ফোর্ট উইলিয়ামের ম্যাপ, ভিডিও, ভারতের রেল নেটওয়ার্কের ছবি পাচার পাকিস্তানে! হাবড়া থেকে জঙ্গিকে ধরতেই কী কী জানা গেল?
কলকাতা: স্বাধীনতা দিবসের ৩ দিন আগে, ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত লাগোয়া হাবড়া থেকে পাকিস্তানি জঙ্গি সন্দেহে গ্রেফতার হয়েছে রানা রউফ, ওরফে ওয়াহাব আলম।
ফোর্ট উইলিয়ামের ম্যাপ, ভিডিও, ছবি জোগাড় করে, পাকিস্তানের গুপ্তচর সংস্থা ISI-এর কাছে পাচার করা হয়েছিল! পাকিস্তানি জঙ্গি সন্দেহে ধৃত রানা রউফের বিরুদ্ধে সামনে আসছে মারাত্মক অভিযোগ! STF সূত্রে খবর, BSF-এর মুভমেন্ট, ভারতীয় সেনাবাহিনীর গতিবিধি, ভারতীয় রেলওয়ের নেটওয়ার্ক… এগুলোতেও নজর রাখছিল সন্দেহভাজন ওই জঙ্গি।
বারাসাত আদালতের সরকারি আইনজীবী প্রসেনজিৎ রানা বলেন, ১৫ অগাস্ট একটা নাশকতা করার বড়রকমের পরিকল্পনা ছিল বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। স্বাধীনতা দিবসের ৩ দিন আগে, ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত লাগোয়া হাবড়া থেকে পাকিস্তানি জঙ্গি সন্দেহে গ্রেফতার হয়েছে রানা রউফ, ওরফে ওয়াহাব আলম।
এবার তার বিরুদ্ধে সামনে আসছে মারাত্মক অভিযোগ। STF সূত্রে খবর, ফোর্ট উইলিয়ামের ম্যাপ, ভিডিও, ছবি জোগাড় করে, পাকিস্তানের গুপ্তচর সংস্থা ISI-এর কাছে পাঠিয়েছিল সে। শুধু তাই নয়, বর্ডার সিকিওরিটি ফোর্স বা BSF-এর মুভমেন্ট…ভারতীয় সেনাবাহিনীর গতিবিধি, ভারতীয় রেলওয়ের নেটওয়ার্ক… এগুলোতেও নজর রাখছিল সে। এ সংক্রান্ত ভিডিও ও নথি জোগাড়ের দায়িত্বে ছিল পাক-জঙ্গি সন্দেহে ধৃত রানা রউফ।
তবে কি নাশকতা বা অন্য় কোনও চক্রান্তের পরিকল্পনা ছিল? উঠছে প্রশ্ন। STF সূত্রে খবর, সন্দেহভাজন জঙ্গির মোবাইল ফোন থেকে মিলেছে পাকিস্তান, বাংলাদেশ, নেপাল, শ্রীলঙ্কার একাধিক মোবাইল নম্বর…সেই সব নম্বর থেকে চ্যাটও করা হয়েছিল। ধরা পড়ার আগে সেই চ্যাট ও নম্বর ডিলিট করে দেওয়া হয়।
সরকারি আইনজীবী, বারাসাত আদালতের সরকারি আইনজীবী প্রসেনজিৎ রানা বলেন, ২ জন পাকিস্তানি জঙ্গি, যারা দীর্ঘদিন ধরে ভারতের বুকে প্রবেশ করে, কলকাতায় ঘাপটি মেরে ছিল। এবং ওরা এই ১২ তারিখে কলকাতা ও তার আশেপাশে দক্ষিণেশ্বর, বিভিন্ন জায়গায় ছিল। বিভিন্ন ছত্রছায়ায় এরা ছিল। পাকিস্তানি যে ডকুমেন্ট আছে, তার কিছু কিছু ডকুমেন্ট এরা ডিলিট করে দিয়েছে। মোবাইল ডেটা, কিছু কমিউনিকেশন, বিভিন্ন চ্যাট এগুলো কিছু পাওয়া গেছে’।
STF সূত্রে খবর, পাক-জঙ্গি সন্দেহে ধৃত রানা রউফের কাছ থেকে মিলেছে পাকিস্তানের পাসপোর্ট। এছাড়া একটি ভোটার কার্ড। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘এগুলো লাগাতার হত। সেফ প্যাসেজ ছিল বাংলাদেশ থেকে যাতায়াত করার। বাংলাদেশ তো জঙ্গিদের ঘাঁটিতে পরিণত হয়েছে। তারা পশ্চিমবঙ্গকে সেফ করিডর হিসেবে ব্যবহার করত। আগে বাইরের রাজ্যের পুলিশ এসে এগুলো অ্য়াকশন নিত। এখন পশ্চিমবঙ্গ পুলিশকে করতে দেওয়া হচ্ছে, তাই আপনাদের সামনে এগুলো আসছে।’
মঙ্গলবার রাতে, হাবড়ার চোংদা মোড় থেকে ধরা পড়ে সন্দেহভাজন এই পাকিস্তানি জঙ্গি। STF সূত্রে খবর, হাবড়া থেকে পেট্রাপোল-বেনাপোল হয়ে বাংলাদেশ ঢুকে, সেখান থেকে সোজা নেপালের কাঠমান্ডু যাওয়ার ছক ছিল পাক-জঙ্গি সন্দেহে ধৃত রানা রউফের। ধৃতকে ১৪ দিনের জন্য STF-এর হেফাজতে পাঠিয়েছে আদালত।
