Congress On EC: SIR নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত কমিশনের, নাম বাদ পড়লেও মিলবে ভোটার তালিকায় নাম তোলার সুযোগ, কী প্রতিক্রিয়া কংগ্রেসের ?
কলকাতা: ‘আনম্যাপড’ বা ‘লজিকাল ডিসক্রিপেন্সি’র কারণে যাদের নোটিস দেওয়া হয়েছে, তাঁদের নথিপত্র সংগ্রহের জন্য BLO-রাই বাড়িতে যাবেন। শুনানির জন্য কাউকে ERO বা AERO-র অফিসে ডাকার প্রয়োজন নেই। শনিবার নির্বাচন কমিশনে বৈঠকে নেওয়া হল এমনই অনেক সিদ্ধান্ত। দীর্ঘ বিবৃতির সঙ্গে দেওয়া হল জ্ঞানেশ কুমার ও দুই নির্বাচন কমিশনারের বৈঠকের ছবিও। ড্যামেজ কন্ট্রোলের চেষ্টা বলে কটাক্ষ করল কংগ্রেস।
কংগ্রেসের সাংসদ প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বলেন, যদি কোনও নির্বাচন কমিশনার গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে এত গুরুতর অপরাধ করেন, তাহলে নেতৃত্বের পূর্ণ সমর্থন ছাড়া তিনি যে এটি করছেন, তা কার্যত অসম্ভব। মমতা সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, যখন ফাঁসবেন, তখন বিজেপির লুম্পেনদের পাবেন না। তখন আপনার চেয়ার নিয়ে টানাটানি হবে। দেশজুড়ে ঝড় তুলেছে ‘দ্য ইন্ডিয়ার এক্সপ্রেসের’ বুধবারের একটি প্রতিবেদন।
বহুক্ষেত্রে কীভাবে দুই নির্বাচন কমিশনারের মতামত, আপত্তিকে অগ্রাহ্য করে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার কার্যত একতরফা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তাই তুলে ধরা হয়েছে ওই প্রতিবেদনে। যার পর দেশজুড়ে প্রশ্ন উঠেছে, আদৌ কি মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার স্বচ্ছ এবং নিরপেক্ষাভাবে কাজ করছেন? কেন তিনি দুই সতীর্থ নির্বাচন কমিশনারের মতামতকে বারবার অগ্রাহ্য করেছেন? এই নিয়ে চরম বিতর্ক ও দেশজুড়ে সমালোচনার মধ্যেই দুই নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে শনিবার বৈঠকে বসলেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জানেশ কুমার। সামনে আনা হল এই ছবি,
যে ছবিতে দেখা যাচ্ছে, জ্ঞানেশ কুমারের দু’পাশে বসে আছেন দুই নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু এবং বিবেক জোশী। সেই সঙ্গে জারি করা দীর্ঘ বিবৃতি। দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, SIR-এর সময় ভোটার তালিকায় নাম তোলা ও নাম বাদ দেওয়া, ফর্ম-6-এর বদল ERO-দের ক্ষমতা খর্ব, ভোটার সংক্রান্ত তথ্য দিল্লিতে কেন্দ্রিভূত করা-সহ নানা বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছিলেন দুই নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু এবং বিবেক জোশী। এই প্রেক্ষাপটেই এদিন বৈঠকের পর নির্বাচন কমিশনের দীর্ঘ বিবৃতি দেওয়া হয়েছে। নেওয়া হয়েছে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত। তার মধ্যে অন্যতম হল-
১. চলতি SIR-এ যেসব ব্যক্তিকে ‘আনম্যাপড’ বা ‘লজিকাল ডিসক্রিপেন্সি’র কারণে নোটিস জারি করা হয়েছে, তাঁদের নথিপত্র সংগ্রহের জন্য BLO-রাই তাঁদের বাড়িতে যাবেন এবং ERO-র সিদ্ধান্তের জন্য সেগুলি ECINET-এ আপলোড করবেন। এইসব ব্যক্তিকে শুনানির জন্য ERO বা AERO-র অফিসে ডাকার প্রয়োজন নেই। শুধুমাত্র ব্যতিক্রমী পরিস্থিতিতে ERO-র সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শুনানি হবে এবং তা যথাসম্ভব অনলাইনে করা হবে। প্রয়োজনে, ভোটার তাঁর হয়ে শুনানিতে অংশ নেওয়ার জন্য পরিবারের কোনও প্রাপ্তবয়স্ক সদস্যকে সেই দায়িত্ব দিতে পারবেন। অনলাইন শুনানির ব্যবস্থাকে আরও জোরদার করা হবে।
