Voice of Eastern India

Birbhum News: পার্থ ঘনিষ্ঠ অর্পিতার বাড়িতে মিলেছিল ৫০ কোটি, সেই স্মৃতি উস্কে বীরভূমের পাথর ব্যবসায়ীর আত্মীয়ের বাড়িতেও টাকার পাহাড়! উদ্ধার কেজি কেজি সোনাও


পার্থপ্রতিম ঘোষ ও ভাস্কর মুখোপাধ্যায়, মহম্মদবাজার, বীরভূম: এক দোতলা বাড়িতে থরে থরে সাজানো একের পর এক ব্যাগ। আর সেইসব ব্যাগ খুলতেই সামনে এল কোটি কোটি টাকা। এবার এমন দৃশ্যই দেখল রাজ্যবাসী। ঘটনাটি বীরভূমের (Birbhum)। এক সরকারি বাস চালক মিনার মণ্ডলের বাড়িতে টাকার পাহাড়। সেই বাস চালক নিয়েছিলেন স্বেচ্ছাবসর। বুধ-সকালে তাঁর বাড়িতেই সিআইডি ও মহম্মদবাজার পুলিশ একসঙ্গে তল্লাশি চালায়। এখনও পর্যন্ত সেখানে উদ্ধার হয়েছে ২০কোটি টাকা। এখনও চলছে টাকা গোনার কাজ। পুলিশ সূত্রে খবর, এই টাকার পরিমাণ আরও বাড়তে পারে। ২০২২ সালে তৎকালীন শাসকদলের মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ অর্পিতা মুখোপাধ্যায়ের ২টি ফ্ল্যাট থেকে উদ্ধার হয় প্রায় ৫০কোটি নগদ টাকা এবং প্রচুর গয়না। বীরভূমের এই মিনার মণ্ডলের বাড়িতে কি ওই অঙ্ক ছাপিয়ে যাবে? তার উত্তর অবশ্য সময়ই বলবে।   

কেন মিনারের বাড়িতেই টাকার পাহাড়?

বীরভূমের এক পাথর ব্যবসায়ী টুলু মণ্ডল। তাঁর আত্মীয় মিনার মণ্ডল। তাঁর বাড়িতেই মিলেছে কোটি কোটি টাকা ও কেজি কেজি সোনা! পাথর-বালি পাচার মামলায় আগেই স্ক্যানারে, এখনও খোঁজ নেই টুলু মণ্ডলের। ওই পাথর ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে ভোট পরবর্তী হিংসাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, টুলুর আত্মীয় মিনারের বাড়িতে ৪টি আলমারির ২টি আলমারিতে টাকা ছিল। এছাড়া গোপন জায়গায় টাকা ও সোনা রাখা ছিল। এই মিনার মণ্ডলের জীবনযাপন ছিল খুবই সাধারণ। আর তাঁর বাড়িটিও ছিল এমন জায়গায়, যেখানে সন্দেহের তেমন কোনও জায়গা ছিল না। গ্রামের প্রায় শেষ প্রান্তে ছিল মিনারের বাড়ি। এক বাস চালকের বাড়িতে যে এত কোটি টাকা রয়েছে, তা আন্দাজ করা খুব একটা স্বাভাবিক নয়। অবশ্য এক সপ্তাহ আগে পুলিশ টুলু-মিনারের ফোন ট্যাপিং করে। এরপর ঊর্ধতন কর্তৃপক্ষ মিনারকে জেরা করে জানতে পারে টাকার কথা।

আজ, দুপুর ১২টা অবধি মিনার মণ্ডলের বাড়ি থেকে প্রায় সাড়ে ৫ কোটি টাকা উদ্ধার হয়। এরপর বাড়ে পরিমাণ। উদ্ধার হওয়া টাকার পরিমাণ কত কোটিতে গিয়ে দাঁড়াবে তা নিয়ে নিশ্চিত নয় পুলিশ। টাকার মেশিন নিয়ে এসে চলছে গোনার কাজ। আর এই টাকা উদ্ধার করতে নিয়ে আসা হয়েছে ১,২টি নয় মোট ৫টি ট্রাঙ্ক। পুলিশ সূত্রের খবর, ইতিমধ্যেই ২০কোটি টাকা উদ্ধার হয়েছে। সোনার পরিমাণ মাপতে আসা স্বর্ণকার জানিয়েছেন, সেখান থেকে ১৫ কেজি সোনা উদ্ধার হয়েছে। সোনার নানা গয়নার পাশাপাশি উদ্ধার হয়ে বিপুল পরিমাণ সোনার বাট। 

উল্লেখ্য, বীরভূমে সরকারি বাস চালকের বাড়িতে অবৈধ সম্পদের উদ্ধার অভিযান নিয়ে DGP, SP-র প্রশংসায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এক্স হ্যান্ডেলে মুখ্যমন্ত্রী লেখেন, ‘বালি মাফিয়ার বিরুদ্ধে অভিযানে প্রশংসনীয় কাজ পুলিশ-প্রশাসনের। বিশেষ সূত্রে খবর পেয়ে মহম্মদ বাজারে তল্লাশি চালায় পুলিশ। বালি মাফিয়া টুলু মণ্ডল ওরফে মহম্মদ নাজিবুদ্দিনের ডেরায় অভিযানে বিপুল টাকা ও সোনা উদ্ধার।’

Source link



Source link

Leave A Reply

Your email address will not be published.