বঙ্গোপসাগর থেকে প্রচুর জলীয় বাষ্প প্রবেশ এবং সক্রিয় মৌসুমি অক্ষরেখার প্রভাবে পশ্চিমবঙ্গজুড়ে আগামী কয়েকদিন বৃষ্টি অব্যাহত থাকবে। আলিপুর আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ১৪ জুলাই থেকে ১৯ জুলাই পর্যন্ত উত্তরবঙ্গের একাধিক জেলায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় মঙ্গলবারও ভারী বৃষ্টি, বজ্রবিদ্যুৎ ও বজ্রঝড়ের সতর্কতা জারি করা হয়েছে। IMD-র পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ২৪ ঘণ্টায় দক্ষিণবঙ্গের সব জেলাতেই বিক্ষিপ্ত ভাবে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হবে। কোথাও কোথাও বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
কোথায় কোথায় বৃষ্টি ?
- উত্তর ২৪ পরগনা
- দক্ষিণ ২৪ পরগনা
- পূর্ব মেদিনীপুর
- পশ্চিম মেদিনীপুর
- হাওড়া
উপরের জেলাগুলিতে দিনভর ভারী বৃষ্টি (৭ থেকে ১১ সেন্টিমিটার) হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। জারি করা হয়েছে হলুদ সতর্কতা। পাশাপাশি, দক্ষিণবঙ্গের সব জেলাতেই এক বা দু’টি জায়গায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ঝড়বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া দফতর।
১৪ জুলাই: কোথায় কোথায় ভারী বৃষ্টি?
মঙ্গলবার উত্তরবঙ্গের সব জেলাতেই হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এর মধ্যে দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, কোচবিহার ও আলিপুরদুয়ারে ৭ থেকে ১১ সেন্টিমিটার পর্যন্ত ভারী বৃষ্টি হতে পারে। সব জেলাতেই বজ্রবিদ্যুতের সম্ভাবনাও রয়েছে। অন্যদিকে দক্ষিণবঙ্গের সব জেলায় বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকলেও উত্তর ২৪ পরগনা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, হাওড়া, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুরে ভারী বৃষ্টির সতর্কতা জারি হয়েছে। বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ঝোড়ো আবহাওয়ারও সম্ভাবনা রয়েছে।
১৯ জুলাই পর্যন্ত কী বলছে পূর্বাভাস?
১৫ জুলাই দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি ও আলিপুরদুয়ারে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকবে। ১৬ ও ১৭ জুলাই উত্তরবঙ্গের সব জেলায় বিস্তীর্ণ এলাকায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি চলবে। তবে ১৮ জুলাই ফের ভারী বৃষ্টির দাপট বাড়তে পারে দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, কোচবিহার ও আলিপুরদুয়ারে। সবচেয়ে বেশি উদ্বেগ ১৯ জুলাই। ওই দিন জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার ও দার্জিলিং জেলায় ৭ থেকে ২০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি কালিম্পং ও কোচবিহারেও ভারী বৃষ্টি হতে পারে।
কী কী প্রভাব পড়তে পারে?
আবহাওয়া দফতর বজ্রঝড় ও ভারী বৃষ্টির সময় নিরাপদ স্থানে থাকার পরামর্শ দিয়েছে। গাছ, বিদ্যুতের খুঁটি বা দুর্বল কাঠামোর নিচে আশ্রয় না নেওয়া, জলাশয়ের কাছ থেকে দূরে থাকা এবং প্রয়োজনে প্রশাসনের নির্দেশ মেনে চলার আবেদন জানানো হয়েছে। পাহাড়ি এলাকায় অপ্রয়োজনীয় যাতায়াত এড়ানোরও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
