New Market Fire: হোটেলের ভিতরে সরু সরু গলি, নেই পর্যাপ্ত আগুন নেভানোর ব্যবস্থা, ফায়ার এক্সিট! আগুন লেগেছে বুঝেও বেরতে পারলেন না কেউ!
কলকাতা: তারাপীঠের হোটেলের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের স্মৃতি এখনও দগদগে, আর তার মধ্যেই, খাস কলকাতার হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড। তারাপীঠের হোটেলে আগুন লেগে যে একাধিক মানুষের মৃত্যু হল, সেই ঘটনাও কি হুঁশ ফেরাতে পারল না! ঘিঞ্জি এলাকা, একই বিল্ডিংয়ে অনেক হোটেল, বেরনোর রাস্তা মাত্র একটাই! নিউ মার্কেটের হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় উঠে আসছে একাধিক ভয়াবহ তথ্য। বুধবার ভোরেই ছড়িয়ে পড়ে এই অগ্নিকাণ্ডের খবর। খাস কলকাতার মির্জা গালিব স্ট্রিটে ভয়াবহ এই ঘটনা যেন নাড়িয়ে দিয়েছে শহরবাসীকে। ঘটনাই ইতিমধ্যেই ৯ জনের মৃত্যুর খবর জানিয়েছে পুলিশ।
সরু সরু গলি, নেই ফায়ার এক্সিট.. বেরতেই পারলেন না বাসিন্দারা!
সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ঘটনা হল, এই ঘটনায় মাত্র একটি একটি বিল্ডিং পরেই রয়েছে দমকলের অফিস। সেখান থেকে একেবারে ঢিল ছোঁড়া দূরত্বে, অগ্নি নির্বাপণ ব্যবস্থাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে, কীভাবে চলছিল এই হোটেল, সেই প্রশ্নই তুলেছেন অনেকে। তবে অগ্নিকাণ্ড এতটা ভয়াবহ ছিল না যে তা গোটা বিল্ডিংকে গ্রাস করে নেবে। প্রায় প্রত্যেক তলাতেই চলত আলাদা আলাদা হোটেল। আগুন লাগে হোটেলের ৩ তলায়। চিৎকার চেঁচামেচি শুনে ঘুম ভেঙে যায় অন্যান্য আবাসিকদের। কিন্তু ধোঁয়ায় কার্যত গোটা হোটেল ঢেকে যাওয়ার পরে, বেরনোর রাস্তাই খুঁজে পাচ্ছিলেন না আবাসিকেরা। উদ্ধার হওয়ার পরে তাঁরা জানাচ্ছেন, দমকলবাহিনী না এলে, উদ্ধার হওয়া সম্ভব ছিল না।
হোটেলের সরু সরু গলি, ছোট ছোট ঘর… ছিল না কোনও এমার্জেন্টি এক্সিট.. এগুলিই মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। যেহেতু মধ্যরাতে আগুন লেগেছে, সেই কারণে অধিকাংশ বাসিন্দারাই ঘুমন্ত অবস্থায় ছিলেন। হোটেলে ছিল না কোনও অগ্নি নির্বাপণ ব্যবস্থা ফলে আগুন নেভানোর কোনও চেষ্টাই করা যায়নি। হোটেলের সরু গলি, অতি সংকীর্ণ বেরনোর রাস্তাই প্রাণঘাতী হয়ে দাঁড়িয়েছে এমনটাই মনে করা হচ্ছে। আগুন ভয়াবহ না হলেও, ধোঁয়ায় দমবন্ধ হয়ে বাসিন্দাদের মৃত্যু হয়েছে, এমনটাই মনে করা হচ্ছে। এই প্রথম নয়, কলকাতায় এর আগেও বারে বারে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে, তার পরেও কেন হুঁশ ফেরে না? দমকলের সদর দফতরের পাশেই এই বিল্ডিং যে কার্যত জতুগৃহ হয়ে রইল, সেটা এই দুর্ঘটনা ঘটার আগে আগে থেকে কেন জানাই গেল না? সেই প্রশ্নই উঠছে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায়। ইতিমধ্যেই ঘটনায় ৯ জন প্রাণ হারিয়েছেন, গুরুতর আহত ৬ জনের এখনও চিকিৎসা চলছে।
