কোনও বইয়ের স্টল করতে না দেওয়া হয়। 

‘চড়-কাণ্ডে’ সাফাই মন্ত্রীর, সমাজ মাধ্যমে ভিডিও দিয়ে বললেন, ‘আমায় উস্কানি দিয়েছে, পরিবার নিয়ে…’ 

পুজোর সময় বামপন্থীদের বইয়ের স্টল দেওয়ার রেওয়াজ দীর্ঘদিনের। এবার তা নিয়ে হুঁশিয়ারির সুর শোনা গিয়েছে শুভেন্দু অধিকারীর গলায়। মুখ্যমন্ত্রীর হুঁশিয়ারির পর হুঁশিয়ারি দিল পুজো কমিটিও, যার সমালোচনায় সরব হয়েছে বিরোধীরা। পুজোর বাকি আর আড়াই সপ্তাহ। বামেদের বইয়ের স্টল নিয়ে চলছে রাজনৈতিক তরজা। এন্টালি বিধানসভার অন্তর্গত কামারডাঙ্গা সাধারণ দুর্গোৎসব সমিতির পুজো এবার পা দিয়েছে ১০৭ বছরে। সেই বছরেই নতুন বার্তা দিয়ে বিতর্কে পুজো কমিটি। ক্লাবের সভাপতি সুরজ কুমার সিং বলছেন, ‘আমরা ঠিক করেছি এবছর এখানে কোনও বামপন্থীদের স্টল লাগাতে দেব না। বিভিন্ন সময়ে আমরা দেখেছি বামপন্থীরা কীভাবে হিন্দু বিরোধী… বারবার হিন্দু ধর্মকে এরা আঘাত করে। এখানে কোনও বামপন্থীদের স্টল লাগাতে দেব না। বাম-বধ হবে। এবার থেকে আমাদের স্লোগান বা থিম লাইন বলুন, আমরা এটা ঠিক করেছি বাম-বধ।’ 

এই প্রসঙ্গে সিপিএম নেতা শতরূপ ঘোষ বলছেন, ‘ওদের প্যান্ডেলের আশপাশের জায়গাগুলো তো ওদের বাবারা ওদের নামে লিখে দিয়ে যায়নি যে ওরা ঠিক করবে কাদের বসতে দেবে, আর কাদের বসতে দেবে না। মুখ্যমন্ত্রী ভীতু, মুখ্যমন্ত্রী দুর্বল। সেই কারণে মুখ্যমন্ত্রী পুলিশকে বলতে পারতেন কোনও বুক স্টলের জন্য অনুমতি দেবেন না। তারপর আমরা বুঝে নিতাম। পুলিশকে এবং মুখ্যমন্ত্রীকে একসঙ্গে আদালতে টেনে নিয়ে যেতাম। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী জানেন যে ওনার এইসব হুমকি দেওয়ার কোনও সাংবিধানিক অধিকার নেই বলেই উনি পুলিশের ঘাড়ে বা নিজের ঘাড়ে বন্দুক না রেখে পুজো কমিটিগুলোর ঘাড়ে বন্দুকটা রেখে দিয়েছেন। আমাদের যা করার আমরা করে নেব। এইসব পুজো কমিটি আজকে আছে, কালকে নেই। বামপন্থীরা ছিল, আছে, থাকবে।’ 

Source link



Source link

Leave A Reply

Your email address will not be published.