TMC News: রানিগঞ্জে তৃণমূল নেতার বাড়িতে উদ্ধার সরকারি ত্রিপল, কম্বল, সন্দেশখালিতেও মিলল ত্রাণসামগ্রী
সমীরণ পাল ও কৌশিক গাঁতাইত, কলকাতা: সন্দেশখালি দু’নম্বর ব্লকের খুলনা গ্রাম পঞ্চায়েতের হাটগাছা হোস্টেলের ঘর ভর্তি ত্রিপল আমফান, বুলবুলের সরঞ্জাম মিলল। সন্দেশখালি দু’নম্বর ব্লকের খুলনা গ্রাম পঞ্চায়েতের হাটগাছা হোস্টেলের একটি ঘর বন্ধ করা ছিল সাধারণ মানুষের ত্রিপল থেকে আইলা. আমফানের ত্রাণ সামগ্রী। এই ঘটনার জেরে এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। তৃণমূল নেতারা (Trinamool Congress) তাদের ক্ষমতার বলেই সাধারণ মানুষের কে এই সামগ্রী দিতেন না বলে অভিযোগ। তবে এই সামগ্রী উদ্ধার হতেই সরকারি ত্রান না পাওয়ায় সাধারণ মানুষ বিক্ষোভ দেখায়।
এই হোস্টেলের সামনে খুলনা অঞ্চল তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি সত্যজ্যাতি সান্যাল, ও খুলনা গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান রিন্টু সান্যাল, রাজা সান্যাল, দেবজ্যোতি সান্যাল, আকাশ মন্ডল, সৌভিক দাসরা তাণ্ডব চালাত, বলে অভিযোগ। ২০২১ সালে এঁদের বিরুদ্ধে একাধিক ঘরবাড়ি ভাঙচুর মতো বিভিন্ন কার্যকলাপের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগ করা হয়েছে। এই তৃণমূল নেতারা ঘর পাইয়ে দেওয়ার নামে কাটমানি তো খেতেনই, পাশাপাশি তাদের বিরুদ্ধে জব কার্ডের দুর্নীতির অভিযোগও করেছেন এলাকার সাধারণ মানুষ।
এদিন দোষীদের গ্রেফতারের দাবিতে বিক্ষোভ দেখান সাধারণ মানুষজন। সাধারণ মানুষের তরফে প্রশাসনের কাছে দোষীদের দ্রুত গ্রেফতার করার আবেদন করা হয়েছে। হিঙ্গলগঞ্জ মণ্ডল তিনের সভাপতি বিধান মণ্ডল বলেন, ‘এলাকার সাধারণ মানুষ ক্ষুব্ধ হয়ে হোস্টেলের একটি ঘর ভর্তি ত্রানের সামগ্রী মিলে বাইরে বের করে নিয়ে এসে বিক্ষোভ দেখায়। এই তৃণমূল নেতাদের এর আগেও একাধিক দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগ রয়েছে। তাই আমি চাই প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে দোষীদের উপযুক্ত শাস্তি দিক।’
আরও পড়ুন:- ভোটের ফল বেরোনোর পর থেকে দেখা নেই নেতৃত্বের, ক্ষোভে টিটাগড় পুরসভার ছয় তৃণমূল কাউন্সিলরের ইস্তফা
অপরদিকে, রানিগঞ্জ পঞ্চায়েত সমিতির সহ সভাপতির আবাসন থেকেও প্রচুর ডিজেল, কেরোসিন, সরকারি ত্রিপল, কম্বল ও শাড়ি মিলল। খবর পেয়ে রানিগঞ্জ থানার নিমচা ফাঁড়ির পুলিশ মহম্মদ সাবির নামে এক তৃণমূল নেতার দখলে থাকা ই সি এল-র জমিতে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা একাধিক আবাসন থেকে এই সামগ্রী উদ্ধার করে । সাবির নিজেই ই সি এল কর্মী হলেও প্রায় দশ বছর ধরে এই অবৈধ কাজের সঙ্গে জড়িত বলে ছিলেন বলে স্থানীয়দের অভিযোগ । তাদের অভিযোগ ই সি এল-র গাড়ির জন্য বরাদ্দ ডিজেল ব্যবহার না করে, সাবির তা নিজে করায়ত্ত করে রাখতেন। এছাড়াও রেশন দোকান থেকে কেরোসিন এবং সরকারি ত্রিপল, কম্বল, শাড়িও নিজের বাড়িতে মজুত করে রাখতেন তিনি। পুলিশ সামগ্রীগুলি বাজেয়াপ্ত করলেও, সরকার বদলের পর থেকেই সাবির পালিয়ে যাওয়ায় তাকে ধরতে পারা যায়নি।
