Kalyan Banerjee: ‘দিদি শুধু অভিষেক অভিষেক করলে তো প্রবলেম হয়ে যাচ্ছে আমাদের… অত্যন্ত অসম্মানজনক ভাবে আমাকে বলল…’ ফের বিস্ফোরক কল্যাণ
বিজেন্দ্র সিংহ, নয়া দিল্লি : কালীঘাট তৃণমূলের ২১ জুলাইয়ের মঞ্চে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘বাদানুবাদ’- এর ভিডিও ইতিমধ্যেই প্রকাশ্যে এসেছে। গতকাল ২১ জুলাই মঙ্গলবার কালীঘাট-তৃণমূলের একুশের জুলাইয়ের মঞ্চে তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় দীর্ঘক্ষণ ধরে ভাষণ দেওয়ায় ‘বিরক্তি প্রকাশ’ করেন তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর সেই প্রসঙ্গে ফের একবার দলনেত্রীর বিরুদ্ধে ‘ক্ষোভ’ এবং ‘অভিমান’ প্রকাশ করলেন তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, এর আগেও মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায়কে ‘আল্টিমেটাম’ দিতে দেখা গিয়েছে কল্য়াণ বন্দ্য়োপাধ্য়ায়কে।
মমতা বন্দ্যোপাধায়ের প্রতি ‘ক্ষোভ’ এবং ‘অভিমান’ কল্যাণের, কী বলেছেন তৃণমূল সাংসদ
তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, ‘দিদি শুধু অভিষেক অভিষেক করলে তো প্রবলেম হয়ে যাচ্ছে আমাদের। আমি ওই ৮০ জনের মতো, আর ২০ জনের মতো নই। মানুষও আমাকে ভালোবাসে, এটুকু মেনে নিতে হবে সবাইকে। এতে কারওর কোনও হিংসার কারণ নেই। আমার জায়গা চলে যাচ্ছে, এটা যদি কেউ ভাবে, তাহলে তার শেষ। এমনিতেও শেষ হয়ে যাচ্ছে। মানুষও জানে আমি লড়াই করি। বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াইটা আমি করব এবং দলে থেকে করব। এদের মতো আমি নই যে ৮০ জন চলে গেছে, ২০ জন চলে গেছে, দরকার হলে দলের মধ্যে ঝগড়া করে হলেও করব। আমিও কাল থেকে অনেক ফোন-মেসেজ পাচ্ছি যে, দাদা দল ছেড়ে যাবেন না। আমি কেন যাব দল ছেড়ে…’
‘২ ঘণ্টার মধ্যে তুই এই জনসভায় এসে বল…’, মদনের তোপ অভিষেককে, আর কী বললেন কামারহাটির বিধায়ক
কল্যাণ বলেছেন, ‘দিদি যখন বসল, আমি জিজ্ঞেস করলাম, আমি বলব দিদি, বললেন হ্যাঁ তুমি বলো। তা আমি বলে শেষ করেছি। কুণাল এসে দাঁড়িয়েছে। আমি শেষ করেছি। শেষ করতেও তো ২ মিনিট লাগে। মাঝে আমি বললাম, আমি আর বলছি না, ওরা এসে গেছে… সবাই বলছে আপনাকে বলতে হবে। এবার আমি যখন নামছি, তখন দিদি অত্যন্ত অসম্মানজনক ভাবে আমাকে বলল, এক ঘণ্টার উপর বক্তৃতা দিচ্ছ… ভীষণ অসম্মানজনক ভাবে। তো আমি বললাম আপনাকে এইসব কথা কে কানে দেয়? পাশে তখন অভিষেক, শোভনদেব বসে রয়েছে। কেউ তো কানের মধ্যে গুঁজেছে… আমি উঠেছি ১২টা ৫০- এ, এখন বাজে ১টা ১০… এক ঘণ্টাটা হল কোথায়? ১টা ১০-১২… তার মধ্যে তো ১০ মিনিট ওখানে চলে গেছে… না আরও অনেক বক্তা আছে… আমায় তো কেউ বলেইনি… লিস্টে তো আর কোনও বক্তার কথা কুণাল আমাকে বলেইনি। এরকম ভাবে পাবলিক হিউমিলিটি তো ভাল লাগে না দিনের পর দিন। দিদিকে এটাও বলেছি, আপনার এখানে যখন নেতা আছে, বক্তৃতা দিয়েছে, তারা একটাও গত দু-আড়াই মাসে কোথাও যায়নি। