কলকাতা : “চিহ্নিত হয়ে গেছে। কয়েকটা দিন অপেক্ষা করুন। এদের কী করতে হয় আমি জানি।” ধর্মতলায় NEET-বিক্ষোভে অশান্তি নিয়ে কড়া বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। একই রুটে ১৪ হাজার লোক নিয়ে তিরঙ্গা যাত্রার ঘোষণাও করেন তিনি।
কী বললেন মুখ্যমন্ত্রী ?
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “শুক্রবার দিন, বিশেষ দিন। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বলেন না…শুক্রবার সব ছাড় আছে। ওই শুক্রবারের লোকেরাই করেছে। চিহ্নিত করেছি। মার্ক করেছি। এদের সঙ্গে নিটের কোনও সম্পর্ক নেই। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী যিনি এখানে হেরেছেন, তিনি বারবার বলেন না, শুক্রবার…শুক্রবার তো ওরা একটু করবে। তাই, আজ সাংবাদিকরা আক্রান্ত হয়েছেন। আমি আপনাকে বলি, শুক্রবারীরা যারা করেছে চিহ্নিত হয়ে গেছে। কয়েকটা দিন অপেক্ষা করুন। এদের কী করতে হয় আমি জানি। ওই একই রাস্তায় সোমবার দিন উত্তর কলকাতা বিজেপি…আজ ৭ হাজার লোক জড়ো করেছিল…১৪ হাজার লোককে নিয়ে তিরঙ্গা যাত্রা করবে ওই রাস্তায়। আমি উত্তরবঙ্গে থাকব। উত্তর কলকাতায় তমোঘ্ন ঘোষ, তাপস রায়, রীতেশ তিওয়ারিদের নেতৃত্বে।”
প্রেক্ষাপট…
নিটের প্রশ্নফাঁসের প্রতিবাদে ধর্মতলায় একাধিক বামপন্থী ছাত্র সংগঠনের ডাকে কলেজ পড়ুয়া থেকে অভিভাবকদের বিক্ষোভ-মিছিল। আন্দোলনে যোগ দেন ককরোচ জনতা পার্টির পার্টির সদস্যরাও। আর বিক্ষোভ ঘিরে বিকেলে রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় ধর্মতলা।
নিটের প্রশ্নফাঁস নিয়ে আন্দোলনের সমর্থনে আন্দোলন-বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে ধুন্ধুমার বাঁধল কলকাতায়। বিক্ষোভের ভিতর থেকে পুলিশকে লক্ষ্য় করে ইট-জুতো-বোতল ছোড়া হয়। পাল্টা লাঠি উঁচিয়ে ছুটে যায় পুলিশ। এর আগে শুক্রবার দুপুরে একাধিক বামপন্থী ছাত্র সংগঠনের ডাকে শিয়ালদা স্টেশন থেকে মিছিলে যোগ দেন হাজার হাজার কলেজ পড়ুয়া থেকে অভিভাবকরা। মিছিলে যোগ দেন ককরোচ জনতা পার্টির পার্টির সদস্যরা।
মুখে মুখে স্লোগান। কালো মাথার ভিড়। মণীষীদের ছবি দেওয়া প্ল্য়াকার্ড…পোস্টার…ফুল হাতে বিশাল মিছিল। GET WELL SOON SYSTEM লেখা প্ল্য়াকার্ড ও ফুল হাতে মিছিলে হাজির হতেও দেখা যায়। এক আন্দোলনকারী ছাত্র বলেন, “আমরা শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ চাইছি। যেভাবে ছাত্রদের গণতান্ত্রিক আন্দোলনে ছাত্রদের ওপর আক্রমণ করা হচ্ছে, অবিলম্বে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ চাই এবং অগণতান্ত্রিক এনটিএ বাতিল করতে হবে। এই দাবিতে সারা রাজ্যজুড়ে, সারা দেশজুড়ে আন্দোলন হচ্ছে।”
শিয়ালদা থেকে মিছিল শুরু করে মৌলালি এস এন ব্যানার্জি রোড হয়ে মিছিল পৌঁছয় ধর্মতলার ডোরিনা ক্রসিং-এ। এরপর ডোরিনা ক্রসিং-এই বসে পড়েন আন্দোলনকারীরা। তার কিছুক্ষণ বাদেই ধুন্ধুমার পরিস্থিতি তৈরি হয়।