২. জেলা নির্বাচন আধিকারিক বা DEO-রা প্রয়োজন অনুযায়ী নাইট শেল্টারে বসবাসকারী, শ্রমিক, দরিদ্র মানুষ ও গৃহহীনদের জন্য পর্যাপ্ত সংখ্যায় সহায়তা কেন্দ্র বা হেল্প ডেস্ক তৈরি করবেন বা বিশেষ শিবিরের আয়োজন করবেন।
৩. ফিল্ড অফিসাররা বিধিবদ্ধ ক্ষমতায় নিজেদের ভূমিকা অনুযায়ী ECINET ব্যবহারের সুযোগ পাবেন। সিনিয়র ডেপুটি ইলেকশন কমিশনার বা DEC-র নেতৃত্বে এবং IIT অথবা IIIT-র একজন স্বতন্ত্র বিশেষজ্ঞকে নিয়ে গঠিত একটি কমিটি ECINET পর্যালোচনা করবে।
৪. SIR-এর জন্য ফর্ম ৬-এর ডিক্লারেশন অংশে যে নথি দেওয়ার কথা বলা হয়েছে, তা সুপ্রিম কোর্ট বহাল রেখেছে।
যাঁরা পূর্ববর্তী SIR-এর আওতায় পড়েননি, তাঁদের ক্ষেত্রে ১৯৬০-এর আইন অনুযায়ী ফর্ম ব্যবহার করা হবে।
৫. SIR চলাকালীন বা পরবর্তী সময়ে যাদের নাম বাদ পড়েছে, তারা এবং তরুণ বা প্রথমবারের ভোটাররা যে কেউ, ভোটার তালিকার ধারাবাহিক আপডেট প্রক্রিয়ায় যে কোনও সময়ে ERO-র কাছে আবেদন করতে পারবেন। এই প্রক্রিয়াটি সহজতর করার জন্য CEO-দের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। CEO, DEO এবং ERO-রা এই ভোটারদের তালিকাভুক্তির জন্য অবিলম্বে একটি বিশেষ অভিযান শুরু করবেন।
প্রাক্তন মুখ্য় নির্বাচনী আধিকারিক জহর সরকার বলেন, ইসিআই নেট নিয়ে প্রশ্ন উঠছিল এবং সেটার সমাধানের জন্য একটা পর্যালোচনা কমিটি তৈরি করল। এই কমিটি তৈরি করার প্রয়োজন হলো কেন? বিতর্কের জল গড়িয়েছিল ক্যাবিনেট সেক্রেটারি পর্যন্ত। সেই প্রসঙ্গে এদিন নির্বাচনে কমিশনের বিবৃতিতে দাবি করা হয়েছে, ক্যাবিনেট সচিবের কাছে পাঠানো চিঠিটি কমিশন বা IT বিভাগের কোনও নীতিগত বিষয় ছিল না। বরং এটি ছিল নির্বাচন কমিশনে ডেপুটেশনে থাকা একজন কর্মকর্তার কর্মপদ্ধতি বা কাজের বিষয়।
দুই কমিশনারের নির্দেশের পরেও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার জারি করা কাজের পুনর্বণ্টন সংক্রান্ত আদেশগুলো বাস্তবে কার্যকর করা হয়নি এবং IT বিভাগের ওপর ডেপুটি ইলেকশন কমিশনারের তদারকির বিষয়টিও আসলে কখনই প্রত্যাহার করা হয়নি। কংগ্রেস সাংসদ জয়রাম রমেশ এক্স হ্যান্ডলে লিখেছেন, ‘আমাদের গণতন্ত্রের প্রভূত ক্ষতি করার পর নির্বাচন কমিশন এখন সেই ক্ষতে প্রলেপ দিতে ও ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধারের চেষ্টায় নেমেছে। তারা একটি অস্পষ্ট ও দায়সারা প্রেস নোট জারি করেছে। যা তাদের উদ্দেশ্য, সততা, নিরপেক্ষতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে আরও প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।
অন্যদিকে জ্ঞানেশ কুমারকে আক্রমণ শানিয়েছেন রাহুল গান্ধী। এক্স হ্যান্ডলে কেরল কংগ্রেসের একটি পোস্ট রিপোস্ট করে তিনি লিখেছেন, জ্ঞানেশ কুমার, যিনি তখন কর্মরত IAS অফিসার ছিলেন, তখন তাঁকে বিজেপির হয়ে লোক সংগ্রহের কাজে লাগানো হয়েছিল।এরপর মোদি ও শাহ তাঁকে ‘আম্পায়ার’ বানিয়ে ভারতের নির্বাচন ‘ম্যাচ-ফিক্স’ করার দায়িত্ব তুলে দেন।বিজেপি নির্বাচন কমিশনের পাশে দাঁড়ালেও, বিরোধীদের আক্রমণের ঝাঁঝ বাড়ছে।এদিন জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে বেহালায় মিছিল করে সিপিএম।
CM Suvendu Adhikari : পিতৃপক্ষে প্য়ান্ডেল উদ্বোধন নয়, অষ্টমীতে মদ বিক্রি নয়, নির্দেশ মুখ্যমন্ত্রীর
