Voice of Eastern India

Madan Mitra: ‘এখন যাই, বুঝতে পারি, মুখে বলছে না, চোখে বলছে, আরেকটা চোর যাচ্ছে’, কী বলছেন মদন মিত্র ?


কৃষ্ণেন্দু অধিকারী, কলকাতা : বীরভূমে উদ্ধার হয়েছে কোটি কোটি টাকা, সোনার বিস্কুট, সোনার বার। সব মিলিয়ে মূল্য ৫০ কোটিরও বেশি। কী সাংঘাতিক পরিমাণ ‘দুর্নীতি’ হয়েছে তা স্পষ্ট। অন্যদিকে, দুর্নীতির অভিযোগ রাজ্যের আরেক বিধায়ক সদ্যই ৮ ঘণ্টা ইডি- র জেলার সম্মুখীন হয়েছেন। তিনি কামারহাটির তৃণমূল বিধায়ক মদন মিত্র (ঋতব্রত-তৃণমূল)। শুধু মদন মিত্রই নন, তাঁর স্ত্রী এবং দুই ছেলেকেও তলব করেছিল ইডি। বীরভূমে সাড়ে ২৮ কোটি নগদ টাকা এবং ১৫ কেজি সোনা (যার বেশিরভাগটাই সোনার বার ও সোনার বিস্কুট) উদ্ধার হওয়ার ঘটনায় রাজ্য-রাজনীতি সম্পর্কে কী বলছেন মদন মিত্র? 

কামারহাটির তৃণমূল বিধায়কের কথায়, ‘আমার ঘেন্না ধরে গেছে। ঘেন্না, ঘেন্না, ঘেন্না। আমি কি মানসিক ভাবে রাজনীতি ছাড়ার কথা ভাবছি? আগে যখন আমি যেতাম, বলত আমাদের দেবতা গেল, আমাদের দাদা গেল, আরে মদন মিত্র যাচ্ছে, সেলফি তুলব। এখন যখন যাই, বুঝতে পারি, মুখে বলছে না, কিন্তু চোখের মধ্যে দিয়ে বলছে, ওই দ্যাখ আরেকটা চোর গেল। কে টুলু মণ্ডল? এই যে চারদিক থেকে নাম আসছে… আমি শুভেন্দুকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। ও না এলে তো আমি জানতেই পারতাম না। শুভেন্দু এসছে বলেই জানতে পেরেছি। হতে পারে এরা এক্স তৃণমূল, বা এখন আমাদের তৃণমূল।’ 

তৃণমূল নেতার পারিবারিক সারের দোকানে কৃষি মন্ত্রীর সারপ্রাইজ ভিজিট, হাতেনাতে পাকড়াও বেআইনি কারবার 

শিবির বদল প্রসঙ্গে মদন বলছেন, ‘শিবির বদল নিয়ে মানুষের বিন্দুমাত্র আগ্রহ নেই। বরং এই যে নতুন সরকার এসেছে, মানুষ তাতে আগ্রহী। দেখি না… ১৫ বছর তো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ছিল, এই সরকার মাত্র ২ মাস এসেছে… কাজ করবে বলছে, তাদের একটা ভাল করে সুযোগ দিই… এটা কিন্তু মানুষ নজর করছে। এই সরকারও যদি দেখা যায়, আবার একই পথের পথিক হয়ে যায় তাহলে মানুষ সেটা ভালভাবে নেবে না। আমি যদি আজকে মমতার শিবির থেকে চলে আসি, জনগণের কিছু যায় আসে না। আমি যদি কাল ফিরে যাই, তাতেও জনগণের কিছু যায় আসে না। কারণ সবাই জেনে গেলে এই ভালো আর কালোর মধ্যে কিন্তু ভিতরে সব সেটিংয়ের খেলা চলছে। একদম সেটিংয়ের খেলা। এমন সেটিংয়ের খেলা, তুমি আজকে যাকে দেবে কুখ্যাত অপরাধী হিসেবে স্টেশনে স্টেশনে ছবি, কালকে দেখবে বড় সম্মানে ভূষিত করা হচ্ছে। সে গিয়ে বসে, পায়ের উপর পা দিয়ে সম্মান নিচ্ছে। আমার মনে হয় যে… আমি সত্যি কথা বলছি যে এই শিবির বদল করার পরে… আমরা কেন বদল করেছিলাম… যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের একটা ন্যূনতম দুঃখ হোক, আক্ষেপ হোক যে, কেন আমার পুরনো লোকগুলো চলে যাচ্ছে। যারা আমাকে দেখলে ভগবান বলে মনে করত, তারা কেন আমার সঙ্গে থাকছে না… তাতে দেখলাম যথা পূর্বম, তথা পরম। কোনও বদল নেই। বরং ঔদ্ধত্য দিনদিন বাড়ছে। আগে আমাদের গালাগাল দিত, এখন দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে তুই-তোকারি করে গালাগাল দিচ্ছে। দেখে নেব বলছে। এটা বাংলার সৌজন্য, অস্মিতা নয়।’ 

‘ডেথ আর বার্থ সার্টিফিকেট ছাড়া সবই দিয়ে দিয়েছি’, ED- র ৮ ঘণ্টা জেরার পর বললেন মদন মিত্র 

নিজের ভবিষ্যৎ প্রসঙ্গে মদন মিত্র বলছেন, ‘মারা যাব। পাশের বাড়ির লোকটাও মুখ বাড়িয়ে জানতে আসবে না। একটা রজনীগন্ধাও দিতে আসবে না। কারণ তুমি কী করেছ? জনগণের থেকে চুরি করেছ। আপনি চোর।’ 

Source link



Source link

Leave A Reply

Your email address will not be published.