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় অত বড় লিডার… তো দু’মাস, আড়াই মাস ঘুরল না কেন? শোভনদেব চ্যাটার্জি অত বড় লিডার, ঘুরল না কেন? আমি তো ঘুরেছি সমস্ত রিস্ক নিয়ে… এটা তো মানতে হবে একটা জায়গায় এসে। দিদির যদি মনে হয় অভিষেক এসে বসে আছে কেন, এটা যদি দিদির বিরক্তির কারণ হয়, তাহলে আমাদেরকে ছেড়ে দেওয়া ভাল। শুধু অভিষেককে নিয়েই থাকুক তাহলে। বাংলার কোটি কোটি মানুষ, আর লক্ষ লক্ষ তৃণমূল কংগ্রেস কর্মীর জন্য মমতাদি নেত্রী হয়েছেন। কোনও রক্তের সম্পর্কের লোকের জন্য মমতাদি বাংলার নেত্রী হননি।’
‘বেরোতে হবে ভাই… ডিম খাই, লাঠি খাই, গালাগাল খাই, যাই খাই…’, ফের কল্যাণের নিশানায় অভিষেক
কল্যাণ বলছেন, ‘নেত্রীর সঙ্গে সম্পর্ক ভাল, নেত্রী আবার অনেকসময় দূরেও সরিয়ে দিয়েছে। নেত্রীর সুসময়ের সময় আমি দূরে। নেত্রীর দুঃখের সময় আমি কাছে। যেই নেত্রী দেখল অত ভিড় হয়েছে, সঙ্গে সঙ্গে বিরক্ত প্রকাশ শুরু করল। দিদির সেই একই থিওরি শুরু হয়ে গেল। নেত্রীর সুসময়ে ববি হাকিম, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, অরূপ বিশ্বাস, সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় – এরা সবাই আছে। নেত্রীর খারাপ সময়ে তো আমি একা রয়েছি। আর জি করের সময় দলের মধ্যে থাকা কোনও নেতা মমতাদিকে মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে সরাতে চেয়েছিল। এটা সত্য, এটা বাস্তব। সেই বাস্তবটা যদি না মানতে হয়… সেদিন আমি আর কুণাল দিদির পাশে ছিলাম, আর কেউ ছিল না।’
কল্যাণ আরও বলেছেন, ‘১২টা ৪৫- এ মেসেজ করেছি। তার ৫ মিনিট পর বসেছি… মঞ্চ থেকে নামার সময় বাদানুবাদ হয়েছে দিদির সঙ্গে, আপনারা দেখেছেন। তারপর নেমে ১টা ১৫-তে মেসেজ করেছি, আপনাদের দেখাবো না। তাহলে ১২টা ৪৫ থেকে ১টা ১৫, কতক্ষণ হল? দিদি ঘড়ি দেখালেই মেনে নেব? আমি দিদিকে ভালবাসি, শ্রদ্ধা করি, দিদির জন্য সবকিছু করতে রাজি আছি। কিন্তু দিদিকেও রিজনেবল হতে হবে। দিদির অত ঘনঘন বিরক্ত হলে হবে না। দিদি যদি মনে করে যা ইচ্ছে তাই বলবে, তা হবে না। দিদি যদি মনে করে যখন ইচ্ছে পাবলিকলি বিরক্তি দেখাতে পারি, তাও হবে না। আর দিদি যদি মনে করে অভিষেক আর ডেরেক যা বলবে, তাই হবে, তাতেও হবে না।’
