মনোজ বন্দোপাধ্যায়, দুর্গাপুর: ফের দুর্গাপুরে (Durgapur) চলল বুলডোজার। রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা দুর্গাপুর স্টিল প্লান্টয়ের জমিতে তৃণমূলের কার্যালয় তৈরি হয়েছিল।
দুইদিন আগেই গ্রেফতার করা হয় তৃণমূলের দুর্গাপুর ১ নম্বর ব্লক সভাপতি রাজীব ঘোষকে। এবাক দুর্গাপুর পৌরসভার ১০ নম্বর ওয়ার্ডের বিদায়ী কাউন্সিলর রাজীবের দলীয় কার্যালয় অর্থাৎ ব্লক কার্যালয় ভাঙার জন্য বুলডোজার এসে ভাঙ্গার প্রক্রিয়া চলানো হয়েছে। দুর্গাপুর পশ্চিম বিধানসভায় প্রাক্তন পঞ্চায়েত মন্ত্রী প্রদীপ মজুমদার কিন্তু এই কার্যালয় থেকেই ভোট পরিচালনা করেছিলেন গত বিধানসভা ভোটে।
নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই কিন্তু অবৈধ নির্মান ভাঙায় তৎপরতা দেখিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, পুর-নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল, সকলেই এর আগে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছিলেন কোনও বেআইনি নির্মাণ বরদাস্ত করা হবে না। প্রয়োজনে ভেঙে ফেলা হবে। অবৈধ নির্মাণে ‘জ়িরো টলারেন্স’ নীতি নিয়েছে রাজ্য সরকার। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নির্দেশের পরই অবৈধ নির্মাণ চিহ্নিত করে নোটিস পাঠানোর পর রবিবার ভাঙার কাজও শুরু করে দিয়েছিল কলকাতা পুরসভা। জায়গায় জায়গায় শুরু হয়েছে অ্যাকশনও। এই প্রথম নয়, এর আগেও বিভিন্ন জায়গায় কিন্তু অবৈধভাবে নির্মিতভাবে বিভিন্ন তৃণমূল কার্যালয় ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
হুগলি জেলার কোন্নগরের সরকারি জমিতে তৃণমূলের বেআইনি পার্টি অফিসের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হল। কোন্নগরে ২০ নম্বর ওয়ার্ডে তৃণমূলের পার্টি অফিসে সোমবার চলে বুলডোজার। ভাঙা হয় তৃণমূল কাউন্সিলর খোকন পালের বেআইনি নির্মাণ।
বহরমপুর পৌরসভার লালদিঘি এলাকার ২১ নম্বর ওয়ার্ডে অবৈধ দোকানদারদের বুলডোজার দিয়ে উচ্ছেদ শুরু করে পৌরসভার কর্মচারীরা। শনিবার সকাল থেকেই লালদীঘির উত্তর প্রান্তে গোডাউনের সামনে থেকে উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়েছে। তবে উচ্ছেদ অভিযান চললেও কোন বাঁধার সম্মুখীন হয়নি পৌর কর্মচারীরা।
বেআইনি নির্মাণের পাশাপাশি বেআইনি চোলাই মদের ভাটিতেও বুলডোজার চালাল পুলিশ। পুরশুড়ার রাউতাড়া এলাকায় ভেঁঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হল একের পর এক বেআইনি চোলাই মদের ভাটি। ঘটনায় দুইজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বিগত দিনে আবগারি দফতর বারবার অভিযান চালালেও বন্ধ হয়নি এই অবৈধ চোলাই কারবার। অভিযোগ তৎকালীন শাসক দলের ছত্রছায়ায় থাকায় কয়েকদিনের মধ্যেই ফের গজিয়ে উঠত এই চোলাই মদের কারবার। তবে নতুন সরকার আসার পরই বুলডোজার নিয়ে গ্রামে ঢুকল পুলিশ। ভেঙে দেওয়া হল চোলাই মদ তৈরির ভাটিগুলি।
আরও পড়ুন:- রানিগঞ্জে তৃণমূল নেতার বাড়িতে উদ্ধার সরকারি ত্রিপল, কম্বল, সন্দেশখালিতেও মিলল ত্রাণসামগ্রী
আরামবাগের এসডিপিও সুপ্রভাত চক্রবর্তীর নেতৃত্বে পুরশুড়া থানার পুলিশ ও আবগারি দপ্তর যৌথ অভিযান চালিয়ে প্রচুর পরিমাণে চোলাই তৈরির উপকরণও নষ্ট করে দেয়। উল্লেখ্য, পুরশুড়ার এই রাউতারা গ্রামে ১০-১২ টি বড় চোলাই মদ তৈরির ভাটি ছিল।এখান থেকেই পার্শ্ববর্তী জেলাগুলি সহ হুগলি জেলাজুড়ে চোলাই মদ সাপ্লাই হতো। তৎকালীন শাসকের ছত্রছায়ায় থাকায় পুলিশ অভিযান চালিয়ে চোলাই মদ বাজেয়াপ্ত করলেও ভাটিগুলি ভাঙা যায়নি বলে বিজেপির অভিযোগ।
