কলকাতা: ক্রমশ খালি হচ্ছে ‘কালীঘাট তৃণমূল’। সেই আবহেই বড় দাবি দলের রাজ্য সম্পাদক কুণাল ঘোষের। জানালেন, NCPI-তে যাওয়া ছ’জনের বেশি বিদ্রোহী সাংসদ তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। শুধু তাই নয়, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরে যাওয়া ৩০ জনের বেশি বিধায়কের তরফেও তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন কুণাল। এমনকি মমতা বন্দ্যোরপাধ্যায়ের সঙ্গে এসে কয়েকজন কথাও বলেছেন দাবি করেছেন কুণাল। (Kunal Ghosh on Rebel MP and MLAs)
সোমবার এবিপি আনন্দকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে মুখ খোলেন কুণাল। NCPI থেকে দুই সাংসদের ফেরা নিয়ে যে জল্পনা তৈরি হয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন করলে বলেন, “এ বিষয়ে খুব একটা কিছু বলতে পারব না। কারণ দিল্লি হোক বা রাজ্য, পুলিশ-প্রশাসন, সবকিছু দিয়ে তারা দল ভাঙানোর চেষ্টা করছে। অনেকে সেই চাপটা নিতে পারছে না। ক’জন সাংসদ যাচ্ছেন, কী করবেন, তা তাঁদের বিষয়। কিন্তু আমি এটুকু বলতে পারি যে ২০ জন সাংসদ নিয়ে বিষয় রয়েছে, তাঁদের মধ্যে অন্তত ছ’জন আমাদের এদিকের সঙ্গে, অর্থাৎ যাঁরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি পূর্ণ আস্থা রেখে যাঁরা চলছেন, তাঁদের সঙ্গে পুরোদস্তুর যোগাযোগ রেখে চলেছেন।” (TMC News)
আরও পড়ুন: বিজেপি-র ৩০ বছরের দুর্গে ধস, প্রথমবার ভোটে নেমেই বাজিমাত প্রশান্ত কিশোরের, মধ্যপ্রদেশেও জোর ধাক্কা
NCPI থেকে বিদ্রোহী সাংসদদের যোগাযোগ রাখার কারণ ব্যাখ্যা করে কুণাল বলেন, “তাঁদের দু’তিনটি সমস্যা হচ্ছে। বিজেপি বিরোধী ভোট পেয়ে গিয়েছেন। ওখানে গিয়ে যে আচমকা প্রো-বিজেপি করতে হচ্ছে, তা নিজেদের এলাকায়, মানুষের কাছে, ভোটারদের কাছে গ্রহণযোগ্য হচ্ছে না। ফলে এলাকায় বিশ্বাসযোগ্যতার প্রশ্ন উঠে যাচ্ছে।”
‘ঋতব্রত শিবির’ থেকেও যোগাযোগ রাখা হচ্ছে বলে দাবি করেন কুণাল। তাঁর যুক্তি, “রাজ্যে তো পুলিশ নেমে গিয়েছে! বিধায়কদের কখনও এসপি ফোন করছেন, অমুক ফোন করছেন! এখানেও অন্তত ৩০, ৩০-এর বেশিই। আমি যেটুকু জানি। হয়ত কল্যাণদা, দোলা জানেন। আমরা জানি না, হয়ত মমতাদি জানেন। কয়েকজন ফোন করছেন, যোগাযোগ থাকছে। কয়েক জন আবার দিদির সঙ্গে দেখা করে এসেছেন। এক-একজন এক এক সময় গিয়েছেন।একজন-দু’জন তো প্রকাশ্যে গিয়েছেন! বাইরে মিডিয়ার প্রতিনিধিরা ছিলেন। এঁদের সমস্যাটা হচ্ছে, এঁরা বলছেন, পুলিশ ফোন ধরিয়ে দিয়ে বলছে, ‘আপনি এখন ওদিকে থাকুন’।”
বিদ্রোহীরা স্বেচ্ছায় নয় চাপে শিবির বদল করেছেন বলেও এদিন দাবি করেন কুণাল। তাঁর কথায়, “বালিশ শিবিরের প্রতি আকর্ষণ নেই তাঁদের। গোটাটাই হচ্ছে, বিজেপি, তাদের স্বার্থে, তাদের অঙ্কে তৃণমূলকে ভাঙাতে বা ডিস্টার্ব করতে পুলিশ-প্রশাসন দিয়ে একটা দিকে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা করছেন। কয়েক জন কেস সামলাতে, কয়েকজন গুপ্তধন সামলাতে যাচ্ছেন। তবে আমি বলছি, ওখানে ছ’জনের বেশি সাংসদ, এখানে ৩০ জনের বেশি বিধায়ক আজ বললে কালই চলে আসবেন, এমন পরিস্থিতি চলে আসেনি। কারণ পুলিশ-প্রশাসনের নিরাপত্তা তো দিতে পারব না আমরা! কিন্তু এরা কিন্তু প্র্যাক্টিক্যালি বিজেপি-র হাতে দোল খাচ্ছে। এরা এলাকায় যা-ই বলুন, NCPI, ভাল তৃণমূল…আসলে এরা বিজেপি। বিজেপি প্রোচেকশন দিয়ে দাঁড় করিয়ে রেখেছে।”
কুণালের দাবিতে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে ঋতব্রত বলেন, “যা পড়েটড়ে রয়েছে, সাংসদদেরটা জানি না। যাঁরা রয়েছেন, তাঁরা না কাল চলে যান আবার! আমি দায়িত্ব নিয়ে বলতে পারি না। তবে যেহেতু দীর্ঘদিন ওখানে ছিলামস একটা যোগাযোগ রয়েছে। NCPI-এর সদস্য নন এক সাংসদের সঙ্গে প্রায় ৪০ মিনিট কথা হয়েছে আমার। বিধায়কদেরও নজরদারিতে রাখুন।”
