Voice of Eastern India

Trinamool in Vidhan Sabha: ‘ঋতব্রত একটা…’, আক্রমণ কুণালের, ‘আসল দাবি করা তৃণমূল পালিয়ে গেল’, কটাক্ষ মুখ্যমন্ত্রীর


কলকাতা: মঙ্গলবার বিধানসভার অধিবেশনের একেবারে শেষে দেখা গেল এক নাটকীয় পরিস্থিতি। হঠাৎ হট্টগোল করে ওয়াক আউট করেন তাঁরা। অর্থাৎ, বিধানসভার মধ্যেই দেখা গেল বিরোধী বনাম বিরোধীদের একটা ছবি। তৃণমূলের দুই শিবির নিশানা করল পরস্পরকে। তারপর মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে একেবারে শেষে ওয়াকআউট করল ঋতব্রত তৃণমূল। যদিও বিধানসভায় থেকে যান কুণাল ঘোষ থেকে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের মতো ‘কালীঘাট তৃণমূল’-এর প্রতিনিধিরা।

আরও পড়ুন: বিদেশ যেতে চেয়ে আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ, অভিষেকের আর্জি ফেরাল কলকাতা হাইকোর্ট

মঙ্গলবার বিধানসভায় আলোচনা ছিল রাজ্যপালের ভাষণের উপর। বক্তব্য রাখার সময় বিজেপি সরকারকে ধন্যবাদ জানান বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, “আমি সরকারকে এই কারণে ধন্যবাদ জানাব যে আমাকে অন্তত সরকার হাউসের মধ্যে বলেনি যে ১০ অচর মুখে লিউকোপলস্ট লাগিয়ে বসে থাকতে হবে। যারা দুর্নীতি করেছে, যারা অপরাধ করেছে, তদন্ত হোক, কোনও সমস্যা নেই। কিন্তু যারা কোনও কিছু করেননি তাদের মিথ্যা মামলা কেন দেওয়া হবে?”

জবাব দিতে গিয়ে ২০২১ সালের ভোট পরবর্তী হিংসার প্রসঙ্গ টেনে আনেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন, “যে অত্যাচার আপনারা করেছে ২০২১-এ, সেটা কোনও সভ্য দেশে হয় না। আমি আপনাদের মুখে লিউকোপ্লাস্ট লাগব না। কিন্তু আমাদের দিকে আঙুল তোলার আগে আপনারা যা যা করেছেন, সেগুলো বলার পর আঙুল তুলবেন।”

আরও পড়ুন: তৃণমূলে এই বান্ধবী কালচারটা ব্যাপক ছিল, অনেকেরই বান্ধবী পালিয়েছে, সিআইডি দেখছে খুঁজে: দিলীপ ঘোষ

মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যের একেবারে শেষে হঠাৎ হট্টগোল শুরু করে ঋতব্রত তৃণমূল। ওয়েলে নেমে পড়েন তাঁরা। তাঁদের বসতে অনুরোধ করেন স্পিকারও। তারপর আচমকা ওয়াক আউট করেন তাঁরা। মুখ্যমন্ত্রীকে বলতে শোনা যায়, “পালান, পালান। শুনতে খারাপ লাগছে তো, পালান।”

যদিও অধিবেশনে থেকে যান ‘কালীঘাট তৃণমূল’-এর কুণাল ঘোষ ও শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। এই নিয়ে কটাক্ষ শোনা যায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর গলায়। তিনি বলেন, “তাহলে বুঝলেন? কালীঘাট তৃণমূল থেকে গেল, আর আসল দাবি করা তৃণমূল পালিয়ে গেল।”

ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়রা কক্ষ ছাড়ার পর তাদের বিরুদ্ধে সরব হন কুণাল ঘোষ। তিনি বলেন, “মুখ্যমন্ত্রীকে বলব, তিনি যা যা অ্যাকশন নিচ্ছেন, পূর্ণ সমর্থন করছি। কিন্তু যারা যারা হঠাৎ তৃণমূলের সঙ্গে ঝগড়া করে বাঁচার চেষ্টা করছে, তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে একটাকেও বাঁচতে দেবেন না। আপনার নারী নির্যাতন বলছেন, ঋতব্রত একটা ***।”

তখন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “আপনারা যদি ওদের বিরুদ্ধে কোনও চুরি, দুর্নীতি, ট্রিপল লুকিয়ে রাখা, অবৈধ সম্পত্তি করার কোনও তথ্য থেকে থাকে, তাহলে লিখিত ভাবে দেবে। আমরা ব্যবস্থা নেব, কথা দিলাম।”

এদিন যখন ‘ঋতব্রত তৃণমূল’ যখন ওয়েলে নেমে বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন, তখন শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় ও কুণাল ঘোষের দিকে চেয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায় ফিরহাদ হাকিমকে। শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় উঠে এসে সামনের একটি আসনে বসেন। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়রা তখন কক্ষ ছেড়ে বেরিয়ে যাচ্ছেন। ফিরহাদ হাকিমকে দেখা যায় শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে কিছু বলতে। এর মধ্যে সেখানে চলে আসেন কুণাল ঘোষ। ফিরহাদ হাকিমকেও হাত নেড়ে কিছু বলেন তিনি। তারপর কক্ষ থেকে ধীরে ধীরে বেরিয়ে যান ফিরহাদ হাকিম।

Source link



Source link

Leave A Reply

Your email address will not be published.