Voice of Eastern India

Indian Navy: কেউ শত্রুকে আক্রমণে নিখুঁত, কেউ সমুদ্রের নীচে নিখুঁত নজরদারি করে আবার কেউ মুহূর্তে ধ্বংস করে ডুবোজাহাজ, কলকাতা থেকে ৩টি যুদ্ধজাহাজ পেল নৌসেনা


কলকাতা: ক্রেতা নয়, ভারত নির্মাতা হতে চায়। যেদিন নির্মাতা হবে, সেদিন নির্ণায়ক হয়ে উঠবে দেশ। আন্তর্জাতিক যোগ দিবসে গার্ডেনরিচে দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি ৩ যুদ্ধজাহাজের উদ্বোধনে বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রীর। জলে ভাসল INS দুনাগিরি, INS সংশোধক এবং INS অগ্রয়। আন্তর্জাতিক যোগ দিবসে ভারতীয় নৌসেনাবহরে যোগ হল তিন নতুন সদস্য। রবিবাসরীয় সকালে শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি বন্দরে নৌসেনার হাতে এই ৩টি যুদ্ধজাহাজ তুলে দিলেন প্রধানমন্ত্রী।

আরও পড়ুন: ‘২৫ লক্ষ টাকা ঋতব্রত নিয়েছে নিজে বিধায়ক হওয়ার জন্য’, সন্দীপন সাহাকে ‘বিপ্লবী’ বলে কটাক্ষ কুণাল ঘোষের

INS দুনাগিরি হল ভারতীয় নৌবাহিনীর একটি অত্যাধুনিক স্টেলথ প্রযুক্তিসম্পন্ন ফাইটার ফ্রিগেট। যা রেডারকে ফাঁকি দিয়ে শত্রুর উপর নিখুঁত আঘাত হানতে পারে। উত্তরাখণ্ডের হিমালয়ের একটি চূড়া ‘দুনাগিরি’-র নামে এর নামকরণ হয়েছে। এই জাহাজ ১৯৭৭ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত ভারতীয় নৌবাহিনীতে পরিষেবা দেওয়া পূর্ববর্তী INS দুনাগিরির উত্তরসূরি। জাহাজটির দৈর্ঘ্য প্রায় ১৪৯ মিটার এবং ওজন প্রায় ৬ হাজার ৬০০ টন। এটি প্রায় ৫২ কিমি প্রতি ঘণ্টা গতিবেগে চলতে পারে। অত্যাধুনিক অস্ত্র ও সেন্সরে সজ্জিত এই জাহাজ, আকাশ, ভূমি এবং জলের গভীরে থাকা শত্রুকে শনাক্ত ও ধ্বংস করতে সক্ষম। এতে আছে ব্রহ্মস মিসাইল সহ অত্য়াধুনিক হাতিয়ার।

সমুদ্রের অতল গভীরে নিখুঁত নজরদারি চালাতে সক্ষম সন্ধায়ক-শ্রেণীর দৈত্যাকার সার্ভে ভেসেল INS সংশোধক। সমুদ্রগর্ভের তথ্য সংগ্রহ ও সংশোধন করার কাজের ওপর ভিত্তি করেই জাহাজটির নামকরণ হয়েছে। এই রণতরীর দৈর্ঘ্য প্রায় ১১০ মিটার এবং ওজন প্রায় ৩ হাজার ৪০০ টন।
গতিবেগ ১৮ নট বা প্রায় ৩৩ কিমি প্রতি ঘণ্টা।

এতে রয়েছে অত্যাধুনিক হাইড্রোগ্রাফিক সরঞ্জাম। যেমন—স্বয়ংক্রিয় আন্ডারওয়াটার ভেহিকল, রিমোটলি অপারেটেড ভেহিকল, ডিজিটাল সাইড-স্ক্যান সোনার এবং তথ্য সংগ্রও ও বিশ্লেষণ করার ব্যবস্থা। INS সংশোধকের প্রধান কাজ হল, উপকূলীয় ও গভীর-সমুদ্রের হাইড্রোগ্রাফিক সমীক্ষা করা। যার মধ্যে রয়েছে বন্দর, নৌচলাচল পথ এবং নৌ-ঘাঁটির আশপাশের এলাকার মানচিত্র তৈরি করা। পাশাপাশি, এটি সামরিক ও অসামরিক কাজে লাগে এমন সমুদ্রবিজ্ঞান ও ভূ-ভৌতিক (Geophysical) তথ্য সংগ্রহ করে।

আরও পড়ুন: “দলবদলানোর জন্য পা উঠিয়ে আছে, এরা তো আগেও দলকে গালাগালি করত”, কোন সাংসদদের নিশানা করলেন শতাব্দী?

INS অগ্রয় হল অর্ণালা-শ্রেণীর অ্যান্টি-সাবমেরিন ওয়ারফেয়ার শ্যালো ওয়াটার ক্রাফট প্রকল্পের চতুর্থ জাহাজ। এটি সমুদ্রের নীচে লুকিয়ে থাকা শত্রুর ডুবোজাহাজ নিমেষে ধ্বংস করতে পারে। 1241 PE শ্রেণির জাহাজ INS অগ্রয়-এর নামে নতুন এই জাহাজের নামকরণ হয়েছে। ১৯৯১ সালের ৩০ জানুয়ারি ভারতীয় নৌসেনা বাহিনীতে যুক্ত হয় INS অগ্রয়। ২০১৭ সালে অবসর নেয় সেই জাহাজ। বর্তমান জাহাজ, পুরোনো সেই গাড়ির উত্তরসূরী। বর্তমান জাহাজটির দৈর্ঘ্য প্রায় ৭৭ মিটার এবং ওজন প্রায় ৯০০ টন। এটি প্রায় ২৫ নটিক্যাল মাইল বা প্রায় ৪৬ কিমি প্রতি ঘণ্টা গতিবেগে চলতে সক্ষম।

জাহাজটির ক্রেস্টে মহাভারতের অর্জুনের গাণ্ডীব-এর চিহ্ন রয়েছে। যা নির্ভুলতা, সতর্কতা এবং লুকোনো শত্রুকে আঘাত করার ক্ষমতার প্রতীক। জলের গভীরেই শত্রুকে শনাক্ত ও ধ্বংস করার জন্য এই জাহাজে রয়েছে হালকা টর্পেডো, দেশীয় রকেট লঞ্চার। পাশাপাশি, শত্রুর টর্পেডোকে বিভ্রান্ত করার জন্য রয়েছে ডিকয় সিস্টেম।

Source link



Source link

Leave A Reply

Your email address will not be published.