Voice of Eastern India

তারাতলা দুর্ঘটনায় শোক প্রকাশ প্রধানমন্ত্রীর, মৃতদের পরিবারকে ২ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণের ঘোষণা, ১০ লক্ষ ঘোষণা রাজ্যের


কলকাতা: তারাতলায় বন্দরের জমিতে বেহরা ব্রাদার্স-এর নির্মীয়মাণ গোডাউনে বিপর্যয়। আটকে পড়া শ্রমিকদের উদ্ধারে টানা অপারেশন পুলিশ-সেনা-দমকলের। কাঠামোর যে অংশ ভেঙে পড়েনি, তা ভেঙে পড়ার আশঙ্কায় হাইড্রলিক ক্রেন দিয়ে টেনে রাখা হয়েছে। ‘গতকাল সকাল থেকেই দুলছিল লোহার কাঠামো। কেন এমন হচ্ছে তা খতিয়ে দেখতে গোডাউনে এসে পৌঁছন শ্রমিকরা’, শ্রমিকরা ঢুকে কাঠামোর অবস্থা যখন খতিয়ে দেখছিলেন, তখন হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে ছাদ, দাবি স্থানীয়দের।

এই ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। পিএমও-র তরফে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘গতকাল কলকাতায় ঘটে যাওয়া দুর্ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। এই দুর্ঘটনায় মৃতদের নিকটাত্মীয়দের প্রধানমন্ত্রীর জাতীয় ত্রাণ তহবিল (PMNRF) থেকে মাথাপিছু ২ লক্ষ টাকা করে অনুদান দেওয়া হবে। আহতদের ৫০ হাজার টাকা করে দেওয়া হবে। ক্ষতিগ্রস্তরা যাতে সম্ভাব্য সবরকম সহায়তা পান, তা নিশ্চিত করতে রাজ্য সরকার দিন-রাত কাজ করে চলেছে’। 

এদিন বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘গতকাল তারাতলায় একটি নির্মীয়মাণ গোডাউন ভেঙে পড়েছে। মৃতদের পরিবারের পাশে থাকার অঙ্গীকার করছি। আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করছি। গতকাল দুর্ঘটনার ৩০ মিনিটের মধ্যেই উদ্ধারকাজ শুরু হয়েছে। সময় যত গিয়েছে সিভিল ডিফেন্স, NDRF, সেনা উদ্ধারে হাত লাগায়। সরকারের পক্ষ থেকে মন্ত্রী ইন্দ্রনীল খাঁ ও অগ্নিমিত্রা সারাক্ষণ আছেন। স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী চিকিৎসার ব্যবস্থা তদারকি ও সমন্বয় রেখে কাজ করছেন। আমি ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিদর্শন করে নবান্নে ফিরে আসি। হাসপাতালে গিয়ে আহতদের সঙ্গে কথা বলেছি’।

এদিকে, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘মুখ্যসচিব, পুর কমিশনার-সহ পদস্থ কর্তারা ভোর ৩টে পর্যন্ত স্পটে ছিলেন। এখনও পর্যন্ত মোট ২৯ জনকে উদ্ধার, ৯ জনকে মৃত ঘোষণা করা হয়েছে। ২০ জন আহত, তাঁদের মধ্যে গুরুতর ৪, আশঙ্কাজনক ১ জন। আমরা আহতদের চিকিৎসার সমস্ত দায়িত্ব নিচ্ছি।মৃতদের পরিবার পিছু ১০ লক্ষ টাকা আর্থিক সাহায্য। দুর্ঘটনায় আহতদের প্রত্যেককে ১ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে।’

এরপরই বিরোধী শিবিরকে লক্ষ্য করে বলা হয়, ‘এটা আপনাদের পাপের ফল। সব জায়গায় টাকা নিয়ে সিটি অফ জয়কে মৃত্যুপুরীতে পরিণত করেছেন। কোনও বিপর্যয়ে আপনারা NDRF, সেনাকে ডাকেননি। গার্ডেনরিচে বিল্ডিং ধসে ১৪ জন মারা গিয়েছিল, একজনকেও উদ্ধার করতে পারেননি। আপনার প্রাক্তন মেয়র আছে এতে, কাউকে ছাড়া হবে না। ইঞ্জিনিয়ার, অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার, এক্সিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার কাউকে ছাড়া হবে না। আমরা ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং রিপোর্ট বের করেছি, ৫ জনকে গ্রেফতার করেছি। কলকাতা কর্পোরেশনে কালি না ভরলে কোনও কাজ হয় না। ভারী বিম কাটার কোনও মেশিন রাখেননি আপনারা। আপনাদের সরকার ১৫ বছরে লোহা কাটার মেশিন পর্যন্ত কেনেননি। কেন বাংলার এই সর্বনাশ করে গিয়েছেন আপনারা। NDRF ভগবানের দূত হিসেবে কাজ করেছে’। 

Source link



Source link

Leave A Reply

Your email address will not be published.