Voice of Eastern India

Jadavpur University: রাত ৯ টার পরে…! কী এমন ঘটল যাদবপুর বিশ্ববিদ্য়ালয়ে ? কেন উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল ক্য়াম্পাস


কলকাতা: ঐতিহ্যশালী ও দেশের অভিজাত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। আজও দেশের মধ্যে প্রথম সারিতে। এখানকার অসংখ্য় মেধাবী-কৃতী পড়ুয়া আজ গোটা বিশ্বে ছড়িয়ে রয়েছেন। পড়াশোনা করছেন আরও অসংখ্য় মেধাবী। আর সেখানেই এই ভয়ঙ্কর ছবি। ভাঙচুর-আগুন থেকে মারধর, দখলের চেষ্টা। ঐতিহ্য়বাহী যাদবপুর বিশ্ববিদ্য়ালয়ের ক্য়াম্পাসের ভিতরে বহিরাগতদের দাপাদাপি। ABVP ও বাম ছাত্র সংগঠনগুলির বিবাদের জেরে উত্তপ্ত হয়ে উঠল পরিস্থিতি। জ্বলল আগুন। হুমকির পাল্টা হুঁশিয়ারি। পথে নামল দু-পক্ষই। কিন্তু প্রশ্ন, হঠাৎ কেন উত্তপ্ত হয়ে উঠল বিশ্ববিদ্য়ালয়ের ক্য়াম্পাস ? কী ঘটেছিল গত বুধবার রাতে ?

কী ঘটেছিল বুধবার রাতে ?

যুগ যুগ ধরে বামপন্থী পড়ুয়াদের আঁতুরঘর বলে পরিচিত যাদবপুর বিশ্ববিদ্য়ালয়। সেখানে বহিরাগতদের নৈরাজ্য়ের এই ছবি চমকে দিল গোটা রাজ্য়কে। ঘটনার সূত্রপাত বুধবার রাত ৯ টার পরে। FETSU-র তরফে ইঞ্জিনিয়ারিং ছাত্রদের একটি জেনারেল বডি মিটিং চলছিল। সেখানে যান এক এবিভিপির সদস্য়, গবেষক পড়ুয়া। ছাত্র সংসদ না থাকা সত্ত্বেও কেন জিবি মিটিং ডাকা হয়েছে, এই প্রশ্ন তোলেন তিনি। জিবি মিটিংয়ের প্রতিবাদ করেন এবিভিপি সদস্যরা। অভিযোগ, এরপরই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ABVP-র ইউনিট সভাপতি নিখিল দাস ও দীপ্তিমান করকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। 

অভিযোগ, এরপরই ৪ নম্বর গেট জোরজবরদস্তি খুলে, সেখান থেকে ভিতরে আসে বহিরাগতরা। বামেদের দাবি তারা বিজেপি ও এবিভিপি সমর্থক। গর্বের যাদবপুর বিশ্ববিদ্য়ালয় ক্য়াম্পাস রণক্ষেত্রের চেহারা নেয়। চলে দেদাড় ভাঙচুর বেশ কিছু পড়ুয়া অরবিন্দ ভবনের ভিতরে ঢুকে যান। ভিতর থেকে তালা লাগিয়ে দেওয়া হয় কলাপসিবল গেটে। তারপর গেটের মুখে আগুন জ্বালানো হয়েছে। বামপন্থী ছাত্র সংগঠনের পতাকা, ব্যানার, ফেসটুন ছিঁড়ে ফেলা হয়। আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয় SFI-এর পতাকায়। উত্তপ্ত হয়ে ওঠে পরিস্থিতি। রাতের রেশ এসে পড়ে বৃহস্পতিবার সকালেও। পথে নামে RSS-এর ছাত্র সংগঠন ABVP ও বামপন্থী ছাত্র সংগঠনগুলি। একদিকে ABVP মিছিল করে, অন্য়দিকে অবস্থান বিক্ষোভে বসে। দুপক্ষের সঙ্গে পুলিশের ধস্তাধস্তির জেরে ফের উত্তেজনা ছড়ায়। এবিভিপির দাবি, তাঁদের বেশ কিছু সমর্থককে বেধড়ক মারধর করা হয়। রাতে তাঁদের দেখতে কেপিসি মেডিক্য়াল কলেজে যান যাদবপুরের বিজপি বিধায়ক শর্বরী মুখোপাধ্য়ায়। 

প্রত্য়ক্ষদর্শী ছাত্রী এষণা সেন বলেন,  ”প্রথমে যেটা হয়, বিভিন্ন প্ররোচনামূলক কথা চলে আসতে থাকে ABVP-র যারা ছাত্র ছিল, তারা বলছিল বিভিন্ন নকশাল বলে দাগিয়ে দেওয়া। এবং, সেখানে একটা বচসার জায়গা তৈরি হয়। তারপর, ABVP-র একজন গবেষক নিখিল দাস, যে ছাত্র নয়, ছাত্রদের GB-তে তাঁর থাকার কথা নয়। কিন্তু সে আসে এবং গায়ে হাত তোলে। তারপর বিজেপির প্রচুর বহিরাগত লোকজন ক্য়াম্পাসে প্রবেশ করে। মারামারি শুরু হয়ে যায়। ”

কিন্তু রাতের অন্ধকারে বহিরাগতদের এই তাণ্ডব যাদবপুর বিশ্ববিদ্য়ালয়ে চলল কী করে? কারা সম্মান নষ্ট করল দেশের প্রথম সারির এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের? তাদের উদ্দেশ্য় কী? লক্ষ্য় কী? তারা কি যাদবপুর দখল করতে চাইছে? এই সমস্ত প্রশ্ন জন্ম নিয়েছে মানুষের মনে। 

Source link



Source link

Leave A Reply

Your email address will not be published.