কলকাতা : কলকাতায় গ্রেফতার আরও ১ তৃণমূল কাউন্সিলর। গ্রেফতার তৃণমূল কাউন্সিলর বাপ্পাদিত্য দাশগুপ্ত। তোলাবাজির অভিযোগে গ্রেফতার ১০১ নং ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর বাপ্পাদিত্য দাশগুপ্ত। গ্রেফতারের পর পাটুলি থানায় আনা হয়েছে বাপ্পাদিত্য দাশগুপ্তকে। তৃণমূল কাউন্সিলর বাপ্পাদিত্য দাশগুপ্তকে দেখেই চোর স্লোগান দেয় ক্ষিপ্ত জনতা, কেউ কেউ বলেন ‘বাপ্পা চোর’, ‘বাপ্পা চোর’। পাটুলি থানার বাইরে জড়ো হন সাধারণ মানুষরা। অন্যদিকে, আজ বিকেলেই এই ১০১ নং ওয়ার্ডে গ্রেফতার করা হয়েছে যুব তৃণমূল নেতা সৌরভ ঘোষকে।
পাটুলি, বৈষ্ণবঘাটা অঞ্চলের তৃণমূল কাউন্সিলর বাপ্পাদিত্যে। তাঁর বিরুদ্ধে তোলাবাজি সহ একাধিক অভিযোগ আনে স্থানীয়রা। অভিযোগের ভিত্তিতে গ্রেফতার করে পাটুলি থানার পুলিশ। প্রথমে বিজেপি করতেন বাপ্পাদিত্য। ২০১০ সালে পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের হাত ধরে তৃণমূলে যোগদান করেন। ২০১৫ সালে পুরভোটে জিতে ১১০ নম্বর ওয়ার্ড থেকে কাউন্সিলর হন তিনি। ২০২১ সালে দ্বিতীয় বারের জন্য পুরসভা নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পর তৃণমূল কাউন্সিলরদের মুখ্য সচেতক পদে ছিলেন বাপ্পাদিত্য।
আরও পড়ুন – ‘ফেরার’ সুশান্ত ঘোষ ! গ্রেফতার তৃণমূল কাউন্সিলরের গাড়ির চালক, কী কী অভিযোগ ?
উল্লেখ্য, তোলাবাজির অভিযোগে ‘ফেরার’ তৃণমূলের কাউন্সিলর সুশান্ত ঘোষ। যদিও পুলিশ গ্রেফতার করে তাঁর গাড়ির চালককে। বেলদার ওড়িশা সীমান্ত থেকে গ্রেফতার তৃণমূল কাউন্সিলরের গাড়ির চালক সুজিত চৌধুরী। অভিযোগ, কাউন্সিলরের হয়ে তোলাবাজির টাকা তুলতেন সুজিত। তোলাবাজি নিয়ে ব্যবসায়ীদের অভিযোগের ভিত্তিতে হয় FIR। মূলত, ‘রুবির মোড় থেকে বিস্তীর্ণ এলাকায় হকার স্টল থেকে চলত এই তোলাবাজি। তৃণমূল কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে ৩ কোটি টাকার তোলাবাজির অভিযোগ রয়েছে আগে থেকে। আনন্দপুর থানায় ১০৮ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলরের বিরুদ্ধেও হয় FIR। আর এই FIR-এর পর থেকেই খোঁজ নেই সুশান্ত ঘোষের।
প্রসঙ্গত, কোটি কোটি টাকা ‘তোলাবাজি’র অভিযোগে তৃণমূল কাউন্সিলর সুশান্ত ঘোষের (Sushanta Ghosh) বিরুদ্ধে দায়ের করা হয়েছিল FIR। ১০৮ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর সুশান্ত ঘোষের বিরুদ্ধে তোলাবাজির অভিযোগ আনা হয়েছিল। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই FIR রুজু করে তদন্ত শুরু করে আনন্দপুর থানার পুলিশ। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, সুশান্ত ঘোষ কিন্তু ভোট পরবর্তী সময়ে কলকাতা পুরসভায় ১২ নম্বর বরোর চেয়ারম্যান পদ ছাড়েন সুশান্ত ঘোষ। কাউন্সিলর থাকলেও, বরো চেয়ারম্যান পদ থেকে পদত্যাগ করছেন সুশান্ত ঘোষ। সুশান্ত ঘোষ যখন কাউন্সিলর বা বরো চেয়ারম্যান হিসেবে কাজ করেছেন, তখন বাংরবার গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের কথা উঠে এসেছে। সুশান্ত ঘোষ অনেক ক্ষেত্রেই গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের শিকার হয়েছেন। তাঁর ওপর গুলি চালানোর চেষ্টা। ঘনিষ্ঠ মহলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। গুলি চালানোর ঘটনায় কোনও ব্যবস্থাই নেওয়া হনি।
