Voice of Eastern India

ISI-যোগ, মুখ্যমন্ত্রীর বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ, বর্ধমানের আবাসনে গা-ঢাকা ধৃত জইশ জঙ্গির! একের পর এক বিস্ফোরক তথ্য


বর্ধমান: বর্ধমানের রেনেসাঁ হাউসিং থেকে গ্রেফতার হওয়া সন্দেহভাজন জঙ্গি হামিদ মণ্ডলকে ঘিরে উঠে আসছে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। রাজ্য পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (STF)-এর দাবি, নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জইশ-ই-মহম্মদ-এর সাজ্জাদ ভাট গোষ্ঠীর সঙ্গে সক্রিয় যোগাযোগ ছিল ধৃতের। শুধু তাই নয়, পাকিস্তানের গুপ্তচর সংস্থা ISI-এর সঙ্গেও তাঁর যোগাযোগ ছিল বলে অভিযোগ তদন্তকারীদের। STF সূত্রে খবর, হামিদ মণ্ডল বর্ধমানের রেনেসাঁ হাউসিংয়ে আত্মগোপন করে ছিল। এর আগে কিছুদিন নিউটাউনের একটি ঠিকানাতেও সে ছিল বলে তদন্তে উঠে এসেছে। তদন্তকারীদের সন্দেহ, এই সময়ে বিভিন্ন সংবেদনশীল তথ্য সংগ্রহের কাজ চালাচ্ছিল সে।

সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর গতিবিধি বা অবস্থান সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ এবং তাঁর উপর নজরদারির কাজেও যুক্ত ছিল হামিদ। তদন্তকারীদের আশঙ্কা, এই তথ্য সংগ্রহের উদ্দেশ্য কোনও বড় নাশকতার পরিকল্পনার অংশ ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। STF-এর দাবি, হামিদ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, বিশেষ করে ইনস্টাগ্রাম এবং হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের মাধ্যমে সাজ্জাদ ভাট গোষ্ঠীর সদস্যদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখত। সেখান থেকেই বিভিন্ন নির্দেশ তার কাছে পৌঁছত বলে তদন্তকারীদের অভিযোগ।

এবিপি আনন্দ-র সম্পাদক সুমন দে জানিয়েছেন, হামিদ মণ্ডল মুখ্যমন্ত্রীর গতিবিধি সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করছিল। তাহলে কি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর উপর হামলার পরিকল্পনা করা হচ্ছিল? এটাই বড় উদ্বেগের বিষয়। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে বর্ধমান শহরের রেনেসাঁ হাউসিংয়ে অভিযান চালায় STF। সেখান থেকেই তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। ধৃতের মোবাইল, ডিজিটাল তথ্য এবং অন্যান্য নথি খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। জঙ্গি নেটওয়ার্কের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগের পরিধি জানার চেষ্টা চলছে।

এলাকার বাসিন্দারা জানাচ্ছে, মাস দেড়েক আগে থেকে এক মহিলা ও তিনটি বাচ্চাকে নিয়ে ভাড়া থাকতে শুরু করে সে। তাদের স্ত্রী ও সন্তান বলেই পরিচয় দিত হামিদ। প্রতিবেশীদের কাছে কখনও নিজেকে আইটি কর্মী,কখনও কলেজ শিক্ষক বলে দাবি করেছিল হামিদ। কিন্তু তার সম্পর্কে কোনওদিন কারও সন্দেহ হয়নি বলেই স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

পুলিশের আরও দাবি, সাজ্জাদ ভাট গোষ্ঠী এবং ISI-এর নির্দেশে হামিদ বিভিন্ন এলাকায় রেকি (Reconnaissance) চালাত। শুধু গুরুত্বপূর্ণ এলাকা নয়, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের গতিবিধির উপরও নজরদারি চালানোর অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। তদন্তে আরও উঠে এসেছে, জঙ্গি সংগঠনের জন্য নতুন সদস্য নিয়োগের  দায়িত্বও পালন করছিল হামিদ। প্রাথমিক তদন্তে STF-এর দাবি, গত আড়াই থেকে তিন মাস ধরে সে এই কাজ চালিয়ে আসছিল। ধৃতের মোবাইল ফোন, ডিজিটাল ডিভাইস এবং অনলাইন যোগাযোগের তথ্য খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। তাঁর সঙ্গে আর কারা যোগাযোগ রাখত, রাজ্যের মধ্যে কোনও বড় নেটওয়ার্ক সক্রিয় ছিল কি না এবং সংগৃহীত তথ্য কোথায় পাঠানো হত, তা জানার চেষ্টা চলছে।

শুক্রবারই হামিদ মণ্ডলকে আদালতে তোলা হবে। তাঁকে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের আবেদন জানাতে পারে STF।  এরপর তাকে সোজা কলকাতায় নিয়ে এসে জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে। 

 

Source link



Source link

Leave A Reply

Your email address will not be published.