কৃষ্ণেন্দু অধিকারী, কলকাতা : অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের চোখের চিকিৎসার জন্য বিদেশ যাওয়ার আর্জি খারিজ হয়ে গেছে কলকাতা হাইকোর্টে। এই আবহে চাঞ্চল্যকর দাবি করলেন মদন মিত্র। তাঁর দাবি ঘিরে চরমে চাপানউতোর।
হাইকোর্টের নির্দেশের পরও SSKM-এ চিকিৎসা করাতে যাননি। নির্দেশ চ্যালেঞ্জ করে ছুটেছিলেন সুপ্রিম কোর্টে। কিন্তু সেই মামলা ফিরিয়ে দেয় সর্বোচ্চ আদালত। এবার কলকাতা হাইকোর্টেও বড়সড় ধাক্কা খেলেন অভিষেক বন্দ্য়োপাধ্য়ায়। চোখের চিকিৎসার জন্য অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিদেশ যাওয়ার অনুমতি দিলেন না বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য। আর এই আবহেই বিস্ফোরক দাবি করলেন মদন মিত্র। তিনি বললেন, “আমাদের যে চিন্তাধারাটা ছিল যে আমরা সরাসরি অভিষেকের সঙ্গে কথা বলব। অভিষেক চুপ করে শুনছে। ওকে আমরা পুরো বুঝিয়ে বললাম যে তুই ছাড়লে, তোর উপর থেকে রাগটা বেরিয়ে যাবে। সবটা শুনে অভিষেক বলল একটা কাজ করো, তুমি ওদের বলো, আমার বিদেশ যাত্রার পারমিশনটা দিয়ে দিতে। কথা হচ্ছে রাজনীতি থেকে নিজেকে একটু সরিয়ে রাখার, কিছু দিনের জন্য। তখন হঠাৎ বলল, তাহলে তুমি বলো যে ওদের এদিকে বলতে, বিরোধিতা না করতে আমার পিটিশনটা। আমেরিকা আমার যাওয়ার আছে। ছেড়ে দিক, আমি ট্রিটমেন্ট করাতে যাব। তাড়াতাড়ি ফিরে আসব। আমি যদি পলিটিক্স থেকে সরতে পারি কিছুদিনের জন্য, ওরা আমার ট্রিটমেন্ট করতে দেবে না কেন?”
সত্য়িই কি তাহলে বিদেশ যেতে মরিয়া হয়ে উঠেছিলেন অভিষেক বন্দ্য়োপাধ্য়ায় ? বিজেপির সঙ্গে সেটিং পর্যন্ত করতে রাজি ছিলেন তিনি ? এই প্রসঙ্গে আরও চাঞ্চল্য়কর দাবি করেছেন মদন মিত্র। তিনি বলছেন,”এটা ধরে নিয়েই বলছে, আমাদের জন্য খুব দুর্ভাগ্যজনক, এটা ধরে নিয়েই বলছে যে, আমাদের শুভেন্দু পাঠিয়েছে। মানে আমরা শুভেন্দুর লোক হয়ে গেছি। আমাদের শুভেন্দু পাঠিয়েছে, ব্যাপারটা তাই দাঁড়াচ্ছে। কুণাল ছিল পুরোটাই, আর কেউ ছিল না, নো থার্ড পার্টি, নো ফোর্থ পার্টি। তারপরে বলতে লাগল পেন্ডিং মামলাগুলো তুলে দিক। আমার জামিনটা বিরোধিতা করছে, ওটা ছেড়ে দিক।” এখানেই থামেননি মদন মিত্র। আরও ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য় করেছেন তিনি।
এবিপি আনন্দর তরফে তাঁকে প্রশ্ন করা হয়, আপনি এবং কুণাল ঘোষ যে প্রস্তাব দিয়েছিলেন, সেটা তো অভিষেক বন্দ্যোপাধ্য়ায় মানেননি…? উত্তরে মদন মিত্র বলেন, “শুধু মানেননি নয়, আমাদের বলেছিলেন কথা বলে জানাতে। পরের দিন জিজ্ঞাসা করেছেন, ‘কী হল বলল?’ আমাদের শুভেন্দুর সঙ্গে কথা বলে জানাতে বলেছিল। শুভেন্দুর সঙ্গে কথা বলে জানাও ওরা কী সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। তার পরের দিন আমাদের বলল, ‘কী হল ? বলেছিলাম না, ওরা ছাড়বে না। আমার ট্রিটমেন্ট করার জন্য বিদেশ যেতে দেবে না।’ মদন মিত্রর দাবি ঘিরে রহস্য় আরও ঘনীভূত হল।
