Voice of Eastern India

Taslima Nasrin: “শুধু জয়কে অপমান নয়, ওটা আমাকেও অপমান করা…”, রবীন্দ্র সদনের ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করলেন তসলিমা নাসরিন


কলকাতা: প্রায় ১৯ বছর পর, কয়েকদিন আগেই কলকাতায় এসেছেন প্রখ্যাত বাংলাদেশি লেখিকা তসলিমা নাসরিন। এসে তিনি সবার আগে ধন্যবাদ জানিয়ে ছিলেন পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান সরকারকে। তবে, গত ১ অগস্ট তাঁর যে অনুষ্ঠান ছিল রবীন্দ্র সদনে, সেখানে অমন্ত্রিতদের তালিকায় ছিলেন আর এক কবি জয় গোস্বামী। তবে, সেখানে দর্শকশন থেকে তাঁর প্রতি কটুক্তি করা হয়। আর সেই কারণেই বেরিয়ে যেতে বাধ্য হন জয় গোস্বামী।

আরও পড়ুন: ককরোচ জনতা পার্টির আন্দোলনকে নিয়ে কী মত? তসলিমা নাসরিন বললেন, ‘…পরিণতি ভাল হয় না’

জয় গোস্বামীর অপমান, তাঁর নিজেরও অপমান, এই প্রসঙ্গে বলেন লেখিকা। তসলিমা বলেন, “জয় গোস্বামীর সঙ্গে এমন ব্যবহার, আমার খারাপ লেগেছিল। কারণ, ওটা তো শুধু জয়কে অপমান করা হয়নি, আমাকেও অপমান করা হয়েছে। কারণ, আমি তো জয়কে ডেকেছিলাম।”

জয় গোস্বামী প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে তসলিমার কথায় উঠে আসে মত প্রকাশের অধিকার ও বাক স্বাধীনতার প্রসঙ্গও। তিনি বলেন, “আমি আমার ভাষণে বাক স্বাধীনতার কথাই বলেছি। যে আমাদের ভিন্ন মত থাকতে পারে, কিন্তু সকলকে কথা বলতে দিতে হবে। কারও কথা বন্ধ করে দেওয়া ঠিক নয়। আমি তো ঠিক যে কথাটা বলেছিলাম, যাঁরা আমার কথা পছন্দ করেছিলেন, তাঁদের মধ্যেই কি তাঁরা ছিলেন যাঁরা জয় গোস্বামীকে মঞ্চে উঠতে দেননি? তাহলে তো দু রকম হয়ে গেল না? একদিকে, একজন যখন মত প্রকাশের অধিকারের পক্ষে বলছেন, তখন তোমরা তাঁকে সমর্থন করছ। কিন্তু মত প্রকাশের অধিকারের জন্য যখন বাস্তবে তিনি আর একজন কবিকে ডাকছেন, তখন তুমি তার কথা শুনতে চাইছ না। তাহলে তো আমার খারাপ লাগবেই। আমার খারাপ লেগেছে।”

কলকাতাকে বারবার প্রগতিশীলদের শহর বলেন তসলিমা নাসরিন। এদিনও তিনি সেই প্রসঙ্গ টেনে বললেন, “আশা করি এমন অবস্থা আর হবে না। কারণ, কলকাতা প্রগতিশীলদের শহর। এখানে সবাই বাক স্বাধীনতা ও মত প্রকাশের অধিকারে বিশ্বাস করেন, বলেই আমি বিশ্বাস করতে চাই। এবং, রাজনৈতিক আদর্শ ভিন্ন হতে পারে। কিন্তু সবারই তার ভিন্ন মত প্রকাশের অধিকার থাকতে হবে।”

এই ঘটনার পর কি জয় গোস্বামীর সঙ্গে কথা হয়েছে? তসলিমা জানালেন, “জয় গোস্বামীর সঙ্গে কথা হয়নি। কিন্তু আমি কথা বলব। আমি আজ বা কাল যাব তাঁর বাড়িতে কথা বলতে। ভেবেছি এমনই।”

Source link



Source link

Leave A Reply

Your email address will not be published.