আশাবুল হোসেন ও কৃ্ষ্ণেন্দু অধিকারী, কলকাতা : এবার বিধানসভা চত্বরে চমক দিলেন মদন মিত্র। ‘কালীঘাট-তৃণমূল’-এর কর্মসূচিতে হঠাৎ হাজির হন ‘ঋতব্রত-তৃণমূল’-এ যোগদানকারী কামারহাটির বিধায়ক। এনিয়ে মদন মিত্রকে কটাক্ষ করতে ছাড়েননি কুণাল ঘোষ। পাল্টা জবাব দিয়েছেন মদন মিত্রও।
রাজ্য় রাজনীতিতে এখন চমকের পর চমক। এবার তেমনই এক চমক দেখা গেল বিধানসভার সামনেও। বুধবার ‘ঋতব্রত-তৃণমূল’-এ নাম লেখানো মদন মিত্রকে শুক্রবারই দেখা গেল ‘কালীঘাট-তৃণমূল’-এর বিধায়কদের কর্মসূচিতে। দুই পক্ষের কথোপকথনও উস্কে দিল জল্পনা। ‘কালীঘাট তৃণমূল’-এর সদস্য ও বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষ বলেন, “মদনদা, শারীরিকভাবে (ফিজিক্যালি) হয়তো ওই দিকে গেছেন, কিন্তু মদনদাও বিশ্বাস করেন রেপিস্ট কে? মদনদার মন অন্য দিকে পড়ে আছে, কাপুরুষের মতো ED দিয়ে বৌদি আর ছেলেদেরকে নোটিস দিয়েছে, ফলে আমরা চাই, মদনদা ভাল থাকুক, ২-৪ দিন যা মন চায়, প্রাণ চায় বলুক, আমরা একুটু জেনে রাখছি, আমাদের ভেতরের একটা লোক ওদের মধ্যে রইল।”
তখন মদন মিত্র হেসে বলেন, “আমি চাই, শোভনদা (উপস্থিত শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়) আগামী ১০ বছর বিরোধিতা, বিরোধী আসনে বসুক।” তখন বারুইপুর পশ্চিম -এর বিধায়ক বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় (‘কালীঘাট তৃণমূল’) বলেন, “১০ বছর বিরোধী আসনে বসবেন না…। … সরকারি আসন এসে যাবে।” বালিগঞ্জের বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় (‘কালীঘাট তৃণমূল’) বলেন, “১০ বছর বিরোধী আসনে বসব ? এটা কী বললি? আবার আসিব ফিরে… ।” মদন মিত্র তখন বলেন, “একদম, একদম।”
স্ত্রী এবং দুই ছেলেকে ED তলব করার পরই, বুধবার বিধানসভায় ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘরে পৌঁছে গেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দীর্ঘদিনের সঙ্গী মদন মিত্র। বুধবার তিনি বলেন, “অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের যে বাড়ি এবং চারপাশে নিঃশ্বাস নেওয়া যাচ্ছিল না। এত নিয়ম কানুন, এত সবকিছু মেনে চলা পোষাচ্ছিল না।”
কিন্তু, এর ২ দিনের মধ্যেই ফের ‘কালীঘাট-তৃণমূল’ এর কর্মসূচিতে কেন ? জল্পনার আবহে ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য় করেছে দু’পক্ষই। কুণাল ঘোষ বলেন, “ED-র চিঠি গেছে, বৌদিকে এবং ছেলেদের টার্গেট করে। ওঁকে ক্য়াম্প বদল করতে হয়েছে। ভাল তো, আমাদের একজন লোক যদি ওদিকে থাকেন খবরাখবরও পাওয়া যাবে। এই বিপদটা কাটিয়ে নিন। তারপরে আবার মদনদা মদনদার খেলা শুরু করে দেবে।” অন্যদিকে, মদন মিত্র বলেন, “আজ মন চেয়েছে আমি হারিয়ে যাব। হারিয়ে যাব আমি তোমার সাথে। এখন কুণাল ঠিক আমার সঙ্গে হারাতে চাইছেন, না অন্য় কিছু করতে চাইছেন, বুঝতে পারিনি। আমার মনে হচ্ছে বোধহয় কুণালের হারাবার দিনটা খুব তাড়াতাড়ি।” কে কোনদিকে? কে কার পাশে? রহস্য থেকেই যাচ্ছে।
