Voice of Eastern India

Coochbehar News : ভোটের ফল ঘোষণার পর বিধায়ক স্ত্রীকে নিয়ে বাড়ি ফিরতেই বিক্ষোভের মুখে সাংসদও, ছাড়তে হল এলাকা


শুভেন্দু ভট্টাচার্য, আশাবুল হোসেন ও দীপক ঘোষ, সিতাই : ভোটের ফলাফলের পর প্রথমবার কোচবিহারে সিতাইয়ের গিয়ে বিক্ষোভের মুখে পড়লেন NCPI সাংসদ জগদীশচন্দ্র বসুনিয়া ও তাঁর বিধায়ক-স্ত্রী সঙ্গীতা রায় বসুনিয়া। যিনি বর্তমানে ঋতব্রত শিবিরে। বাড়িতে ঢোকার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে এলাকা ছাড়তে হল তাঁদেরকে। এনিয়ে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর। 

পশ্চিম মেদিনীপুরের কেশপুর থেকে কোচবিহারের সিতাই, একই দিনে নিজেদের এলাকায় বিক্ষোভের মুখে পড়লেন ঋতব্রত-তৃণমূলের-এর দুই বিধায়ক 
ও এক NCPI সাংসদ….। প্রবল বিক্ষোভ, স্লোগান, এলাকায় তীব্র উত্তেজনা। কোচবিহারের সিতাইয়ে, নিজেদেরই পৈতৃক বাড়িতে ঢুকতে গিয়ে, সোমবার রাতে প্রবল বিক্ষোভের মুখে পড়েন NCPI সাংসদ জগদীশচন্দ্র বসুনিয়া ও তাঁর বিধায়ক-স্ত্রী সঙ্গীতা রায় বসুনিয়া। যিনি বর্তমানে ঋতব্রত শিবিরে। নিজেদেরই পরিষদীয় এলাকায় সাংসদ ও বিধায়ককে শুনতে হল ‘গো ব্যাক’ স্লোগান। বাড়িতে ঢোকার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে এলাকা ছাড়তে হল তাঁদের।

২০২৪ সালে, তৃণমূলের টিকিটে কোচবিহারের সাংসদ হন জগদীশচন্দ্র বসুনিয়া। কিন্তু রাজ্যে পালাবদলের পর মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায়ের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে NCPI-তে নাম লিখিয়েছেন। এদিকে, ছাব্বিশের নির্বাচনে তৃণমূলের টিকিটে জিতে সিতাইয়ের বিধায়ক হন তাঁর স্ত্রী সঙ্গীতা রায় বসুনিয়া। কিন্তু কয়েকদিনের মধ্যেই, ‘ঋতব্রত তৃণমূল’ শিবিরে যোগ দেন। ৪ তারিখ ভোটের ফলাফল ঘোষণার পর থেকেই, কোচবিহারের সিতাইয়ের এই বাড়িতে জগদীশ বসুনিয়া কিংবা তাঁর স্ত্রী, কেউই আসেননি আর।

সোমবার রাত ১১টা। অন্ধকারে পুলিশি নিরাপত্তা নিয়ে নিজের এলাকায়, সিতাইয়ে পৈতৃক বাড়িতে আসেন দু’জনে। বসুনিয়া দম্পতিকে পাড়ায় ঢুকতে দেখেই ক্ষোভে ফেটে পড়ে স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের সঙ্গে বিজেপি কর্মীদের একাংশও ছিলেন বলে অভিযোগ। এ প্রসঙ্গে কোচবিহার জেলা বিজেপির সম্পাদক বিউটি রায় বলেন, “জনগণ ওঁদের দেখে বিক্ষোভ করেছে। কী কারণে ? অন্য়ায় অত্য়াচার করেছেন। সেই জায়গায় ওঁরা কালকে বাড়িতে ফিরে ৪ ঘণ্টাও টিকতে পারলেন না। দেখুন এর সঙ্গে বিজেপির নেতা নেত্রীর কোনও সম্পর্ক নেই।”

রাত ২টো নাগাদ সিতাই ছাড়েন সস্ত্রীক জগদীশ বসুনিয়া। এরপর কোচবিহার শহরে ফ্ল্যাটে গিয়ে ওঠেন তাঁরা। এনিয়ে ‘কালীঘাট তৃণমূল’-এর তরফে কুণাল ঘোষ বলেন, “সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী হিসাবে জিতেছেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতীকে…মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি ব্যবহার করে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতিনিধি হিসাবে বিজেপি-বিরোধী ভোট পেয়ে জিতেছেন। এবং তারপরে বিশ্বাসঘাতকতা করছেন, গদ্দারি করছেন। কেউ দিল্লিতে গিয়ে এমপি হিসাবে, কেউ এমএলএ হিসাবে বিধানসভায় গিয়ে। সাধারণ মানুষ এবং দলের কর্মীরা বিশেষভাবে এই বিশ্বাসঘাতকতা নিতে পারছেন না। সেই কারণেই হয়তো সমস্যায় পড়েছেন।” 

NCPI সাংসদ জগদীশচন্দ্র বসুনিয়াকে একাধিকবার ফোন করা হলেও, তিনি ফোন ধরেননি।  

Source link



Source link

Leave A Reply

Your email address will not be published.