কলকাতা : তৃণমূল জমানায় রাজ্যে শিক্ষা-ব্যবস্থা তলানিতে পৌঁছেছে বলে বারবার অভিযোগ উঠেছে। নিয়োগে দুর্নীতির অভিযোগে একসময় দিনের পর দিন তোলপাড় হয়েছে রাজ্যে। আন্দোলনে পথে নেমেছেন শিক্ষক-শিক্ষিকারা। পরবর্তী সময়ে চাকরিও খুইয়েছেন অনেকে। রাজ্যে ক্ষমতায় আসার পর এই ‘ভেঙে-পড়া শিক্ষা-ব্যবস্থার’ খোলনলচে বদলে ফেলার আশ্বাস দিয়েছে বিজেপি সরকার। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এক্ষেত্রে প্রথম থেকেই সক্রিয়তা দেখাচ্ছেন। আর রাজ্যে শিক্ষা-ব্যবস্থার উন্নতি ঘটাতে হলে যে বিষয়ে প্রথম ধাপেই নজর দিতে হবে তা হল বিভিন্ন স্কুলে শিক্ষক-শিক্ষিকার ঘাটতি মেটানো। সেই লক্ষ্যের কথাই এদিন সাংবাদিক বৈঠকে জানিয়ে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী। শুভেন্দু অধিকারী বললেন, “আমরা বিশ্বাস করি, বাজেটে অর্থমন্ত্রী যে ঘোষণা করেছেন, এই ১২ হাজার শিক্ষক-শিক্ষিকা নিয়োগের পরে আরও অন্তত ৩৮ হাজার…অর্থাৎ এই অর্থবর্ষে ধাপে ধাপে ৫০ হাজার শিক্ষক-শিক্ষাকর্মী, অধ্যাপক-অধ্যাপিকা অর্থাৎ শিক্ষাক্ষেত্রে নিয়োগ করতে পারব এবং অত্যন্ত পরিচ্ছন্নতার মধ্য দিয়ে। বিভিন্ন বিষয়ে শিক্ষকদের যে অভাব রয়েছে সেটা পূরণ করব।”
রাজ্যের স্কুল শিক্ষা ব্যবস্থায় প্যারা টিচারদের অবদানকে এদিনও কুর্নিশ জানান মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, “এরসঙ্গে আমরা কৃতজ্ঞ ৪২ হাজার ১৯২ জন প্যারাটিচারের প্রতি। যারা অত্যন্ত অল্প বেতনে শিক্ষকদের সমান অংশীদারিত্ব দিয়ে আমাদের ছাত্র-ছাত্রীদের পড়াচ্ছেন। এই বাজেটে তাঁদের মাসিক সাম্মানিক ৫ হাজার টাকা বৃদ্ধি করা হয়েছে। যেটা আগামী অগাস্ট মাস থেকে কার্যকর হবে।”
মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, “আমাদের বর্তমান স্থায়ী শিক্ষকদের ক্ষেত্রেও সপ্তম বেতন কমিশন তৈরি করা হয়েছে অবসরপ্রাপ্ত আইএএস নবীন প্রকাশের নেতৃত্বে। তাঁরা যতটা দ্রুত সম্ভব পে কমিশনের রিপোর্ট দাখিল করবেন। এরসঙ্গে কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে ডিএ-র যে ৪২ শতাংশ পার্থক্য ছিল, আমি ২০ শতাংশ দিতে পেরেছি। রাজ্যের অর্থনৈতিক অবস্থা ভাল নয়। ধীরে ধীরে এই গ্যাপ আমরা মেকআপ করব। আমরা অর্থ-মন্ত্রকে বলেছি যে, পুজোর মাসে ছুটি পড়ার আগে অক্টোবরের বেতনে যদি এটা যুক্ত করে দেওয়া যায়, তার প্রচেষ্টা আমরা নিয়েছি। এই বিষয়গুলো এই কারণে বললাম, শুধুমাত্র বিদ্যালয়, ছাত্র-ছাত্রী, শিক্ষক-শিক্ষিকা নয়, সকলের মিলিত প্রচেষ্টায় বিদ্যালয় পরিচালন ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা এনে আমরা সামগ্রিকভাবে শিক্ষা ব্যবস্থাকে একটি সুন্দর শিক্ষা ব্যবস্থায় পরিণত করতে চাই। আমরা উন্নয়নের দিকে নজর দিয়েছি।”
এর পাশাপাশি তিনি রাজ্যের বিভিন্ন স্কুলে পরিকাঠামোর অভাবের কথা তুলে ধরেন। সেসব সমাধানের দিকে রাজ্যের উদ্যোগের কথা জানান তিনি।
