Voice of Eastern India

Conch Shell GI Tag: রামায়ণ-মহাভারত ফুটে ওঠে শঙ্খে, GI ট্যাগে নতুন পরিচয় বাঁকুড়ার শিল্পের


পূর্ণেন্দু সিংহ, বাঁকুড়া: আগ্রহের অভাবে হারিয়ে যাবে শঙ্খ শিল্প? নাকি GI স্বীকৃতি পাওয়ার পর ফের ঘুরে দাঁড়াবে? এই নিয়ে শঙ্খ শিল্পীদের ভাবনার অন্ত নেই। বহু প্রতীক্ষার পর জিআই তকমা (GI Tag) পেয়েছে বাঁকুড়ার শঙ্খ শিল্প (Shankha Shilpa)। তবে এই খুশির আবহেও শঙ্খ শিল্পীদের চোখে-মুখে চিন্তার ভাঁজ। তাঁদের কেউ কেউ বলছেন, এই শিল্প বাঁচাব, নাকি কারিগর বাঁচাব… বর্তমানে এমন অবস্থায় এসে দাঁড়িয়েছেন তাঁরা। তবে তাঁদের বহু কষ্টের ফল যে মিলেছে, তাতে তাঁরা খুশি। 

শঙ্খ শিল্পের আঁতুড়ঘর হিসেবে পরিচিত বাঁকুড়া শহরের শাঁখারি পাড়া ও ইন্দপুরের হাটগ্রাম। বংশপরম্পরায় শঙ্খ শিল্পকলা রপ্ত করেছেন হাটগ্রামের বিশিষ্ট শঙ্খ শিল্পী বাবলু নন্দী। তিনি জানান, পুরো গ্রামের ২৫০-৩০০ পরিবার শঙ্খ শিল্পের সঙ্গে যুক্ত। পুরুষদের পাশাপাশি এই গ্রামের মহিলারাও শঙ্খ শিল্পের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত।

শঙ্খ দেখতে যেমন শৌখিন, তেমনই এটি বানাতেও হয় বিশেষ মনোযোগ দিয়ে। খুব সূক্ষ্ম কাজ করতে হয়। তাহলেই শিল্পের কদর থাকে। অবশ্য, শঙ্খ নিয়ে কাজ করা খুব একটা সহজ নয়। ছোট্ট বদ্ধ ঘরে কাজ করেন শিল্পীরা। একইসঙ্গে নানান কেমিক্যাল ব্যবহার করতে হয় শাঁখার কাজে। যার ফলে যক্ষা, চামড়ার সমস্যা সহ নানান রোগে প্রায়শই শিল্পীরা আক্রান্ত হন। 

শত কষ্টের পরও শঙ্খ বানানোর কাজ করে শিল্পীরা খুশি। জিআই স্বীকৃতি মেলার পর শঙ্খ নিয়ে মানুষের আগ্রহ আরও বাড়বে, বিক্রি বাটাও বাড়বে বলে মনে করছেন শিল্পীরা। বর্তমান সময়ে শঙ্খের ওপরে এবং মহিলারা যে শাঁখা পরেন, তার ওপরে রামায়ণ, মহাভারতের গল্প, দেবদেবীর মূর্তি ফুটিয়ে তুলছেন শঙ্খ শিল্পীরা। যার ফলে এইসব পণ্যের চাহিদা দিন দিন বেড়ে চলেছে।

শঙ্খ শিল্পের মূলে রয়েছে ভাল মানের শাঁখ এবং শিল্পী। বর্তমানকালে দু’টোরই অভাব বোধ করছেন বহু শঙ্খশিল্পী। লক্ষ্মীকান্ত লায়েক বলেন, ‘কাঁচা শাঁখটাও এখন ভাল আসে না, আগে যেমন মঞ্জুষা বা জেলা পরিষদের মাধ্যমে শাঁখ আসত, তাতে শাঁখের কোয়ালিটি ভাল থাকত, তখন শিল্প ও শিল্পী তৈরি হত।’

শঙ্খ শিল্পীদের মতে, ভাল শাখা নিতে গেলে অতিরিক্ত দরদাম করলে চলে না। খুবই সূক্ষ্ম কাজ। তাই পারিশ্রমিক যথাযথ দেওয়াই কাম্য বলে মনে করেন শিল্পীরা। শিল্পীদের আশা জিআই তকমা মেলার ফলে, এবার থেকে দেশের পাশাপাশি বিদেশেও এই শঙ্খ শিল্পের প্রসার হবে।

 

Source link



Source link

Leave A Reply

Your email address will not be published.