টানা কয়েকদিনের বৃষ্টিতে ভাসছে রাস্তা, সেতু, বাড়িঘর। জলপাইগুড়ি, বাঁকুড়া থেকে বীরভূমের বিভিন্ন এলাকায় বিপর্যস্ত জনজীবন। বন্ধ রয়েছে যান চলাচল।

কোথাও জলের তোড়ে ডুবেছে সেতু, কোথাও ঘরেই কোমর সমান জল, ভাসছে চাষের জমি, তুমুল বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত জনজীবন।জলপাইগুড়ির গড়ালবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের চন্দনিডাঙা গ্রাম,দিন কয়েকের টানা বৃষ্টিতে এভাবেই জলের তলায় চলে গেছে চাষের জমি,ঘরবাড়ি।

জলপাইগুড়িতে চন্দনিডাঙায় ভাসছে জমি, বাঁকুড়ায় জলের তলায় মানকানালি সেতু। ঝাড়গ্রামে কজওয়ের উপর দিয়ে বইছে তারাফেনি। বীরভূমে খয়রাশোলে জলের তলায় সেতু, ইলামবাজারে ডুবেছে শাল নদীর সেতু, সিউড়িতে ঝুঁকির যাতায়াত

জলপাইগুড়ি চন্দনিডাঙা বাসিন্দা সন্দীপ অধিকারী বলেন, এখানে প্রায় ২০০ ঘর জলবন্দি হয়ে আছে। রেসকিউ টিম বিকেলে এসেছিল, এসে ওরা যতটা পেরেছে উদ্ধার করেছে। আমরাও হাত লাগিয়ে উদ্ধার করেছি। সব ধান জলে শেষ।

জলপাইগুড়ির চন্দনিডাঙা বাসিন্দা সরস্বতী দাস বলেন, খুবই খারাপ অবস্থায় আছি। জলের এত বান, ভেসে যাচ্ছে। সবকিছু ভেসে যাচ্ছে। আর খাওয়াদাওয়ারও কোনও ব্যবস্থা নেই। কী করে আমরা এইভাবে থাকব বলতো? বাচ্চাগুলো না খেয়ে আছে।

বাঁকুড়ার মানকানালি সেতুও ভাসছে জলের তোড়ে। টানা বৃষ্টিতে ফুঁসছে গন্ধেশ্বরী। জলমগ্ন বিস্তীর্ণ এলাকা।বাঁকুড়া থেকে রানিগঞ্জ যাওয়ার রাজ্য সড়কে বন্ধ হয়ে গেছে যান চলাচল।বাঁকুড়ার মানকানালির বাসিন্দা মিলন ঘোষ বলেন, জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পারাপার করছে। যেকোনও সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। ওখানে মাঝে গর্ত হয়ে গেছে।

বাঁকুড়া মানকানালি বাসিন্দা অভিজিৎ কর্মকার বলেন, এখানে ব্যাঙ্ক থেকে শুরু করে, কারও শরীর খারাপ হলে এদিকে হাসপাতালের রাস্তা। প্রচুর অনেকগুলো গ্রাম আছে। প্রচুর অসুবিধা। একটু জল হলেই ব্রিজের উপরে উঠে যায়। সাইকেল যাতায়াত করবে না আর, বাস তো দূরের কথা।

টানা বৃষ্টির জেরে জলের তলায় ঝাড়গ্রামের ঢোলভাঙা কজওয়ে। বন্ধ যান চলাচল। ঝাড়গ্রামের বাসিন্দা আশিস সিং বলেন, এতো পেরনো সম্ভব নয় কোনও মতেই। আমি নিজেই ভয় পাচ্ছি, যাব না ভাবছি। ৪০ কিলোমিটার ঘুরে যেতে হবে।

ঝাড়গ্রাম বাসিন্দা তাপস চৌধুরী বলেন, স্থানীয় মানুষদের খুব অসুবিধা হয় যাতায়াতের জন্য। বারবার অভিযোগ করা সত্ত্বেও এটার কোনও ব্যবস্থা সরকার নেয়নি। আগে যে সরকার ছিল, সেই সরকার তো কোনও পদক্ষেপ নেয়নি। এখন নতুন সরকার এসেছে, দেখা যাক আমরা আশায় আছি। কী করে সরকার।

জল বেড়েছে বীরভূমের খয়রাশোলের হিংলো নদীতে। রসা ও গাংপুর গ্রামের সংযোগকারী ভাসা সেতু এখন ভাসছে। ইলামবাজারে জলের তলার শাল নদীর সেতু। কোনওরকমে ট্রাক্টরে করে চলছে ঝুঁকির পারাপার।
Published at : 07 Aug 2026 11:57 PM (IST)