Susmita Dev on Mamata: ‘দিদির মনটা নরম, সবাইকে ক্ষমা করে দিতেন’, বিজেপি যোগদানের প্রসঙ্গে সুস্মিতা দেবের মুখে হাইস্কুলের ডিবেটর থেকে রিল ক্যুইন
কলকাতা: ছিলেন তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ। আগেই পদত্যাগ করেছিলেন সাংসদ পদ থেকে। তারপর গত ৯ জুলাই বিজেপিতে যোগদান করলেন সুস্মিতা দেব। বিজেপিতে যোগ দিয়ে ফের রাজ্যসভার প্রার্থী হলেন কংগ্রেস আমলের মন্ত্রী সন্তোষ মোহন দেবের কন্যা সুস্মিতা দেব। তারপর তিনি জানালেন কেন তৃণমূল ছেড়েছিলেন, আর কেনই বা তিনি যোগ দিলেন বিজেপিতে।
সুস্মিতা দেব বললেন, “যেদিন আমি পদত্যাগ করলাম দিল্লিতে, সেদিন আমি বলেছিলাম, যে পরিস্থিতি তৃণমূলের ভিতরে তৈরি হয়েছে আমার মনে হয় না সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস পশ্চিমবঙ্গের বাইরে গোটা ভারতে ছড়িয়ে যেতে পারবে। রাজনীতি কী? এটা একটা মতাদর্শগত যুদ্ধ। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গ, অসম, ত্রিপুরা, ওড়িশার রেজাল্ট যদি ভাল করে দেখেন, তাহলে দেখবেন একটা মতাদর্শকে সম্পূর্ণ পরিত্যাগ করা হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের বাস্তবতা হল দুর্নীতি। রেজাল্টের পর যে সব তথ্য বেরিয়ে এসেছে, যদি আমি তার ৫০ শতাংশকেও ভুয়ো বলি, তাহলেও বুঝতে হবে মানুষ বিরক্ত হয়ে গিয়েছিল।”
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে সুস্মিতা বললেন, “দিদির মনটা নরম। সবাইকে ক্ষমা করে দিতেন। কিন্তু অত্যাচারটা কার উপর হল? ওরা কি ক্ষমা করবে? আমার মনে হয়, পশ্চিমবঙ্গের সব থেকে বড় ইস্যু ছিল দুর্নীতি। খুব কম নেতারা বলতে পারেন, প্রার্থী ম্যাটার করে না, আমাকে ভোট দিন। তো জিতলে আপনার ক্রেডিট আর হারলে দোষ আপনার নয়?”
সুস্মিতার এই দল পরিবর্তনকে তিনি নিজেই বলছেন, মতাদর্শগত ডিগবাজি। তিনি বললেন, “হ্যাঁ, আমার মতাদর্শ আমিই আমিই বদলাতে চাইছিলাম। আর এই মতাদর্শ বদলানোর বিষয়টা আমার সাংবিধানিক অধিকার। আমি দুর্নীতির সঙ্গে থাকতে চাইনি। এসএসসি দুর্নীতির সময় আপনি চুপ ছিলেন কেন? যারা এসএসসি দুর্নীতির সময় চুপ ছিল, আজ তারা নিট নিয়ে কীভাবে বলছে?”
তৃণমূলের কী অবস্থা, সেই প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে তিনি বললেন, “নেত্রী বলছে ফিরে আসুন। নেত্রীর সাঙ্গপাঙ্গরা বলছে এরা গদ্দার, এরা চোর, এরা যাওয়ায় শুদ্ধিকরণ হয়েছে। তাহলে কোনটা বিশ্বাস করব? এটা কী রহস্য, যে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, যিনি ডিসকোয়ালিফিকেশন চাইছেন, তিনি কাউকে বহিষ্কার করেননি তৃণমূল থেকে। ঋতব্রতকে তো বহিষ্কার করেছে, বাকিদের তো কি বহিষ্কার করল না তৃণমূল। ওর তো ভূপেন্দ্র যাদবের সঙ্গে বৈঠক করল। ২০ জন সংসদের বিরুদ্ধে ২০ টা আলাদা ডিসকোয়ালিফিকেশন দেওয়া হয়েছে। মানে একটা চিঠিতে ২০ জনের নাম লিখে তাদের ডিসকোয়ালিফিকেশন চাওয়া হয়নি। অভিষেকবাবু ২০ টা আলাদা আলাদা চিঠি দিয়েছে। আর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলছেন ফিরে আসেন।”
হাইস্কুল ডিবেটর আর রিল ক্যুইন বলে এদিন কটাক্ষও করেন সুস্মিতা। যদিও কাকে এই কটাক্ষ করলেন, সেটা খোলসা করলেন না তিনি। সুস্মিতা বললেন, “হাইস্কুলের ডিবেটর হওয়া একরকম। রিল ক্যুইন হওয়া ভাল। কিন্তু রাজনীতির জ্ঞান শূন্য, সেটা ক্ষতিকারক। এমনি বললাম। কোনই আইডিয়াই নেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্ট্র্যাটেজিটা কী।”
বারুইপুর এনকাউন্টার নিয়েও মুখ খুললেন সুস্মিতা দেব। তিনি বলেন, “এনকাউন্টার হয়েছে তো পশ্চিমবঙ্গে, হিউম্যান রাইটসের কথা সামনে আসছে। পশ্চিমবঙ্গের মানুষকে একটা প্রশ্ন করছি, আর জি করের সময় কলকাতা পুলিশের মাথা ফাটানো হল, একজনের চোখ নষ্ট হল। তৃণমূল এটাকে হাইলাইট করেছিল কি না? এই বারুইপুরের ঘটনায় একজন পুলিশও হাসপাতলে আছে কি না বলুন? কে দেখতে গিয়েছিল ওই পুলিশ অফিসারকে, শুভেন্দুবাবু ছাড়া।”
তিনি কোথায় কাজ করবেন, পশ্চিমবঙ্গ নাকি আসাম? সেই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমি কোথায় কাজ করব, কীভাবে কাজ করব, সেটা দলের সিদ্ধান্ত।” এ ছাড়াও শুভেন্দু অধিকারীকে দরাজ সার্টিফিকেট দিলেন সুস্মিতা। তিনি বলেন, “শুভেন্দুদার একটা জিনিসকে আমি খুবই সম্মান করি। উনি দু’রকম কথা বলেন না। উনি সোজা ব্যাটে খেলেন। শুভেন্দুদার সামনে অনেক চ্যালেঞ্জ। শিল্পায়ন, আইনশৃঙ্খলা, সিস্টেমকে ঠিক করা; এমন অনেক চ্যালেঞ্জ রয়েছে শুভেন্দুদার সামনে। উনি একজন তৃণমূল স্তরের নেতা। তাই আমি করে করি উনি পশ্চিমবঙ্গকে অন্য এক উচ্চতায় নিয়ে যাবেন।”
