কলকাতা ও সিউড়ি : “কর্থাবার্তা শুনে, অনুব্রতবাবুর বডি ল্যাঙ্গুয়েজ দেখে বোঝাই যাচ্ছে সব ওদের পরিচিত লোক। নিজেদের লোক।” অনুব্রত মণ্ডলের সামনেই সিউড়ির পার্টি অফিসে হামলা চালানো তিন যুবকের বিজেপি-যোগের অভিযোগ উড়িয়ে বললেন বিজেপি নেতা দেবজিৎ সরকার। হামলাকারীদের মধ্যে থেকে ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগান শোনা যাওয়ার বিষয়টি সামনে আসার পর থেকে তাদের পরিচয় জানার চেষ্টা চলছে। পুলিশ যখন তাদের আটক করে সেই সময় হামলাকারীদের মধ্যে থেকে একজন ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগান তোলেন। এ প্রসঙ্গে দেবজিৎ সরকার বলেন, “অনুব্রতবাবু সিউড়ি এবং বীরভূমের বেতাজ বাদশা ছিলেন। তিনি বীররসে সবসময় নিজেকে নিমজ্জিত রাখতেন। তাঁর পুলিশকে বোমা মারার কথা, চড় মারার কথা, লোককে গাঁজা কেস দেওয়ার কথা, এগুলো মানুষ ভোলেনি। তারপরে যেভাবে লুঠ হয়েছে সেই লুঠের ভাগ নিয়ে ওদের মধ্যে সবাই ক্ষেপে আছে। ভিডিওতে যেরকম দেখা গেছে শুনেছি, তাতে বোঝাই যাচ্ছে মুখে শুধুমাত্র এই স্লোগানটা দিয়েছে তার কারণ হচ্ছে, এটাতে বিজেপি বিজেপি একটা ফ্লেভার আনার জন্য। এরা আসলে বিজেপির লোক নয়। বিজেপি এইভাবে গিয়ে যদি ঘরে ঢুকত, আর অনুব্রতবাবু বসে তাড়িয়ে তাড়িয়ে জিনিসটা দেখছেন…মনে হচ্ছে না…কী লজ্জার কথা…এরকম কিছু উনি বলছেন না। বসে বসে সেটা সহ্য করছেন। এটা একটা অদভূত ব্যাপার। তাঁকে কেউ বাঁচাতে আসছে না এটা একটা অদভূত। সবাই চেনে । কর্থাবার্তা শুনে, অনুব্রতবাবুর বডি ল্যাঙ্গুয়েজ দেখে বোঝাই যাচ্ছে সব ওদের পরিচিত লোক। নিজেদের লোক। তৃণমূলের লোকেরাই তৃণমূলের লোকদের ধমকাচ্ছে। দেখুন, কোথাও টাকা-পয়সা পাওয়ার আছে বা দেওয়ার আছে, সেই লেনদেনের ব্যাপার। সেইজন্য এসব হয়েছে।”
ঘটনাটা কী ?
রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর এই প্রথমবার অনুব্রত মণ্ডল এদিন সিউড়ি গিয়েছিলেন। পৌনে ৫টা নাগাদ সিউড়িতে পৌঁছান তিনি। এই খবর পাওয়ার পর ১৫-২০ মিনিট পর তিনজন যুবক মুখে কাপড় বেঁধে পার্টি অফিসে ঢুকে পড়ে। প্রথমে নীচের তলায় ঢুকে অনুব্রতর খোঁজ করে। সেই সময় পার্টি অফিসে যারা ছিলেন, তাঁরা চমকে যান। কারণ, তিনজনের হাতেই ছিল লাঠি। অনুব্রত মণ্ডল উপরে আছে বলে তাদের জানানো হয়। উপরে ওঠার সময়ই তারা ভাঙচুর চালাতে চালাতে ওঠেন। উপরে উঠে তারা দেখে, অনুব্রত মণ্ডল সামনে ঘরে বসে আছেন। সেখানে ঢুকেই প্রথমে সামনে রাখা চেয়ারে ভাঙচুর চালায় তারা। কিছু দূরেই টেবিলে বসে থাকা কেষ্ট হতবাক হয়ে যান। এরপর অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করে ওই যুবকরা। অনুব্রতর সামনে থাকা টেবিলেও তারা ভাঙচুর চালায়। একের পর এক বাড়ি মারা হয় বড় চ্যালাকাঠ দিয়ে। দুই যুব ক্রমাগত লাঠি চালিয়ে যাচ্ছিল টেবিল-চেয়ারে। সেই সময় অনুব্রত মণ্ডল চেয়ারেই বসে ছিলেন। তিনি হামলার মুখেও ওঠেননি। অনুব্রতর আশপাশে তখন পার্টি অফিসে আরও অনেকে ছিলেন। তাঁদের সামনে ঘটে পুরো ঘটনা। এই সময় অনুব্রতকে কলার ধরেও শাসাতে দেখা এক যুবককে। দুই যুবক যখন সমানে হামলা চালাচ্ছিল, তখন অপর একজন ঘটনার ভিডিও করে যাচ্ছিল। ঘটনার কথা পুলিশকে জানানো হয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে আসে। পুলিশ এসে তিনজনকে আটক করে গাড়িতে তোলে। সেইসময় ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগান দিতে দিতে গাড়িতে উঠে যায়। এদের পরিচয় এখনও পরিষ্কার নয়। তবে, এরা স্থানীয় বলে জানা যাচ্ছে।
Rosevalley News | রোজভ্যালির আমানতকারীদের টাকা ফেরতে চূড়ান্ত সময় বেঁধে দিল হাইকোর্ট
