Voice of Eastern India

Abhishek Banerjee : ‘হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন নেই’, অভিষেকের রক্ষাকবচ মামলায় বড় মন্তব্য হাইকোর্টের


কলকাতা: সুপ্রিম কোর্ট থেকে বিদেশযাত্রার অনুমতি পেতেই বিদেশে পাড়ি দিয়েছেন তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এবার হাইকোর্টে  ‘রক্ষাকবচ’ মামলাতে বড় স্বস্তি পেলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক । কলকাতা হাইকোর্ট জানাল  ভবানীপুর, বিষ্ণুপুর এবং কালীতলা থানায় দায়ের হওয়া তিনটি FIR-এ তাঁকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারবে না পুলিশ। সেই সঙ্গে এই তিনটি  থানার মামলায় অন্তর্বর্তী রক্ষাকবচের মেয়াদ ৩১ অগাস্ট পর্যন্ত বাড়িয়ে দিল আদালত।  পরবর্তী শুনানি হবে ২৫ আগস্ট।

মঙ্গলবার এই মামলার শুনানিতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ রাখেন বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য।  এর আগে আদালত অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে তিনটি মামলায় অন্তর্বর্তী রক্ষাকবচ দিয়েছিল আদালত। সেই সুরক্ষার মেয়াদ ছিল ১৭ অগাস্ট পর্যন্ত। মঙ্গলবারের শুনানিতে আদালত সেই মেয়াদ আরও বাড়িয়ে দিল ৩১ অগাস্ট পর্যন্ত। ভবানীপুর থানার FIR, বিষ্ণুপুর থানার FIR, কালীতলা থানার FIR এর ভিত্তিতে তিন মামলায় আপাতত অভিষেককে হেফাজতে নিতে পারবে না পুলিশ। 

বিচারপতি বলেন, প্রতিটি এফআইআর-এ ৪ মে-র পর করা ।  ৪ মে-র পরে যে অভিযোগগুলি দায়ের হয়েছে, সেগুলির ক্ষেত্রে অভিষেককে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন নেই।  তবে তদন্তে কোনও বাধা নেই বলেও স্পষ্ট করে দেন বিচারপতি। তাঁর বক্তব্য, তদন্ত চলতে পারে এবং পুলিশ রিপোর্টও পেশ করতে পারে। তবে হেফাজতে নেওয়া যাবে না। অর্থাৎ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে অন্তর্বর্তী সুরক্ষা দেওয়া মানে অভিযোগের তদন্ত বন্ধ করার নির্দেশ নয়, বিষয়টি স্পষ্ট করে দেন তিনি। বিচারপতির বলেন, ঘটনাটি যখন ঘটেছিল সেই সময়েই যদি অভিযোগ দায়ের করা হত, তাহলে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা যেত। কিন্তু অনেক পরে অভিযোগ দায়ের হওয়ায় সেই প্রয়োজনীয়তা এখন আর নেই। 

সঙ্গে সঙ্গেই অভিষেকের বিরুদ্ধে অন্যতম মামলাকারী অভিজিৎ দাস ববির আইনজীবী সওয়াল করেন,  ৪ মে-র পরেও অভিষেক যথেষ্ট প্রভাবশালী। তিনি দাবি করেন, ইতিমধ্যেই অভিষেক  ২৫টি ব্যাগ নিয়ে আমেরিকা চলে গিয়েছেন এবং তদন্তে সহযোগিতা করবেন কি না, তা নিয়েও যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে। এরপরই আইনজীবীকে পাল্টা প্রশ্ন করেন বিচারপতি – ‘আপনাকে কি এখনও হুমকি দেওয়া হচ্ছে?’  জবাবে আইনজীবী জানান, তাঁকে প্রকাশ্যে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। তখন বিচারপতি প্রশ্ন তোলেন, যদি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এখনও এতটাই প্রভাবশালী হয়ে থাকেন, তাহলে তাঁর আমতলার অফিস কীভাবে ভাঙচুর করা সম্ভব হল? তাও তাঁর নিজের এলাকাতেই?  

শুনানিতে বিচারপতি আরও বলেন, ক্ষমতার পরিবর্তনের আগে কি এমন ঘটনা ঘটানো সম্ভব ছিল? এখন তো পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়েছে। এরপর আদালত মন্তব্য করে,  শুভেন্দু অধিকারী যখন বিরোধী দলনেতা ছিলেন, তখন একসঙ্গে ১০-১৫টিরও বেশি মামলায় আদালত তাঁকে রক্ষাকবচ দিয়েছিল, তাহলে এখন সেটিকে ভুল বলা হচ্ছে কেন?

তাই আদালতের নির্দেশ অনুসারে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে তদন্ত চলতে কোনও বাধা নেই। পুলিশ তদন্ত চালাতে এবং রিপোর্ট পেশ করতে পারবে। তবে ভবানীপুর, বিষ্ণুপুর ও কালীতলা থানার তিন মামলায় অভিষেকের বিরুদ্ধে অন্তর্বর্তী সুরক্ষা ৩১ অগাস্ট পর্যন্ত বহাল থাকল। আগামী ২৫ অগাস্ট ফের মামলাটির শুনানি হবে। সেদিন আদালতের পরবর্তী নির্দেশের দিকে নজর থাকবে।

Source link



Source link

Leave A Reply

Your email address will not be published.