Voice of Eastern India

Cyclone Alert : পুজোর পরই ভয়ঙ্কর ঝড় ? দুর্যোগে এলোমেলো হবে দেশ ? চরম প্রভাব কোন কোন পর্যটন কেন্দ্রে?


বর্ষা বিদায় নেওয়ার সময় এসে গিয়েছে। পুজো পুজো গন্ধ জোরদার। আর পুজোর ছুটি মানেই বেড়ানোর মরসুম শুরু। ডিসেম্বর মাস অবধি পর্যটনের রমরমা মরসুম। কিন্তু এবার আগামী তিন মাস প্রকৃতি কি লন্ডভন্ড করতে পারে সব প্ল্যান? ISRO-র প্রতিবেদন অনুসারে তেমন সম্ভাবনাই কি জোর দার হচ্ছে ?  ভারত উপমহাদেশের তিন দিকে তিন সাগর। ভারত মহাসাগর, বঙ্গোপসাগর এবং আরব সাগর। উত্তর ভারত মহাসাগরে একাধিক ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টি হলে কি তার প্রভাব সরাসরি পড়বে পশ্চিমবঙ্গের আবহাওয়ায় ? বঙ্গোপসাগরের উপর কি দানা বাঁধতে পারে বড় কোনও ঝড়? এ বিষয়ে বিস্তারিত জানালেন আবহবিদ রবীন্দ্র গোয়েঙ্কা। 

 ইসরোর প্রকাশিত এক রিপোর্ট বলছে, বছরের শেষে আসতে পারে মারাত্মক ঝড়।  ২০২৬ এর  শেষ তিন মাসে উত্তর ভারত মহাসাগরের উপর তৈরি হতে পারে তিন-তিনটি ঘূর্ণিঝড়।  অক্টোবর থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে প্রায় তিনটি ক্রান্তীয় ঘূর্ণিঝড় তৈরি হতে পারে। জানিয়েছে, ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা (ISRO)-র অধীন স্পেস অ্যাপ্লিকেশনস সেন্টারের (SAC)। ISRO-র Meteorological & Oceanographic Satellite Data Archival Centre (MOSDAC) একটি গ্রাফ প্রকাশ করেছে। সেই অনুসারে, বর্ষা পরবর্তী মরশুমে উত্তর ভারত মহাসাগরে তিনটি ট্রপিক্যাল সাইক্লোন তৈরি হতে পারে।  এই ঘূর্ণিঝড়গুলোর সম্মিলিত শক্তি মারাত্মক হতে পারে। 

উত্তর ভারত মহাসাগরের কোনও একটি জায়গায় যদি ঘূর্ণিঝড় তৈরি হয়, তাহলে তার প্রভাব পড়তে পারে অনেক দূর পর্যন্ত। একটি সিস্টেম কোথায় তৈরি হচ্ছে, কতটা শক্তিশালী হচ্ছে, কোন পথে এগোচ্ছে এবং শেষ পর্যন্ত কোথায় স্থলভাগে ঢুকছে, এসবের উপর নির্ভর করে তার প্রভাব কতদূর ছড়াবে। তাই এই কারণেই অনেক আগে থেকে শুধু ‘ঘূর্ণিঝড় অমুক জায়গায় আছড়ে পড়বে’ ধরে নিয়ে ভ্রমণের পরিকল্পনা করা ঠিক নয়। অনেকেরই ধারণা থাকে, অন্ধ্রপ্রদেশ বা ওড়িশার দিকে ঘূর্ণিঝড় গেলে বাংলায় বিশেষ কোনও সমস্যা হবে না। বাস্তবে ছবিটা এতটা সরল নয়।

সেপ্টেম্বরেও দেখা গিয়েছে, কোনও সিস্টেম সরাসরি পশ্চিমবঙ্গের উপকূলে আছড়ে না পড়েও বাংলার আবহাওয়ায় যথেষ্ট প্রভাব ফেলেছে। কিছুদিন আগেই যে  গভীর নিম্নচাপ দানা বেঁধেছিল, তখন তার প্রভাব পড়েছিল দেশের বিস্তীর্ণ এলাকায়। অর্থাৎ, ঘূর্ণিঝড় কোথায় ল্যান্ডফল করছে, শুধু সেটাই দেখলে হবে না। তার চারপাশের বিশাল মেঘের ক্ষেত্র, বাতাসের গতিপথ, আর্দ্রতা এবং অন্য প্যারামিটারগুলিও গুরুত্বপূর্ণ।   

ধরুন, কেউ দার্জিলিং যাওয়ার পরিকল্পনা করেছেন । যে ঘূর্ণিঝড়টি অন্ধ্র উপকূলের দিকে যাচ্ছে, সেটি দার্জিলিংয়ে গিয়ে আছড়াবে না। কিন্তু সেই সিস্টেমের প্রভাবে উত্তরবঙ্গে ভারী বৃষ্টি শুরু হলে পাহাড়ে ধস নামতে পারে, রাস্তা বন্ধ হয়ে যেতে পারে, নদীর জল বাড়তে যে কেউ। আবার সমুদ্রের কাছাকাছি জায়গাগুলিতে ঘূর্ণিঝড় বা শক্তিশালী নিম্নচাপের প্রভাব তুলনামূলকভাবে দ্রুত বোঝা যায়। দিঘা থেকে মন্দারমণি, পুরো উপকূলীয় বেল্টেই তখন সমুদ্র অশান্ত হয়ে উঠতে পারে। বাতাসের গতি বাড়তে পারে। আচমকা ভারী বৃষ্টি হতে পারে। সমুদ্র উত্তাল থাকায় সৈকতে নামার বিষয়ে সতর্ক থাকতে হতে পারে।  

তবে একথা বলার অপেক্ষা রাখে না যে, আবহাওয়া খুব দ্রুত বদলায়। বিশেষ করে ঘূর্ণিঝড় বা নিম্নচাপের ক্ষেত্রে সিস্টেম তৈরি হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তার গতিপথ, শক্তি এবং প্রভাব সম্পর্কে পূর্বাভাস আরও পরিষ্কার হয়। তাই বেড়াতে যাওয়ার আগে স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশিকা, আবহাওয়া দফতরের আপডেট দেখা নেওয়া দরকার।  

Source link



Source link

Leave A Reply

Your email address will not be published.