কলকাতা : বিধানসভা নির্বাচনে জোর ভরাডুবি তৃণমূলের। বাংলায় এখন বিজেপি সরকার। আর সরকার গঠনের পর তৃণমূলের ১৫ বছরের শাসন কালে যে যে দুর্নীতি হয়েছে তার ফাইল খুললেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ছোটো হোক বা বড়, কোনও অপরাধেরই ক্ষমা নেই, এমনটাই জানিয়েছিলেন তিনি। সেই মতো, বাংলায় ঘটে যাওয়া অভয়া কাণ্ড, কসবা ল-কলেজ, কামদুনি সহ আরও মর্মান্তিক সব অপরাধের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি প্রয়োগ করছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী। মঙ্গলবার বিধানসভায় ভাষণ দেওয়ার সময়, সমস্ত অপরাধের কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, ‘সবার হিসাব হবে।’
মঙ্গলবার রাজ্যপালের অভিবাসনের জবাবি ভাষণ দেওয়ার সময় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বাংলায় ঘটে যাওয়া কিছু ভয়ঙ্কর ক্রাইম-এর কথা উল্লেখ করেন। বলেন, এই সব অপরাধের বিচার হবে। কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। মুখ্যমন্ত্রী জানান, ”কামদুনি থেকে কসবা ল-কলেজ, জিরো টলারেন্স। আপনার সরকার, আমাদের সরকার আরও দুটো কাজ করেছে। দুটো কমিশন তৈরি হয়েছে। ক্যাবিনেট অনুমোদন দিয়েছে। একনম্বর হল, যত মহিলাদের উপর, কন্যাদের উপর অত্যাচার হয়েছে, এক্স জাস্টিস সমাপ্তি চ্যাটার্জি ও IPS দময়ন্তী সেন, খুঁজে খুঁজে বার করবেন। আর.জি.করের বিচার হবে। অভয়ার বিচার পেতে গোটা বাংলা আমাদের জিতিয়ে এনেছে। তিনটা IPS-কে সাসপেন্ড করেছি, সন্দীপ ঘোষেদের তাড়িয়েছি, বাকি যা আছে পরিষ্কার করব।”
মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, ”তামান্নার মা বিচার পাবেন। রামপুর হাটের ওই ৬ বছরের আদিবাসী কন্যার পরিবার বিচার পাবেন। রাজগঞ্জ ও ময়নাগুড়ির ওই রাজবংশী পরিবার। কালিয়াগঞ্জে মৃত্যুঞ্জয় বর্মন সহ আমাদের যে ছাত্রীকে ধর্ষণ ও খুন হয়েছে তার বিচার আমরা দেব। হাঁসখালির পরিবার, সবাই বিচার পাবে।
কামদুনি কাণ্ড
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, দিনটি ছিল ২০১৩ সালের ৭ জুন। পশ্চিমবঙ্গের মানুষ এক নৃশংসতার সাক্ষী থেকেছিল। যা দেখে শিউরে উঠেছিল গোটা কামদুনি সহ গোটা রাজ্য। সে দিন টানা বৃষ্টিতে অন্ধকার নেমেছিল বিকেলেই। প্রতিদিনের মতই এই দিনেও ডিরোজিও কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের এক ছাত্রী পরীক্ষা সেরে বাস থেকে নেমেছিলেন। নিজের বাড়ির এলাকাতেও যে তিনি নিরাপদ নন, ভাবতে পারেননি গুনাক্ষরে। ছাতা মাথায় হেঁটে বাড়ি ফেরার পথে টেনেহিঁচড়ে পাঁচিলঘেরা জায়গাটিতে টেনে নিয়ে গণধর্ষণ ও হত্যা করা হয় তাঁকে। অনেক রাতে ৫০০ মিটার দূরে তরুণীর ব্যাগ আর ছিন্নভিন্ন দেহ মেলে। তখন থেকেই আতঙ্কের প্রহর গোনে কামদুনি। এই ঘটনায় ৯ জন অভিযুক্তের মধ্যে ৬ জনকে দোষী সাব্যস্ত করে আদালত। মূল অভিযুক্ত সাইফুল আলি, আনসার আলি ও আমিন আলিকে মৃত্যুদণ্ড এবং অপর তিনজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। কিন্তু ২০২৩ সালে কলকাতা হাইকোর্টের নিম্ন আদালত রায় পরিবর্তন করে মৃত্যুদণ্ডে সাজাপ্রাপ্ত তিনজনের মধ্যে দু’জনের সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন করে এবং অন্য একজন, অর্থাৎ আমিন আলিকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়। এরপর ক্ষোভে ফেটে পড়েন কামদুনির মানুষরা। এই ঘটনার বিচারের আসায় আজও বসে তাঁরা।
আরও পড়ুন – লক্ষ্মীর ভাণ্ডারে কীভাবে দুর্নীতি ? কোন কোন জেলায় পুরুষরা টাকা নিয়েছেন ? জানালেন মুখ্যমন্ত্রী
কসবা ল-কলেজে কাণ্ড
২০২৫ সালের ২৫ জুন কসবার সাউথ ক্যালকাটা ল কলেজে প্রথম বর্ষের এক ছাত্রীকে ক্যাম্পাসের ভেতরেই সিকিউরিটি গার্ডের রুমে আটকে রেখে গণধর্ষণ ও মারধরের ঘটনা প্রকাশ্যে আসে। নির্যাতিতাকে হকিস্টিক দিয়ে মারধর করা হয় এবং মোবাইল ফোনে ভিডিও রেকর্ড করা হয়।এই ঘটনায় গ্রেফতার করা হয়েছে ওই কলেজেরই দুই ছাত্র এবং এক প্রাক্তনীকে। এই ঘটনায় মূল অভিযুক্ত কলেজের প্রাক্তন ছাত্র ও তৃণমূল ছাত্র পরিষদের (টিএমসিপি) নেতা মনোজিৎ মিশ্রসহ মোট চারজনের বিরুদ্ধে কলকাতা পুলিশ আদালতে চার্জশিট জমা দিয়েছে।
Aroop Biswas: “আমি তৃণমূল, তৃণমূল, তৃণমূল”, আর যা বললেন অরূপ বিশ্বাস…
