Voice of Eastern India

West Bengal Live Blog: একুশে জুলাইয়ের আগে ঋতব্রত তৃণমূলে যোগ দিলেন মদন মিত্র, অভিষেকের পাশেই মমতা


কলকাতা: ২১শে জুলাইয়ের আগে আরও নিঃস্ব মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায়। এবার তাঁর হাত ছাড়লেন বহুদিনের রাজনৈতিক সঙ্গী মদন মিত্র। ‘কালীঘাট তৃণমূল’ থেকে গেলেন, ‘ঋতব্রত তৃণমূলে’র শিবিরে। বললেন, তৃণমূল কংগ্রেসে নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। আমেরিকায় ফুটবল বিশ্বকাপ হচ্ছে, আর পশ্চিমবঙ্গে রাজনীতির খেলায় প্রতি মুহূর্তে শিবির বদল চলছে!

ধরুণ হঠাৎ করে এমবাপে বললেন, ফ্রান্সের হয়ে খেলতে আর ভাল লাগছে না, মেসির সঙ্গে আর্জেন্তিনায় খেলব! তেমনই হাতে গোনা যে কয়েকজন কালীঘাটে মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায়ের সঙ্গে ছিলেন তার মধ্য়ে অন্য়তম মদন মিত্র। হঠাৎ করেই বুধবার ঘুম থেকে উঠে ঋতব্রত-তৃণমূল-এ যোগ দিলেন! মঙ্গলবার জানা গেল পুর-নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় মদন মিত্রর স্ত্রী ও দুই ছেলেকে তলব করেছে ED…বুধবার তিনি ‘কালীঘাট-তৃণমূল’ ছেড়ে ‘ঋতব্রত-তৃণমূল’-এ যোগ দিলেন। ২১শে জুলাইয়ের আগে আরও নিঃস্ব মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায়। তাঁর একদা বড় বড় প্লেয়াররা চোখের সামনে দিয়ে অন্য় দলে চলে যাচ্ছেন… আর একসময় অন্য় দল ভাঙিয়ে প্লেয়ার আনতে পটু মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায়। বসে বসে তা দেখছেন! কিন্তু করার কিছু নেই! কারণ এখন আর তাঁর হাতে ক্ষমতা নেই! পুলিশ নেই! প্রশাসন নেই! তাই এখন তিনি দেখছেন, আর অন্য়রা খেলছে! দুপুরে ঋতব্রতৃ-তৃণমূলে যোগ দিয়েই, বিকেলে, গোলপার্কে ‘ঋতব্রত-তৃণমূল’ শিবিরের বৈঠকে যোগ দেন মদন মিত্র।

মঙ্গলবার পুর নিয়োগ দুর্নীতিতে তাঁর স্ত্রী ও দুই ছেলেকে ED তলব করার দিনই ‘ঋতব্রত-তৃণমূল’ শিবিরের বিধায়ক সন্দীপন সাহার বাড়িতে গেছিলেন। আর বুধবার সকালে বিধানসভায় বিরোধী দলনেতার ঘরে গিয়ে বিদ্রোহী শিবির অর্থাৎ ‘ঋতব্রত-তৃণমূল’-এ যোগ দিলেন মদন মিত্র। আর শিবির বদল করেই একাধিক চাঞ্চল্যকর মন্তব্য করেছেন কামারহাটির বিধায়ক। 

পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় মঙ্গলবার সকালে মদন মিত্রর স্ত্রী ও দুই ছেলেকে নোটিস দেয় ED। মঙ্গলবার রাতে ‘ঋতব্রত-তৃণমূল’ শিবিরের বিধায়ক সন্দীপন সাহার বাড়িতে পৌঁছন মদন মিত্র। বুধবার যোগ দিলেন ‘ঋতব্রত-তৃণমূল’-এ। তাহলে কি কেন্দ্রীয় এজেন্সির ভয়েই হঠাৎ করে মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায়ের বহু দশকের পুরনো সঙ্গী হঠাৎ করে কালীঘাটের পাট চোকালেন! এর আগে পুর-নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় মদন মিত্রের নাম উঠে আসে। কিন্তু কেন? কেন্দ্রীয় এজেন্সির দাবি… কখনও নগদ, আবার কখনও সোনাদানা ঘুষ দিয়ে কামারহাটি ও টিটাগড় পুরসভায় চাকরি পেয়েছেন অন্তত ১২৫ জন।

ED-র তদন্তকারীদের অনুমান করোনাকালের পরে ওই পুরসভায় চাকরিপ্রার্থীদের নাম সুপারিশ করেন মদন মিত্র। সংখ্যাটা ১০০-র ওপরে। সেখানে মদন মিত্রের সুপারিশে কতজন চাকরি পেয়েছেন তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। একইসঙ্গে ED সূত্রে দাবি, মদন মিত্রের স্ত্রী ও তাঁর দুই ছেলের নামে থাকা তিনটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের মধ্যে দুটিতেই সন্দেহজনক লেনদেন লক্ষ্য করা গেছে। তদন্তকারীদের অনুমান, সেই সন্দেহজনক লেনদেন পুরসভায় চাকরি বিক্রির টাকা হতে পারে। তা খতিয়ে দেখতেই ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের যাবতীয় তথ্য নিয়ে মদন মিত্রের স্ত্রী ও দুই ছেলেকে তলব করেছে ইডি। এরপর ED সূত্রে দাবি, মঙ্গলবার পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলার তদন্তে মদন মিত্রর স্ত্রী অর্চনা মিত্র এবং তাঁর দুই ছেলে স্বরূপ মিত্র এবং শুভরূপ মিত্রকে,  ২২ ও ২৩ জুলাই, ব্যাঙ্কের নথিপত্র নিয়ে CGO কমপ্লেক্সে হাজিরা দিতে বলা হয়। 

এর আগে ১৩ জুন, এই মামলাতেই মদন মিত্রের বিভিন্ন ঠিকানায় ম্যারাথন তল্লাশি চালিয়েছিল ED.  তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদও করা হয়। এবার মদন মিত্র ঋতব্রত-তৃণমূলে যোগ দিলেন! কেন্দ্রীয় এজেন্সির চাপ? না দলের নেতৃত্বের ওপর ক্ষোভয
হঠাৎ করে মদন মিত্রের দল ছাড়ার নেপথ্যে কী কারণ? তা নিয়ে জল্পনা চলছেই। 

Source link



Source link

Leave A Reply

Your email address will not be published.