Voice of Eastern India

CM Suvendu Adhikari:নন্দীগ্রামে মমতা তৃণমূলের প্রার্থিপদ প্রত্যাহার করা নিয়ে খোঁচা শুভেন্দুর, পাল্টা সৌগত, “দেখা যাক কত ভোট পায়..”


অনির্বাণ বিশ্বাস, শিবাশিস মৌলিক ও রাজীব চৌধুরী, কলকাতা: ৬ অক্টোবর নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরে উপনির্বাচন হবে। তার আগে নন্দীগ্রামে মমতা সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থিপদ প্রত্যাহার করা নিয়ে খোঁচা দিলেন শুভেন্দু অধিকারী। পাশাপাশি রেজিনগরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রার্থীর জামানত জব্দ হবে বলেও হুঁশিয়ারি শোনা গেল মুখ্যমন্ত্রীর গলায়। মুখ্যমন্ত্রী ডেকে ধমক দিলে পালাবে না? পাল্টা প্রশ্ন তুললেন সৌগত রায়। 

 

আরও পড়ুন, ফের নতুন করে নিম্নচাপের আশঙ্কা ? আজ রাজ্যে ফের বজ্রবিদ্যুৎ সহ বর্ষণের পূর্বাভাস, বড় আপডেট IMD-র

মাঝে আর প্রায় একটা সপ্তাহ। তারপরই রাজ্যে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর প্রথম উপনির্বাচন। আগামী ৬ অক্টোবর ভোট হবে পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রাম ও মুর্শিদাবাদের রেজিনগরে। তার আগে আক্রমণ-প্রতি আক্রমণে ক্রমশ চড়ছে রাজনীতির পারদ। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন,  আপনার জনসমর্থন শ্রীরামপুরে দেখতে পাওয়া গেছে।

মমতা সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ সৌগত রায় বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সভায় বিরাট জনসংযোগ দেখে নার্ভাস হয়ে তার প্রতিক্রিয়া। ১৯৯৮ সালে তৃণমূল তৈরি হওয়ার পর, রাজ্যে এই প্রথম কোনও নির্বাচন হচ্ছে, যেখানে EVM-এ থাকছে না তৃণমূলের জোড়াফুল চিহ্ন। কারণ ক্ষমতা হারানোর পর টুকরো টুকরো হয়ে গেছে তৃণমূল। আপাতত দলের নাম ও প্রতীক দুটোই ফ্রিজ করে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। এই অবস্থায় অস্থায়ী ‘ফুটবলার’ প্রতীকে প্রার্থী দিতে হয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। কিন্তু সেখানেও প্রার্থিপদ প্রত্যাহার করে নেন নন্দীগ্রামের প্রার্থী সঞ্চিতা প্রধান দে। 
 
এনিয়ে এদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কটাক্ষ করতে ছাড়েননি শুভেন্দু অধিকারী। মুখ্যমন্ত্রী  শুভেন্দু অধিকারী বলেন,  আপনার (মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়) পার্টি তো ৩-৪ টুকরো হয়ে গেছে। কে কী করছে তা বোঝাই যাচ্ছে না। এবার উপনির্বাচন হচ্ছে সেখানে, ওনার (মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়) পার্টির একজন প্রার্থী তো নিজেই চলে গেল। আর দ্বিতীয়, প্রতীকও তো বদলে গেছে। রেজিনগরে নতুন প্রতীকে একজন লড়ছেন। আপনার দলের প্রার্থীর জামানতও থাকবে না, দেখে নেবেন।’ 

মমতা সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ  সৌগত রায় বলেন, রেজিনগরে আমাদের প্রার্থী লড়ছে। দেখা যাক কত ভোট পায়। ভোটের আগে এসব বলে লাভ নেই।’ বর্তমানে জ্ঞানেশ কুমার ইস্যুতে আন্দোলনে নামতে জোট বেঁধেছে বিরোধীরা। এমনকী, আন্দোলন নিয়ে সর্বভারতীয় স্তরে কাছাকাছি আসছে এ রাজ্যে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী তৃণমূল ও সিপিএম। প্রথমে চিঠি চালাচালি এবং তারপরে ফোনে কথাও হয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও সিপিএমের সাধারণ সম্পাদক এম এ বেবির মধ্যে। যা নিয়েও এদিন আক্রমণ করেছেন শুভেন্দু অধিকারী। 
 
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘আমি পরামর্শ দিচ্ছি, পশ্চিমবাংলায় বাকি থাকা অল্পকিছু কমিউনিস্ট আছেন, আর ওদের সঙ্গে নতুন দল মমতা AITC, নতুন দল। যে সিপিএমের বিরুদ্ধে লড়াই করে TMC তৈরি হয়েছিল, সিপিএমের সঙ্গে যত ভাব ভালবাসা করবেন, কাল আপনার জন সমর্থন শ্রীরামপুরে দেখতে পাওয়া গেছে।’সিপিএম কেন্দ্রীয় কমিটি সদস্য  সুজন চক্রবর্তী বলেন, অন্যদল কে কোথায় কর্মসূচি নেবে এই ব্যাপারে আপনার মত সেটাও আদৌ গ্রহণযোগ্য নয়। এটা বাতুলতা। অপ্রয়োজনীয় কথা উনি বলছেন। যেখানে প্রয়োজন হবে সেখানেই আমরা আন্দোলনে থাকব। উপনির্বাচনের আগে মমতা-তৃণমূল ও বিজেপির চাপানউতোর যখন ক্রমশ বাড়ছ, তখন এদিন ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করেছেন গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা ও বিধায়ক মদন মিত্র। 

গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেস বিধায়ক  মদন মিত্র বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সেটিং করে বিজেপিকে ঢুকিয়েছিলেন পশ্চিমবাংলায়। আর তার প্রায়শ্চিত্ত ভোগ করতে হচ্ছে আমাদের এই সহকর্মীদের। মমতা সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ  সৌগত রায় বলেন, ‘মদন মিত্র তো নির্বাচনের ফল বেরনোর পর অনেকদিনই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাথে ছিলেন। হঠাৎ ওঁর বাড়িতে কোনওদিন ইডি রেড করল, তারপরে উনি ঋতব্রত-তৃণমূল কংগ্রেস হয়ে গেছে।’ সবমিলিয়ে উপনির্বাচনের আগে তুঙ্গে উঠেছে চাপানউতোর। 

Source link



Source link

Leave A Reply

Your email address will not be published.