Sonam Wangchuk: ‘এমন অবস্থা নয় যে ২-৪ দিনেই মরে যাব’, সাফ বললেন সোনম ওয়াংচুক! ছাত্রছাত্রীদের জন্য দিলেন বিশেষ বার্তা
কলকাতা: আজ ১৯ তম দিনে পড়ল, সোনম ওয়াংচুকের (Sonam Wangchuk)-এর অনশন। প্রত্যেকটা দিনের সঙ্গে সঙ্গে, শরীর-স্বাস্থ্য একটু একটু করে ভাঙছে তাঁর। এখানেই শেষ নয়, সোনম ওয়াংচুকের ১৮ তম দিনে, হাইকোর্টে আবেদন পর্যন্ত করা হয়েছে। অনশনের ১৮ তম দিনে, একজন আইনজীবী এই বিষয়টায় দিল্লি হাইকোর্টের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন এক আইনজীবী। তাঁকে হাসপাতালে স্থানান্তরিত করার জন্য ও আবেদন জানানো হয়েছে। তবে এবার, অনশন মঞ্চ থেকে বিশেষ বার্তা দিলেন সোনম ওয়াংচুক। কী বললেন তিনি?
সোনম ওয়াংচুকের তরফ থেকে বড় বার্তা
বুধবার রাতে একটি ভিডিও বার্তা পাঠিয়ে সোনম ওয়াংচুক বলেন, ‘নমস্কার আমার সাথীরা, খুব কষ্ট করে আজ আবার আপনাদের সামনে আসতে পারছি। আপনাদের তরফ থেকে হাজার হাজার বার্তা পেয়েছি, যাঁরা আমায় অনশন তুলে নেওয়ার কথা বলেছেন। কিছু খেয়ে নিই। আমার থেকে যাঁরা বয়সে বড়, অনেক নেতারা কেউ কেউ এসে আমায় আবেদন করছেন, ভালবেসে বোঝাচ্ছেন, কেউ আবার রীতিমতো বকাবকি করছেন যাতে আমি একটু খাবার খাই। আমি জানতে পেরেছি, কিছু মানুষ তো আদালতে আপিল পর্যন্ত করে ফেলেছেন যাতে সরকার আমায় জোর করে হলেও কিছু খাওয়ায়। এটা নিয়ে ২ টো কথা বলতে চাই… প্রথমত, যদি আমি কিছু খাই ও, তাতে এমন কিই বা বদলে যাবে? সরকারের কাছে কী বার্তা যাবে? সরকারের কাছে তো এই বার্তাই যাবে যে, জবাব দেওয়ার আলোচনা করার কোনও প্রয়োজনই নেই। অনশনে বসবে, আবার চলেও যাবে। দ্বিতীয়ত, আমার শারীরিক অবস্থা এতটাও খারাপ হয়ে যায়নি যে ২-৪ দিনের মধ্যেই মরে যাব। প্রচুর শারীরিক পরীক্ষা হচ্ছে আমার। ১৮ দিন অনশনের পরে যে রিপোর্ট হওয়া উচিত, সেই মতো সব স্বাভাবিকই রয়েছে। আজ ইসিজি -ও তো হল, খারাপ কিছু নেই। আমি আরও বেশ কিছুদিন অনশনটা চালিয়ে যেতে পারব। হ্যাঁ…. আমি দুর্বল হয়ে পড়েছি। আমার মাসল ক্ষয় হচ্ছে, কিন্তু শরীর আর মন, এখনও শক্ত রয়েছে। সেই কারণেই, শুধু অনশন ভাঙার আবেদন নয়, আপনাদের কাছে আমার আবেদন, আপনারাও একটা পদক্ষেপ নিন। ২০ জুলাই একটা বড় জমায়েত করুন। যত মানুষ সম্ভব আসুন। আমি তো বলব, স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় থেকেও ছাত্রছাত্রীরা আসুক, দিনটা হাতে কলমে শিক্ষার দিন হোক। ওইদিন শিশুরা রাষ্ট্রবিজ্ঞানের একটা দারুণ শিক্ষা পাবে, যেটা ইতিহাসে লেখা থাকবে। আর তার অংশ হয়ে থাকবে ওই ছাত্রছাত্রীরাও। তাঁরা শিখবেন, কীভাবে জনগণ, সাধারণ মানুষ ও লোকতন্ত্র চালাতে পারে।’
