Janatar Darbar: মুখ্যমন্ত্রীর ‘জনতার দরবার’-এর আদলে অভিযোগ শুনলেন খাদ্যমন্ত্রী, ” আমার মেয়েকে মেরে সমুদ্রে ফেলে এসেছে..”, অশোক কীর্তনিয়ার কাছে হিঙ্গলগঞ্জের পরিবার
সমীরণ পাল ও সনৎ ঝা,কলকাতা: মুখ্যমন্ত্রীর ‘জনতার দরবার’-এর আদলে মানুষের অভাব অভিযোগ শুনছেন তাঁর মন্ত্রীরাও, এবার বিচার চাইতে আসা এক কন্যাহারা পরিবারের অভিযোগ শুনেও সরাসরি পুলিশ কর্তাকে ফোন ঘোরালেন রাজ্যের খাদ্যমন্ত্রী অশোক কীর্তনিয়া। মুখ্যমন্ত্রীর ‘জনতার দরবার’-এর আদলে মানুষের অভাব অভিযোগ শুনছেন তাঁর মন্ত্রীরাও। একদিকে মন্ত্রী অশোক কীর্তনিয়ার সঙ্গে দেখা করে মেয়ের অস্বাভাবিক মৃত্যুর বিচার চাইল হিঙ্গলগঞ্জের কন্যাহারা পরিবার।
আরও পড়ুন, সোশাল মিডিয়ায় মুখ্যমন্ত্রীর সম্পর্কে কুরুচিকর মন্তব্যের অভিযোগ, আটক তৃণমূল নেতা
অন্যদিকে জবরদখল করা জমি ফিরে পেতে আরেক মন্ত্রী শঙ্কর ঘোষের দরবারে হাজির হলেন সেনাকর্মী। মাফিয়া দৌরাত্ম্যের অভিযোগ পেয়ে, কদিন আগে একই ভূমিকায় দেখা গেছিল পর্যটনমন্ত্রী ও শিলিগুড়ির বিজেপি বিধায়ক শঙ্কর ঘোষকে। শিলিগুড়ির পর্যটন মন্ত্রী ও বিজেপি বিধায়ক শঙ্কর ঘোষ বলেন, ‘দেখে নেবেন না, আমাকে যেন সেকেন্ড টাইম না আসতে হয়! আমি যদি সেকেন্ড টাইম আসি সেটা কিন্তু আপনাদের পক্ষে ভাল হবে না।’এবার বিচার চাইতে আসা এক কন্যাহারা পরিবারের অভিযোগ শুনেও সরাসরি পুলিশ কর্তাকে ফোন ঘোরালেন রাজ্যের খাদ্যমন্ত্রী অশোক কীর্তনিয়া।
সরাসরি মানুষের অভাব-অভিযোগ শুনতে ‘জনতার দরবার’ কর্মসূচি শুরু করেছেন রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। উত্তরবঙ্গ থেকে দক্ষিণবঙ্গ, এবার মুখ্যমন্ত্রীর দেখানো পথেই হাঁটতে শুরু করেছেন তাঁর মন্ত্রিসভার সদস্যরা। ২৩ জুন, উত্তর ২৪ পরগনার হিঙ্গলগঞ্জের বাসিন্দা ও পেশায় নার্স এক মহিলা ও তাঁর শিশুকন্যার মৃতদেহ উদ্ধার হয়।এই ঘটনায় খুনের অভিযোগ তুলে এবং বিচার চেয়ে খাদ্যমন্ত্রীর দ্বারস্থ হয় পরিবার। মৃতার বাবা ভবতোষ সাহা বলেন,ষড়যন্ত্র করে আমার মেয়েকে মেরে ফেলে সমুদ্রে ফেলে এসেছে। OC, IC জোর করে আমাদের থেকে FIR লিখে নিয়েছে। থানা জোর করে লিখিয়ে নিয়েছে। এই অভিযোগ শোনার পরেই, পুলিশি-তদন্তের প্রাথমিক রিপোর্ট নিয়ে প্রশ্ন তোলেন খাদ্যমন্ত্রী। অশোক কীর্তনিয়া বলেন, এটা আপনারা লিখে দিয়েছেন যে মেয়ে মানসিক অবসাদে ভুগে নদীতে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন।আপনারা কী করে বুঝলেন? আপনারা পোস্টমর্টেম রিপোর্টের আগে এসব লিখে দিয়েছেন?
পুলিশকে নতুন করে FIR নেওয়ার নির্দেশ দেওয়ার পাশাপাশি পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাসও দেন মন্ত্রী।অশোক কীর্তনিয়া বলেন, পুলিশকে যেটা ন্যায্য নির্দেশ দেওয়ার সেই নির্দেশ দিলাম। কোনও রাজনৈতিক নেতার মাতব্বরিতে কোনও কেসকে যেন ভুল পথে পরিচালিত না করা হয়। অন্যদিকে সাধারণ মানুষের অভাব-অভিযোগ শুনতে ‘সরাসরি শঙ্কর’ কর্মসূচি শুরু করেছেন পর্যটনমন্ত্রী।সেখানেই এক সেনাকর্মী পৌঁছন মন্ত্রীর কাছে। তাঁর অভিযোগ, ২০১৪ সাল থেকে তাঁর প্রায় ১১ কাঠা জমি জবরদখল করে রাখা হয়েছে। থানায় FIR-এর পাশাপাশি প্রশাসনের বিভিন্ন দফতরে দৌড়াদৌড়ি করেও মেলেনি সমাধান।
শিলিগুড়ি সেনাকর্মী ও বাসিন্দা টুটুল মজুমদার বলেন, আমার জালাস নিজামতাড়া অঞ্চলের পাশেই ১৪ ডেসিমেল জমি আছে। সেই জমিটি মহম্মদ গোলাপউদ্দিন ও সাগর রায় বলে দু’জন ব্যক্তি জবরদখল করে নেয়। থানায় FIR করেছি, BLRRO-কে জানিয়েছি, BDO-কে জানিয়েছি, এখনও পর্যন্ত কোনও সুরাহা হয়নি। উনি (শঙ্কর ঘোষ) আশ্বাস দিয়েছেন যে CP স্যরের সঙ্গে দেখা করতে হবে।’ শিলিগুড়ির মন্ত্রী ও বিজেপি বিধায়ক শঙ্কর ঘোষ বলেন, থানায় FIR করেছেন এরকম কোনও FIR কপি, সব নথি-সহ যদি আমার কাছে দেয়, আইনি পদক্ষেপ শুরু করার জন্য আমি CP-র সাথে কথা বলব।’ জমি বেদখল করতে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করার আশ্বাসও দিয়েছেন মন্ত্রী।
Bankura News: রাস্তা দখল করে ক্লাব, এবার তা ভাঙতে প্রশাসনকে নির্দেশ বাঁকুড়ার বিধায়কের
